মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

একান্ত সাক্ষাৎকারে শামসুজ্জামান দুদু

সরকার পরিবর্তন: দুই পদ্ধতিতে এগোচ্ছে বিএনপি

   
প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, ৫ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ফটো

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা, মধ্যবর্তী নির্বাচন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দলের হাইকমান্ডে পরিবর্তন এবং বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানান বিষয় নিয়ে বিডি২৪লাইভের সাথে একান্তে কথা বলেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। টেলিফোনে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার মো. ইলিয়াস।

বিডি২৪লাইভ: চিকিৎসার জন্য দুই বারে মোট এক বছরের জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য মুক্তি পেলেও খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে বা দেশের বাইরে কোথাও হচ্ছে না। তাহলে তার চিকিৎসা নিয়ে কি ভাবছে বিএনপি?
শামসুজ্জামান দুদু: করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের অবস্থা যেমন রয়েছে, তেমনি ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও নেই। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনীতি নাই। একটা দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থাকলে দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো দেশে যে সুবিধাগুলো ভোগ করে, সেগুলো এখন অনুপস্থিত। দেশে গণতন্ত্র নেই, নির্বাচন নেই, আইনের শাসন নেই। এমন একটা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে একটি মিথ্যা মামলায় গায়ের জোরে সাজা দেওয়া হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বন্দি জীবন যাপন করছেন। জেল এবং বাড়ির মধ্যে এই বন্দিত্বের খুব বেশি পার্থক্য নেই। আগে কারাগারে ছিলেন এখন গৃহবন্দী আছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ কর্মী সমর্থক এবং সাধারণ জনগণ যে সুবিধা ভোগ করে থাকেন সেটি এখন নেই। তার তো (খালেদা জিয়া) সাজাই হওয়ার কথা না, জেলে যাওয়ার কথা না, মামলাও হওয়ার কথা না। তিনি যে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাবেন সরকার সেই সুবিধা দিচ্ছে না। স্বাভাবিক কারণেই তিনি যেতে পারছেন না।

বিডি২৪লাইভ: খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য দলের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কোন আবেদন করবে, নাকি আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করবে?
শামসুজ্জামান দুদু: সরকারের কাছে দলগতভাবে আবেদন করা হয়নি। তিনি কারাগার থেকে বাড়িতে আছেন তার পারিবারিক আবেদনের প্রেক্ষিতে। আমরা সবসময় মনে করি অন্যায় বিধি ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্ত হতে পারেন এবং তিনি স্বাভাবিক জীবনে আসতে পারেন। আলাপ-আলোচনা হচ্ছে কি করা যায়। কি ভাবে আগানো যায়। কোন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। আমরা মনে করি তাকে যদি মুক্ত জীবনে আনতে হয় তাহলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সেটা সম্ভব।

বিডি২৪লাইভ: মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য বিএনপি আন্দোলনে যাবে কি?
শামসুজ্জামান দুদু: করোনা পরিস্থিতির কারণে যেহেতু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক না, সেহেতু স্বাভাবিক আলোচনাও নেই। আমরা পূর্বে নির্বাচন বয়কট করেছি। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন ভালো নির্বাচন হবে না সেটাও আমরা বলেছি, কিন্তু বিশেষ কারণে আমরা উপনির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছি। এই সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং এই প্রশাসনের অধীনে আমরা মনে করি না ভালো কিছু অর্জন করা যাবে। নির্বাচনকে আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিচ্ছি। যাতে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগণের কাছে যেতে পারি। সে কারণে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।

বিডি২৪লাইভ: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে?
শামসুজ্জামান দুদু: আমার কাছে মনে হয় গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে স্বৈরাতান্ত্রিক অপশক্তির বিরুদ্ধে যদি আন্দোলন করতে হয় বা পরিবর্তন করতে হয়। তাহলে দুটো পদ্ধতি রয়েছে। একটি হচ্ছে নির্বাচনের মাধ্যমে, যত খারাপ নির্বাচনই হোক না কেন সে নির্বাচনে জনগণের জোয়ারের মাধ্যমে একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। আরেকটি হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি সরকারের পতন ঘটানো। দুটি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং সাংবিধানিক ভাবে মানুষের সে অধিকার আছে। বিএনপি মনে করে এই দুটি পথকে ব্যবহার করে একটি পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। অতীতেও তাই হয়েছে। আর সংসদ নির্বাচন তো অনেক পরে। আর এখন যেই সংসদ রয়েছে তাকে তো আর সংসদ বলা যাবে না। এটা গায়ের জোরে সংসদ, ভোটারবিহীন সংসদ, মধ্যরাতের সংসদ। এই সরকার মধ্যরাতের সরকার।

বিডি২৪লাইভ: বিএনপির দাবি দেশের ৮০ শতাংশ জনগণ তাদের সাথেই রয়েছে। তাহলে রাজপথের আন্দোলনে আপনাদেরকে দেখা যায় না কেন?
শামসুজ্জামান দুদু: বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দেশে যত আন্দোলন হয়েছে সকল আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির নেতৃত্বে হয়েছে। এরশাদের সামরিক শাসন জারি হওয়ার পরে আওয়ামী লীগ তাকে সমর্থন করেছে। নয় বছর টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা রয়েছে। তেমন মইন ইউ আহমেদ-ফখরুদ্দীনের সরকারকেও তাদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরশাদ এবং মইন ইউ আহমেদ সরকারকে বিএনপি কখনোই সমর্থন দেয়নি বরং তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। সব সময় মাঠে রয়েছে এবং আপোষহীন নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে দেশবাসী মর্যাদা দিয়েছে। অন্য কোন নেত্রীকে কিন্তু আপোষহীন বলা হয় না। বিএনপি যতবার ক্ষমতায় গেছে তা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গিয়েছেন। তাই মাঠে-ঘাটে না, অলিতে-গলিতে সব জায়গায় বিএনপি রয়েছে।

বিডি২৪লাইভ: বিএনপির হাইকমান্ডে পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদি নতুন নেতৃত্ব আসে সেখানে কি তারুণ্যের নেতৃত্ব দেখা যাবে?
শামসুজ্জামান দুদু: বেগম খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন তিনি বন্দি রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। একজন প্রবীণ আর একজন নবীন। নবীন-প্রবীণ নেতৃত্বের মাধ্যমেই বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিএনপি সব সময় উদ্যোগী উচ্ছ্বাসপূর্ণ এবং তারণ্য নির্ভর ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব দিয়েছে। আগামী দিনেও নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে বিএনপি এগিয়ে যাবে। এটাই আমার বিশ্বাস।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: