খায়রুল আলম রফিক

বিশেষ প্রতিনিধি

অনশনে পুরো পরিবার

এএসপির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির অভিযোগ

   
প্রকাশিত: ১:১৫ অপরাহ্ণ, ৩০ জানুয়ারি ২০২০

ঝালকাঠি পুলিশের সদর সার্কেলের এএসপি মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের প্রত্যক্ষ মদদ, তাদেরকে সহযোগীতা, মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক মুক্তিযোদ্ধা। ঝালকাঠি জেলা সদরের দক্ষিণ পিপলিতা গ্রামের মৃত হোসেন আলী খানের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম খান এ অভিযোগ করেন। বীর এই মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল খালেক ডাকুয়া ও তার লোকজন এএসপি মাহমুদ হাসানের যোগাজশে তার ভিটেমাটিসহ পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তি যাতে উদ্ধার করতে না পারেন সেজন্য এই মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারকে একের পর এক হুমকি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া করেছে চক্রটি। গত ১৪ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা চালায় আব্দুল খালেক ডাকুয়াবাহিনী। নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রতিকার চেয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিবার নিয়ে আমরণ অনশনে বসেছেন জাহাঙ্গীর আলম খান। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে আমরণ অনশনে থাকাবস্থাতেও এএসপির যোগসাজশে ডাকুয়া বাহিনী এই মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বাড়িঘর ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন। পুলিশ সহায়তার পরিবর্তে উল্টো ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম। এদিকে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার প্রতিবাদ করেন, ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিছুর রহমান মিলন। এ ঘটনায় এএসপি মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে মিলনকে একটি পুলিশের টিম ঘরের দরজা ভেঙে আটক করে। পরে মিলনের বিরুদ্ধে ৪টি মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।

বিষয়টি জানান, মিলনের পিতা দেলোয়ার হোসেন। মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এএসপি মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে আব্দুল খালেক ডাকুয়াকে বাদী বানিয়ে ৪টি মামলা দায়ের করেন। এসএসপি’র সাথে তাদের গোপন সম্পর্ক রয়েছে। আমার কাছে ঘুষ দাবি করা হয়। মামলায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আসামি করা হয়। জামিনে এসে মুক্তিযোদ্ধা তার কণ্যা এবং পরিবারের লোকজন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৩দিন যাবৎ অনশনে বসেছেন। তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করেন। এদিকে অনশনে থাকাবস্থায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উপরন্তু ডাকুয়ার নেতৃত্বে জমিদখলের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে এএসপি মাহমুদ হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম খান নামের কাউকে আমি চিনি না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: