প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

‌কাজে না আসলে চুলো জ্বলে না, পেট চালাতে কাজে এসেছি

   
প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ, ২৬ মার্চ ২০২০

‌‘কাজে না আসলে বাড়িতে চুলো জ্বলে না, ছেলে-মেয়ে না খেয়ে থাকে, তাই চালাতে কাজে এসেছি। করোনার ব্যাপারে আমরা জানি, এই রোগে মানুষ মারা যায় তাও জানি, একজনের হলে অন্যজনের মধ্যে ছড়ায় তাও জানি, তারপরও আমাদের কাজে আসতে হয়েছে। আমরা কাজে না আসলে না খেয়ে থাকবো, কেউ আমাদের বাড়িতে গিয়ে খাবার দিয়ে আসবে না’। এভাবেই বলছিলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের বিলে কাজ করতে আসা দিনমজুর সঞ্জিত সরকার।

দিনমজুর সঞ্জিত সরকারই নয়, ওই এলাকায় কাজ করতে আসা দিনমজুর রেণুকা সরকার, ভানু কীর্তনীয়া, শীলা দত্ত, দাউদ মোল্লা, নাছি খানম, মমতাজ বেগমসহ আরও অনেকে একই কথা বললেন।

তাদের বক্তব্য, করোনা সম্পর্কে তারা জেনেছে, আর দশ জনের কাছেও শুনেছে, চারদিকের পরিবেশ সম্পর্কেও তারা জানেন, কিন্তু, তাদের করার কিছুই নাই। পেটে মানে না, জন (কায়িক শ্রম) বিক্রি না করলে বাড়িতে হাঁড়ি জ্বলবে না, না খেয়ে মরতে হবে এ জন্যই তারা কাজে বেরিয়েছে।

তা ছাড়া তারা বছরব্যাপী যেসব মহাজনের জমিতে জন (কায়িক শ্রম) বিক্রি করে খায়, তাদের ফসল নষ্ট হচ্ছে, পরিষ্কার না করলে ফসল হবে না সেটাও তাদের দেখার দরকার আছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ওই এলাকায় অন্ত:ত দুই শতাধিক দিনমজুরকে দেখা যায় কাজ করতে। বছরের অন্য সময়ের মতোই স্বাভাবিকভাবে চলছে তাদের জীবনযাত্রা।

শুধু করপাড়ার এই বিলেই নয় জেলার সকল বিল এলাকায় দিনমজুররা কাজে ব্যস্ত। কোন আতঙ্ক ছাড়াই কোনোরূপ সচেতনতা ছাড়াই চলছে এই সব লোকের জীবন যাপন।

মরণঘাতী ভাইরাস করোনা থেকে বাঁচতে সব শ্রেণি পেশার লোকজনকে ঘরে থাকার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করেছে সরকার। করোনা প্রতিরোধে যেসব নির্দেশনা মেনে চলা উচিত তা কেবল মাত্র শহর বা বড় বড় বাজার গুলোতে মানতে দেখা গেলেও গ্রামে এর প্রভাব পড়েনি। করোনা যদি গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে তা’হলে তা মহামারি আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, আমরা জনগণকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য, ইউপি মহল্লাদাররাও গ্রামাঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে। তারপরও পুরোপুরি আমরা মানুষকে ঘরে রাখতে পারছি এমনটি নয়। তবে বৃহস্পতিবার থেকে সেনাবাহিনীও পুরোপুরি মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি যার যার অবস্থান থেকে মানুষকে সচেতন করার কাজ করার অনুরোধ জানান।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: