কম্পিটার চুরি, এবার বশেমুরবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এর বিবৃতি

   
প্রকাশিত: ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ, ২ সেপ্টেম্বর ২০২০

তানবির আলম খান, বশেমুরবিপ্রবি থেকে: এবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ৪৯ কম্পিটার চুরি সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ মিয়া স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিপত্র গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা। বিবৃতিতে হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলা হয়, ‘শিক্ষক সমিতির বিবৃতির কিছু কথা সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী। কিন্তু কিছু কথা শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট করবে।’ কম্পিটার চুরির ঘটনায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

এক সহকারী রেজিস্ট্রার ‘দেখে নেওয়ার হুমকি’ দিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষকের এমন লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার (৩০ শে আগস্ট) নিন্দা ও তদন্ত দাবী করে শিক্ষক সমিতি বিবৃতি দেয়। যদিও শিক্ষক সমিতি দেখে নেওয়ার হুমকির ঘটনা নিশ্চিত নয় এবং এই ঘটনা প্রমাণের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার বলে সাংবাদিকদের জানান সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম। এই বিবৃতির পরই একটি বিবৃতি দেয় কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সংগঠনটি।

শিক্ষক সমিতির কর্তৃক সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কোন বক্তব্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিলো। এই বিষয়টিকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এর বিবৃতিতে। এছাড়াও সহকারী রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রক্টর ড. রাজিউর রহমানের সাধারণ ডায়েরী (জিডি) আদালতের অনুমতিতে তদন্তাধীন উল্লেখ করে বলা হয়, ‘আদালতের তদন্তাধীন বিষয় নিষ্পত্তির আগে বিবৃতি প্রদান সমীচীন নয়।’

গত ২৬ জুলাই বশেমুরবিপ্রবির গ্রন্থাগার থেকে ৪৯ কম্পিউটার চুরির সাথে পনি নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একছাত্র জড়িত ছিলো। ঐ ছাত্রকে ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলো সহকারী রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম। ছাত্র প্রবেশের অনুমতি ও সপ্তাখানেক পরেই চুরি, দুটি ঘটনা আলাদা দাবী করেন ঐ কর্মকর্তা। এছাড়াও উপাচার্যকে অবহিত করে, উপাচার্যের নির্দেশেই সহঃ রেজিস্ট্রার চুরির সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র পনিকে গ্রেফতার করিয়ে দিতে রেস্টুরেন্টে উপস্থিত ছিলো বলে তিনি জানান।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি থেকে সহকারী রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সহঃরেজিস্ট্রার কারণ জানতে চান। তখন তাদের মধ্যে যুক্তি চালাচালি হয়। তদন্ত কমিটির ৬ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হলেও, অব্যাহতি সম্পর্কে অবহিত ছিলোনা কমিটির সভাপতি ও কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী আরেক সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চুরির ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মূলহোতাকে গ্রেফতার দাবী করে মানববন্ধন করেছে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: