আরমান হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

মাঠে নেমেছে বিজিবি

প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ

   
প্রকাশিত: ২:১৪ অপরাহ্ণ, ৩০ জানুয়ারি ২০২০

প্রতীকী

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) মধ্য রাতে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। কেউ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়ে বিভিন্ন আশ্বাস দিচ্ছেন। আবার কেউ মাঠে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অল্প সংখ্যক বিজিবি মাঠে টহল দিবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম বলেন, বিজিবির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকেই বিজিবির সদস্যরা মাঠে থাকবেন। শুধু তারাই নয় এদিন থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়ল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং দুইটি ওয়ার্ডের জন্য একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকছেন। আবুল কাসেম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত বারোটা পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। এরপর যদি কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালায় সেক্ষেত্রে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের সামারি ট্রায়াল করে এরপর ব্যবস্থা নেবেন।

ইসি সূত্র জানায়, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৬৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মাঠে থাকবে। তারা ভোটের আগে ও পরে মোট চারদিন দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আরো ১০ প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ থাকবে। মোট ৭৫ প্লাটুন বিজিবি থাকবে ভোটে। নির্বাচনে সব বাহিনী মিলে মোট ৫০ হাজারের মতো ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। বিধি অনুযায়ী, ভোটের ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি দুই সিটিতে ভোট রয়েছে। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একযোগে সব কেন্দ্রে ভোট চলবে ইভিএমে।

ভোটের দুই দিন আগে ৩০ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। দুই সিটি ভোটকে সামনে রেখে ‘আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন’ সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

এ নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি নিয়োগে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন করে ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন করে নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত থাকবে। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসার, বিজিবি ও র‌্যাব। নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমও থাকবে এসময়। ইভিএমের কারিগরি সহায়তায় প্রতি ভোট কেন্দ্রে ২ জন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নিয়োগ থাকবে।

মহিলা ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটাররা যাতে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদেরও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

ইসি কর্মকর্তরা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মোট সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৪টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি। এই সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। এখানে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৩১৮ টি, ও ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭ হাজার ৮৪৬ টি। দক্ষিণ সিটিতে মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ১৫০ টি, ভোটকক্ষ ৫৫৮৮ টি।

এদিকে বুধবারের প্রচারণায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের সমাবেশে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ঢাকা উত্তরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নাসির ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জাহিদুর রহমানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সমাবেশস্থলের চেয়ার ভাঙচুর হয়। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে গুলশানের শহীদ ফজলে রাব্বি পার্কের ভেতরে আয়োজিত আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচার কাজের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। গত ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ঘোষণার দিন ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুর রহমানকে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল। এরপর এ ওয়ার্ডে তাঁকে বাদ দিয়ে সমর্থন দেওয়া হয় বর্তমান কাউন্সিলর মো. নাসিরকে।

ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাব্বি পার্কে ভেতরে আতিকুল ইসলামের সমাবেশ চলছিল। এ সময় সেখানে মো. জাহিদুর রহমান ওরফে দুলাল তাঁর কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আসেন। এরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. নাছিরের কর্মী-সমর্থক ও জাহিদুর রহমানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয় শুরু হয়। এ সময় গাছের নিচে তৈরি মঞ্চে কথা বলছিলেন মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। মঞ্চে তাঁর ভাই মাইনুল ইসলাম, তিন বোন আমেনা, হালিমা, রহিমা, আতিকুলের স্ত্রী শায়লা সাগুফতা, মেয়ে বুশরা আফরীন, বোনের স্বামী ও সন্তানের উপস্থিত ছিলেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, আগামী ১ তারিখ সবাই যেন ভোটকেন্দ্রে যান। ভোট দেন। নির্বাচনে হার-জিত থাকবে। যে–ই জিতুক বা হারুক, সবাই মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশা করেন। আতিকুলের বক্তব্য শেষে সমাবেশের উত্তেজনার একপর্যায়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা চলে যান।

এরপর আতিকুল ইসলাম মঞ্চ থেকে সরে যাওয়ার পর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মারামারি, ধাক্কাধাক্কি এবং চেয়ার দিয়ে পেটানোর ঘটনাও ঘটে। পার্কের পশ্চিম কোণে আতিকুল ইসলামসহ মো. নাসিরের কর্মী-সমর্থকেরা পার্ক থেকে বের হয়ে গণসংযোগে যান। আতিকুল ইসলাম মহাখালী দক্ষিণপাড়ায় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সামনে যান। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘পার্কের ভেতর কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি অনাকাঙিক্ষত। এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয় যায় না। বিষয়টি তিনি কেন্দ্রী নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন।

অন্যদিকে ভোটারগণ যাতে কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সেই প্রাস্ততি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। বুধবার সাড়ে ১১টায় ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নর্দ্দায় নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি এ আহ্বান জানান।

তাবিথ আউয়াল বলেন, যেভাবে ভোটারদের মধ্যে সাড়া পাচ্ছি তাতে ধানের শীষের বিজয় ঠেকানো যাবে না। বিজয়ী হওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। আমরা ভোট কেন্দ্রে যাবো, আমাদের পোলিং এজেন্টরা যাবেন, প্রার্থীরা যাবেন। ভোটগ্রহণের পরিবেশ ইসিকে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কমিশন ভালোভাবেই জানে যে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ করতে গেলে কী কী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। তাই সব পরিস্থিতিতে যেন ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন তা কমিশনকেই নিশ্চিত করতে হবে।

একইসঙ্গে তাবিথ আউয়াল ভোটারদেরও প্রস্তুতি থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও আমি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি, তাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে আমার কথা শুনছেন, আমাকে অশ^স্ত করছেন।

তাবিথ আউয়াল ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, সব অবস্থায় আপনারা প্রস্তুত থাকবেন। নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। কোনো ভয়ের কিছু নেই। আপনারা ধানের শীষে ভোট দেবেন, আপনাদের অধিকার চর্চা করবেন। নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন।

ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা ও উন্নত ঢাকা এমন পাঁচটি রূপরেখা দিয়ে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেছেন, ডিএসসিসি হবে বাংলাদেশে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে থম দুর্নীতিমুক্ত সংস্থা।’ পাঁচ রূপরেখা ছাড়া ইশতেহারের অধিকাংশজুড়ে রয়েছে দক্ষিণ সিটিতে গত ১১ বছরের উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিবরণ।

বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন শেখ ফজলে নূর। এরপর সাংবাদিকদের একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কর না বাড়িয়ে দুই বছরের মধ্যে ডিএসসিসি স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে। সংস্থার টাকায় সব ব্যয় বহনের পাশাপাশি নেওয়া হবে উন্নয়ন প্রকল্প। সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নগরে ডিএসসিসির অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করা হবে।

পাঁচ দফা রূপরেখা অনুসারেই ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনা তৈরি করে বিভিন্ন মেয়াদে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অধিকাংশ প্রকল্প শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি। আগামী ১ ফেব্রুয়ারির ভোটে জয়ী হতে সবার আস্থা ও সমর্থন চান তিনি।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বলেন, এ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা বিভিন্ন জায়গায় সহযোগিতা পেয়েছি। অনেককে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখেছি। কিন্তু ওয়ারি থানার কিছু অসাধু কর্মকর্তা দলীয় ভূমিকা পালন করছে। তারই অংশ হিসেবে এ মামলাটি করা হয়েছে। ওয়ারি থানার অধীনে তিনটি ওয়ার্ডে নেতাকর্মীশূন্য করতে বিভিন্ন মামলা হামলা করা হচ্ছে। দুপুরে গোপীবাগে নিজ বাসায় তিনি সাংবাদিকদেক এসব কথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, সাংবাদিক ভাইয়েরা এ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা আশা করবো, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকবেন।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: