কম্পিউটার চুরির রহস্য যেভাবে উদঘাটন করলো পুলিশ

   
প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, ১৬ আগস্ট ২০২০

ছবি: প্রতিনিধি

তানবির আলম খান, বশেমুরবিপ্রবি থেকে: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ কম্পিউটার চুরির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ৭ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক মেধাবী ছাত্র ও এক যুবলীগনেতা। রবিবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান তাঁর নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার সাইদুর বলেন, গ্রেফতারকৃতরা গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা চুরির ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এছাড়া এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কারো কারো নাম বলেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে অন্যদের নাম এখুনি প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, গত ২৬ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের জানালা ভেঙে ৪৯টি কম্পিউটার চুরি করা হয়। সেগুলো নিয়ে রাখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে। পরে একটি ট্রাকে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। এবং যুবলীগ নেতা পলাশ শরীফের মালিকানাধীন ঢাকার মাহাখালীর ক্রিস্টাল ইন হোটেল নামক আবাসিক হোটেলে রাখা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে বশেমুরবিপ্রবির সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন লাইব্রেরি সংশ্লিষ্টরা লাইব্রেরিতে ঢোকার পর চুরির ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। এই ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। মামলার পর ঢাকার বনানীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে ৩৪ টি কম্পিউটার উদ্ধার হয়। গ্রেফতার হয়েছে সর্বমোট ৭ জন। বাকী সংশ্লিষ্টদেরও ছাড় দেওয়া হবেনা বলে জানায় পুলিশ। এর আগেও কয়েক দফায় সবমিলিয়ে শতাধিক কম্পিউটার চুরির ঘটনা বশেমুরবিপ্রবিতে ঘটেছে। সর্বশেষ চুরি হওয়া ৪৯ কম্পিউটারের মধ্যে এখনো উদ্ধার হয়নি বাকী ১৫টি। সেগুলোও উদ্ধারে কাজ চলছে বলে জানায় পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৭ জন হলেন, কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ইন্দ্রাকচর গ্রামের মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (৪৫) ও ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার চুরখাই গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে হুমায়ুন কবির (২৪), বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের বিল্লাল শরীফের ছেলে মাসরুল ইসলাম পনি শরীফ (২৩), একই উপজেলার বরফা গ্রামের আবুল হোসেন শেখের ছেলে আ. রহমান সৌরভ শেখ (১৯), আইয়ুব শেখের ছেলে হাসিবুর রহমান (শান্ত) (১৯), কামাল পাশা মিনার ছেলে নাইম উদ্দিন (১৯), ও মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বিশমপুরদী গ্রামের সালাম হাওলাদার ছেলে নাজমুল হাসান (১৯)।

কাওসার/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: