শাহিনুর রহমান শাহিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

তুচ্ছ ঘটনার জেরে জাবি ছাত্রের বহিষ্কার চায় কর্মচারী ইউনিয়ন

   
প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, ১৫ নভেম্বর ২০২০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে এক ছাত্রের বিরুদ্ধ দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মীকে মারধরের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কর্মচারীরা। সেই সাথে অভিযুক্ত ছাত্রকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে কর্মচারী ইউনিয়ন।

রবিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে কর্মচারী ইউনিয়নের এক কেবিনেট সভায় সকল সদস্যের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে সকাল সাড়ে দশটার দিকে পরিবহন চত্ত্বর থেকে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে অর্ধশত কর্মচারী অংশগ্রহণ করে।

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. শরীফ মিয়া বলেন, “দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর কোনোভাবেই কাম্য নয়। অভিযুক্ত ঐ ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।”

মারধরকারী ওই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪৬ ব্যাচের মির্জা সোহাগ। তিনি শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। অপরদিকে মারধরের শিকার নিরাপত্তা কর্মী হলেন আমিনুর রহমান।

এদিকে মারধরের শিকার নিরাপত্তাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরারবর দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, ‘প্রধান ফটকে দায়িত্বরত অবস্থায় বহিরাগত এক মেয়ে এসে আমার হাতে একটা ফোন ধরিয়ে দেয়। আমি তাকে সালাম দিলে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় উনাকে (বহিরাগত মেয়ে) ভিতরে যেতে দিতে। এ সময় আমি বলি বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ আছে। তাই আমাদের সজল স্যারকে ফোন দিতে বলি। কিন্তু তিনি আমাকে হুমকি দিয়ে ফোন রেখে দেন। পরে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে এসে আমাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে আমি ভয়ে রুমের ভিতরে ঢুকে যাই। কিন্তু তিনি আমাকে রুমের ভিতর থেকে বের করে এনেও মারতে থাকেন।’

এ বিষয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজা বলেন, “আমি তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হতে দেখেছি। তবে মারামারির কোনো ঘটনা দেখিনি। সে যখন মারতে যাচ্ছিলো তার বন্ধুরা টেনে ধরেছিলো। আমি শিক্ষক পরিচয়ে কথা বললে ছেলেটি ক্ষমা চায় এবং চলে যায়।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্র সোহাগ বলেন, “তাকে আমি আমার বান্ধবীকে ভিতরে ঢুকতে দিতে বললে সে ঢুকতে দেয় নাই। তাই সেখানে গিয়ে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তার সাথে আমি বাকবিতান্ডায় পড়ি। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, “বন্ধ ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ করানোর জন্য ওই ছাত্র যা করেছে তা ছাত্র শৃঙ্খলা বিধির পরিপন্থী। আমরা আজকের ভিতরেই তদন্ত রিপোর্ট প্রদান জমা দিবো। সম্ভব হলে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: