মাকে বাঁচাতে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীর আকুতি!

   
প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, ১১ জুন ২০২০

তানবির আলম খান, বশেমুরবিপ্রবি থেকে: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) মেধাবী শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন ভূঁইয়া। পড়ছেন ইংরেজি বিভাগের ২য় বর্ষে। নিম্নবিত্ত পরিবারের সংসার। স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণসম্পন্ন শিক্ষা বিতরণ করবেন। নিজে পরিবার ও সমাজের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু স্বপ্ন লালিত সেই দিনগুলো তাঁর মা দেখতে পারবেন কিনা, এমন শঙ্কায় আছেন তিনি। এক মরণব্যাধি ক্যানসারে ধুঁকছে মা সিরিয়া বেগম। মা’কে বাঁচাতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

মহিউদ্দিন বিডি২৪লাইভ কে জানিয়েছেন, “শুরুতে ধরে নিয়েছিলাম আমরা পারিবারিকভাবেই পারব। মা’কে প্রথমে গোপালগঞ্জ, এরপর ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সকল রকম পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে রিপোর্টের ভিত্তিতে ডাক্তার জানায় তার লিভারে একটি এবং কোলনে দুইটি টিউমার হয়েছে। টিউমার ফেটে লিভারে এবং কোলনে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে যা জরুরী ভিত্তিতে অপারেশনের প্রয়োজন ছিলো|

তিনি বিডি২৪লাইভ কে আরও জানিয়েছেন, অভাব অনটনে কাটলেও টুকটাক যা চলছিল ঢিমেতালে ভালোই চলছিল তাদের। বৃদ্ধ পিতার আয় অনেক আগেই বন্ধ। গৃহশিক্ষকতা করে মহিউদ্দিন নিজের খরচ মেটাতেন। মাঝেমধ্যে পরিবারেও অর্থের যোগান দিতেন। কিন্তু মহামারী করোনা এখানে বিপত্তি ঘটাল। লকডাউনে দুই ভাইয়ের সামান্য ছোট ব্যাবসাটাও বন্ধ, নিজের টিউশনিও বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে অর্থাভাবে বন্ধ মায়ের চিকিৎসাও।

তাঁর সহপাঠীরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে একটি লেখা শেয়ার করেছেন। বন্ধুরা ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানায়, “তাঁর পরিবার অপারেশন ফি, প্যাথলজি ও ওষুধ বাবদ মোট চার লক্ষ টাকার অধিক দিয়ে অপারেশন করিয়েছে।

মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, “রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আল-মানার হাসপাতালে অপারেশন হয়। অপারেশনের পর কেমোথেরাপি জরুরী হয়ে পড়েছে। ডাক্তার জানায় কেমোথেরাপি দিতে হবে।”

প্রতিটি কেমোথেরাপিতে সব মিলিয়ে খরচ হবে ৩০ হাজার টাকা, ১১ দিন পরপর যাঁর মোট ৮ টি কেমোথেরাপি লাগবে বলে আল-মানার হাসপাতালের ডাক্তার সাইফুদ্দিন দেওয়ানের বরাত দিয়ে মহিউদ্দিন জানান। গত ২২ এপ্রিল ছিল ২য় কেমোথেরাপি দেওয়ার তারিখ। পরপর তিনটি তারিখে কেমোথেরাপি দিতে না পারায়, মায়ের অবস্থা বেশি ভালো যাচ্ছেনা। বন্ধুদের যোগাড় করে দেওয়া অর্থে গত ৮ ও ৯ জুন ২য় কেমো দিয়েছেন। দুশ্চিন্তায় আছেন পারবর্তী কেমোর অর্থ নিয়ে। আবারো সময়মত কেমো দিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে। তবে আশাবাদী তিনি, মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায় এমন দৃষ্টান্ত তো করোনার মহামারীতেই দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে তাঁর বন্ধুরা মানবিক আবেদন জানিয়ে লিখেছেন, “আমাদের বন্ধু মহিউদ্দিন এখন না পারছে মায়ের কেমোথেরাপি দিতে আর না পারছে চোখের সামনে মাকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেওয়ার সাক্ষী হতে। এমতাবস্থায় আপনাদের দোয়া ও আর্থিক সহযোগিতায় হয়তো সে তার মাকে সুস্থভাবে ফিরে পাবে।”

কাওসার/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: