বশেমুরবিপ্রবির কম্পিউটার চুরির তদন্তে বাধা, হুমকির অভিযোগ

   
প্রকাশিত: ১১:২৮ অপরাহ্ণ, ২৪ আগস্ট ২০২০

ছবি: প্রতিনিধি

আশরাফুল আলম, বশেমুরবিপ্রবি থেকে: গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ঈদুল আজহার ছুটিতে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ৪৯টি কম্পিউটার চুরির যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেছেন সহকারী রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম হিরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কমিটি বিডি২৪লাইভকে জানায়, গত ১৮আগস্ট সহকারী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার ফলে এবং তদন্ত কমিটির কার্যক্রমকে সকল প্রশ্নের উর্ধ্বে রাখতে অপর ছয় সদস্যের মতামতের ভিত্তিতেই সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলামকে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ আগস্ট নজরুল ইসলাম তাঁর অব্যহতিপত্র গ্রহণ করে তদন্ত কমিটির প্রধানকে লিখিতভাবে তাকে অব্যাহতির কারণ জানাতে বলেন। এসময় তদন্ত কমিটি প্রধান জানান তিনি লিখিতভাবে কারণ জানাতে বাধ্য নন। এর প্রেক্ষিতে মোঃ নজরুল ইসলাম তদন্ত কমিটির সভাপতিসহ তদন্ত কমিটিকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করেন। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির পাঁচ সদস্য মোঃ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বশেমুরবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

হুমকির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে নজরুল ইসলাম বলেন, আমি তদন্ত কমিটির কাউকে কখনোই হুমকি দেয়নি। বরং কম্পিউটার চোর ধরার ক্ষেত্রে আমি সবচেয়ে সক্রিয় থেকে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার পরও আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে৷ চোর ধরাকে বিঘ্নিত করতেই এমনটি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির ব্যক্তিদের মধ্যকার আলোচনার দুটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েলে সেখানে একটিতে দেখা যায় সহকারী রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম হিরা তদন্ত কমিটি প্রধান মোঃ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, বশেমুরবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ড. মোঃ নূরউদ্দিন আহমেদ, বশেমুরবিপ্রবির প্রক্টর এবং তদন্ত কমিটির সদস্য ড. রাজিউর রহমানের সাথে কথা বলছেন এবং সেখানে নজরুল ইসলাম তাকে অব্যাহতি দেয়া প্রসঙ্গে তাদের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলাসহ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন।

অপর ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.রাজিউর রহমান চিঠির একটি বিষয় নিয়ে কথা বলার সময়ে রেজিস্ট্রার ড.নূরউদ্দিন আহমেদ অন্যভাবে কথা বললে প্রক্টর রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘স্যার আপনি বেশি কথা বলেন’

তবে এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘প্রক্টর আমাকে হুমকি প্রদান করেননি তবে প্রক্টরের এমন আচরণ আমার খারাপ লেগেছে এবং উপাচার্যকে শুধুমাত্র খারাপ লাগার বিষয়টি অবহিত করেছি।’ তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে উপাচার্য বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন।

ভিডিওটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদকে হুমকি দিয়েছেন এবং রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের নিকট আবেদন করেছেন।

ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে হলে ড. রাজিউর রহমান বলেন, ‘রেজিস্ট্রার স্যার আমার পিতৃতুল্য, আমি তাকে অত্যন্ত সম্মান করি এবং তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কোনো কথা বলিনি। তবে আমাদের তদন্ত কমিটির মিটংয়ের প্রয়োজন ছিলো কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে আলাপকালে স্যার আলোচনা দীর্ঘায়িত করছিলেন একারণে কথাটি বলেছিলাম।’

প্রসঙ্গত, ঈদের ছুটিতে বশেমুরবিপ্রবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে ৪৯ টি কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটলে পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর মহাখালী এলাকার ক্রিস্টাল ইন রেস্তোরায় গোপালগঞ্জ ও ঢাকার বানানী থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩৪ টি কম্পিউটার উদ্ধার করে এবং ২ জনকে গ্রেফতার করেন।জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই মোঃ নজরুল ইসলাম অভিযুক্ত পনিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করেছেন এবং পনিকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন মোঃ নজরুল ইসলাম পনির সাথে রেস্তোরায় উপস্থিত ছিলেন।। চুরির এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থী পনি সহ ৭জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কাওসার/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: