প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

৭০ বছর বয়সে জিন ছাড়ানোর নামে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’

   
প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, ১৩ আগস্ট ২০২০

বরিশালে জিন ছাড়ানোর নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করলো ৭০ বছর বয়সী এক ভণ্ড কবিরাজ। বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে সুখে রাখার তাবিজ দিতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটায় সেই কবিরাজ। ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত কবিরাজ শংকর দেবনাথকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরও করেন।

সেই স্কুলছাত্রীর মা জানান, বরিশাল নগরের বাজার রোড সাগর গলি এলাকার বাসিন্দা ও ভণ্ড ফকির শঙ্কর দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরীদের বিভিন্ন রোগের ঝাঁড়-ফুঁক দিয়ে আসছিলেন। যিনি সম্পর্কে তার মামা শ্বশুরও হন। তিনি জানান, তার মেয়ের জন্ডিসে আক্রান্ত। তাই তিনি শঙ্কর দেবনাথের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। শঙ্কর দেবনাথ তাদের বরিশালে আসতে বললে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে বরিশালে এসে তার বাসাতেই ওঠেন। ধর্ষিতার মা বলেন, শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টার পরে শঙ্কর দেবনাথ জানান মেয়ের শরীরে জটিল রোগ বাসা বেঁধেছে, স্বামী সংসারে সুখে থাকবে না। শরীরের রোগ এবং বিয়ের পরে সংসারে সুখি হতে হলে তাকে নাওন (গোসল) দিতে হবে এই মর্মে ফকিরের ফিকির দেওয়ার কক্ষে রাখেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি পাশের কক্ষেই ছিলাম। যেহেতু তিনি আমার মামা শ্বশুর, আর আগেও তার বাসায় আমরা আসা-যাওয়া করতাম। তাই সন্দেহের কিছু করিনি।’ পরদিন মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে মেয়ের খোঁজ নিতে শংকর দেবনাথের আস্তানায় যায় তার মা। এ সময় আগের রাতে তাকে ধর্ষণের কথা মা’কে জানায় ওই শিক্ষার্থী। এরপর তার মা কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে কথিত কবিরাজ শংকর দেবনাথকে গ্রেফতার করে।

ধর্ষণ রোধে অভিযুক্ত ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বরিশালের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। নির্যাতিতা শিক্ষার্থীকে শের-ই বাংলা মেডিকেলের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তির পাশাপাশি এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক শংকরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কথা জানান কোতয়ালী মডেল থানার ওসি।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: