প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মনজুরুল ইসলাম

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

৫২’র ভাষা আন্দোলনে ময়মনসিংহের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস

   
প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে ময়মনসিংহের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এ আন্দোলনে যে ক’জন শহীদ হয়েছেন, তাদের মধ্যে ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার অন্যতম। তিনি আমাদের প্রেরণা। শহীদ জব্বারের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ের বারুইল বাজার সংলগ্ন পাচুয়া গ্রামে। এখানেই তাঁর পৈত্রিক বাড়ি। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের নামে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘর।

সেই সাথে এখানেই নির্মিত হয়েছে গফরগাঁও উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। পাশাপাশি এলাকাবাসী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাঁর নামে একটি বেসরকারি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমানে এটি সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে।

১৯৫৬ সালে ময়মনসিংহ জেলা সদরের পৌরসভা অফিস ও জাদুঘরের সামনে চৌরাস্তা মোড়ে ত্রিভুজ আকার স্থানটির মাঝখানে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের কাছাকাছি রাজবাড়ী, গোলপুকুর পাড় সড়কের ময়মনসিংহ জাদুঘরের সামনে ত্রিকোণমুখী এই প্রথম শহীদ মিনারের স্থানটি আজো কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

দর্জি আবদুল ওয়াহাবের লেখা ‘ময়মনসিংহ অঞ্চলের ঐতিহাসিক নিদর্শন’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালে পাক-হানাদারবাহিনী প্রথম শহীদ মিনারটি ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ টাউন হলের মাঠে নির্মিত শহীদ মিনারটিই বর্তমানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে স্বীকৃত। যা প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রতিটি ক্ষণ আপামর জনসাধারণের প্রতিভূ হয়ে আছে। বাঙালির চেতনার উন্মেষের অন্যতম একটি দিন ২১ ফেব্রুয়ারি।

একদিকে দুঃখের, অন্যদিকে সুখের। যা বারবারই আমাদের রক্তে বাজায় অস্থিরতার সুর। যা তলিয়ে যাবার নয়। কারণ, স্মৃতির মিনার আমাদের হূদয়ে, শহীদ মিনার আমাদের সামনে। যা কোনদিন বিস্মৃতি হবার নয়।

দীর্ঘদিন পর প্রথম শহীদ মিনারটির ঐতিহাসিক এই স্থানটি সংরক্ষণের জন্য ও যথাযথ মূল্যায়নের জন্য বর্তমানে এ স্থানে ময়মনসিংহ পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু ব্যবস্থাপনায় ‘৫২ থেকে ‘৭১ পর্যন্ত শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয় স্মৃতি অম্লান।

তৎকালীন বাম রাজনীতিবিদ আলতাব আলীর নেতৃত্বেই মূলত ময়মনসিংহে প্রথম শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। ছাত্রনেতা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ভিপি পরবর্তীতে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম,

ময়মনসিংহের সিংহপুরুষ বলে খ্যাত মরহুম রফিকউদ্দিন ভূঞা, নন্দিত জননেতা মরহুম শামসুল হক, মরহুম মোস্তফা এম এ মতিন, কমরেড অজয় রায়, প্রয়াত সারা তৈফুর মাহমুদ, মরহুম খালেক নেওয়াজ, প্রবীণ আইনজীবী এম এ কুদ্দুস, জিয়াউদ্দিন আহাম্মেদ, আহমদ সালেকসহ প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ময়মনসিংহের কীর্তিমান নারী-পুরুষ ও ঐসময়কার সাংস্কৃতিক কর্মীরা এ শহীদ মিনার নির্মাণের সাথে জড়িত ছিল। তাদের দিবারাত্রি পরিশ্রমের ফসল এই প্রথম শহীদ মিনার।

পরবর্তীতে ময়মনসিংহের টাউন হল ময়দানের পূর্বপার্শ্বে ছোট করে তিনস্তম্ভবিশিষ্ট একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হতো।

বর্তমানে ময়মনসিংহের টাউন হল ময়দানের উত্তরপার্শ্বে বড় আকারে জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা করে। কেন্দ্রীয় এই শহীদ মিনারের পাদদেশকে বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন/রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ, সেমিনার, নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। টাউন হলের সাথেই নির্মাণ করা হয়েছে ভাষা সৈনিক মরহুম শামসুল হক মঞ্চ।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: