মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

করোনায় ল্যাপটপ-কম্পিউটারের চাহিদা ও দাম বেড়েছে

   
প্রকাশিত: ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, ২৬ নভেম্বর ২০২০

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে থমকে গেছে বিশ্ব। বন্ধ হয়ে গেছে সব রকম স্বাভাবিক কার্যক্রম। করোনাকালে অনলাইনই হচ্ছে মানুষের একমাত্র ভরসা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস হচ্ছে অনলাইনে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মিটিং হচ্ছে অনলাইনে। অফিসিয়াল অনেক কার্যক্রমও চলছে অনলাইনে। তাই চাহিদাও বেড়েছে প্রযুক্তি পণ্যের। সেই সঙ্গে বেড়েছে এসবের দামও। ডিলার ও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আমদানিকারক ও পরিবেশকরা পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। জানা গেছে, পণ্য সংকটের শীর্ষে রয়েছে ল্যাপটপ, মনিটর, মাদারবোর্ড, গ্রাফিকস কার্ড, রাউটার, মডেম, ওয়েবক্যাম, হেডফোন ইত্যাদি। এসব পণ্যের বিক্রি বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

বাজারে পণ্যের সংকট থাকার কারণে ক্রেতারা তাদের তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাচ্ছেন না। ক্রেতারা তাদের পছন্দের পণ্য না পেয়ে সংকটের কারণে হাতের কাছে যা পাচ্ছেন তাই কিনছেন।

দেশের বড় কম্পিউটার পণ্য সামগ্রী ও সেবার মার্কেট রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটি দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। দোকানিদের কেউ বলছেন, করোনার কারণে প্রযুক্তি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে, সেই তুলনায় ক্রেতাদের পণ্য দেওয়া যাচ্ছে না।

দীর্ঘদিন পণ্য আমদানি বন্ধ ছিল। এ কারণে প্রযুক্তি পণ্যের সংকট চলছে। তিনি মনে করেন, অন্যান্য ব্যবসায়ের তুলনায় দেশের প্রযুক্তি পণ্যের বাজার ভালো ছিল। এই মার্কেট একদম অচল হয়ে যায়নি।

কম্পিউটার সিটির ড্যাফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেড এর ম্যানেজার সেলস গোলাম রাব্বানী বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘করোনা পরবর্তী সময়ে যদিও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিমশিম খাচ্ছে কিন্তু আইটি সেক্টর পুরোই ভিন্ন চিত্র। তিনি মনে করেন, অন্যান্য ব্যবসায়ের তুলনায় দেশের প্রযুক্তি পণ্যের বাজার ভালো ছিল। কাস্টমারদের চাহিদা অনেক বেশি হলেও প্রোডাক্ট সাপ্লাই খুবই কম থাকায় দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

গোলাম রাব্বানী বলেন, যে মানুষ জীবনে কখনো ল্যাপটপ ধরেনি তাকেও চাকরি বাঁচানোর জন্য এবং বেতন পাওয়ার জন্য ল্যাপটপ কিনতে হচ্ছে। করোনার জন্য আইটি সেক্টরে মানুষ বেশি ঝুঁকে পড়েছে। যে পরিমাণ প্রোডাক্ট আমদানি করা যাচ্ছে তার থেকে চাহিদা তিন থেকে চার গুণ বেশি। তিনি বলেন, আসসের ল্যাপটপ দুই মাস যাবত মার্কেটে নেই। এইচ পি ল্যাপটপ প্রতি মাসে যেই পরিমাণ বিক্রি করতাম তার অর্ধেকও এখন আমরা পাচ্ছি না।

ফ্লোরা লিমিটেড এর এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার রেজাউল হাসান বিডি২৪লাইভকে বলেন, করোনা আসার পর থেকে আইটি সেক্টরের চাহিদা অনেক বেড়েছে। কারণ হচ্ছে অনেকের অফিসের কাজ বাসায় বসে করতে হচ্ছে। সেই কারণে কম্পিউটার ল্যাপটপ হেডফোন এ সকল প্রোডাক্ট এর চাহিদা অনেক বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মার্কেটে প্রোডাক্ট স্লো হয়ে গেছে। এজন্য ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সেল দেয়া যাচ্ছে না। তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য না পাওয়ার কারণে হাতের কাছে যেটা পাচ্ছেন সেটাই নিয়ে নিচ্ছেন। প্রোডাক্ট কম থাকার কারণে দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিন পণ্য আমদানি বন্ধ ছিল। এ কারণে প্রযুক্তি পণ্যের সংকট চলছে।

আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটি আরেক মোবাইল দোকানি মনোয়ার হোসেন বিডি২৪লাইভকে বলেন, বিক্রি বেশি হওয়ার কারণে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কম্পিউটার ল্যাপটপ দেয়া যাচ্ছে না। অনলাইনে কার্যক্রম বেশি হওয়ার কারণেই কম্পিউটার ল্যাপটপ এর চাহিদা বেড়েছে। আমরা যেভাবে প্রোডাক্ট আনতে চাই সেভাবে প্রোডাক্ট পাচ্ছি না। আমাদের দেশে অফিসের পুরো টাইম কাজ করতে পারলেও অন্য দেশ এমন নয়। অন্যান্য দেশে করোনার কারণে পূর্বের চেয়ে অফিসের জনবল খুব কম এজন্য তারা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রোডাক্ট দিতে পারে না। করোনার পরবর্তী সময়ে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর সকল ধরনের প্রোডাক্ট এর চাহিদা বেড়েছে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: