প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোঃ রাসেল ইসলাম

দিনাজপুর প্রতিনিধি

বদলে গেছে বোচাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান

   
প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, ৩০ নভেম্বর ২০২০

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার প্রায় দুই লক্ষের বেশি জনজীবনের চিকিৎসা সেবার একমাত্র কেন্দ্র স্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। সার্বিক অবকাঠামোর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি,নিয়ম-শৃঙ্খলার উন্নতি ও সেবার মানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌর শহরের মধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। বর্তমান হাসপাতালের সেবা নিয়েও এলাকার মানুষ বেশ সন্তুষ্ট। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দেখতে বেশ ঝকঝকে, তকতকে।

জানা যায়, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন চিকিৎসক ও ১জন ডেন্টাল সার্জন এবং ২৩ জন সেবিকা নিয়ে রোগীদের নিয়মিত সেবা দিচ্ছে। উপজেলার ছয় ইউনিয়নে ২১টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরবিার কল্যান কেন্দ্র ৫টি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হিবিভাগে উপজেলার দূর দুরান্ত এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় কমবেশী ১৫০ জন রোগী সেবা নিতে আসে। প্রতিদিন জরুরি বিভাগে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন রোগী সেবা নিচ্ছে। প্রতি মাসে কমবেশী মাসে ৪০ থেকে ৫০টি গর্ভবতী মায়ের নরমাল ডেলিভারী করা হয়। রোগীদের কোন প্রকার হয়রানি শিকার না হতে হয়। এজন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি পুরো এলাকায় সিসি ক্যামরা লাগানো হয়েছে।

সরজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়,উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীগুলো এসে বর্হিবিভাগে ৩ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে চিকিৎসকদের কাছে সেবা নিচ্ছে। চিকিৎসরা রোগীদের সামনা সামনি নিয়ে বেশ গুরুত্ব সহিত সেবা দিচ্ছে। করোনাভাইরাস রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসের ভিতরে অস্থায়ী টিন দিয়ে ঘর তৈরি করেছে। যারা করোনাভাইরাসের জন্য নমুনা দিতে আসছে। চিকিৎসকরা নিজেরাই রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করছে। বিগত কয়েক বছরে তুলনায় যেনো সেবারমান বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতলটি বেশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।

৪ নম্বর আটগাঁও ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মোত্তালেব (৪৮) বলেন,আমার বহুদিন ধরে কোমরের ব্যাথা ভ’গতেছি। এজন্য হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসছি। ডাক্তার খুব সুন্দরভাবে দেখলো। হাসপাতালে বেশ ভাল ওষুধ পেলাম।
সেতাবগঞ্জ পৌর এলাকার ভরলা গ্রামের খতেজা (৫০) বলেন, বাপু আমার পায়ের ব্যাথা খুব। ডাক্তার দেখালাম। হাসপাতাল থেকে সব ওষুধ নিলাম।

সেতাবগঞ্জ পৌর এলাকার মিলরোড় এলাকার আসাদুজ্জমান নামের একজন রোগীর সাথে কথা হয়,তিনি বলেন আমার হার্টের সমস্যা। হাসপাতালে হার্টের ডাক্তার দেখালাম। ডাক্তার খুব ভাল করে দেখলো। বেশ কিছু ওষুধ হাসপাতাল থেকে পেলাম।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা বিষ্টুপুর গ্রামের শেফালি বেগম বলেন,আমার বুকের জ্বালা,শরীরের রক্ত থাকেনা। এজন্য হাসপাতে ২ দিন হলো ভর্তি হয়েছি। ডক্তার,নার্স খুব ভাল দেখতেছে।

৬ নম্বর রনগাঁও ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের শামসুল আলম বলেন, আমার সমস্যা হচ্ছে। কাজ করলেই হাত পা জড়ো হয়ে যায়। একারনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আগের তুলনায় বহু গুনে ভাল চিকিৎসা পাচ্ছি।

১ নম্বর নাফানগর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের মলিন বলেন,আমার হাত ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। ডাক্তার নিয়মিত আমাকে দেখতে আসে। বর্তমানে আগের তুলনায় ভাল চিকিৎসা পাচ্ছি। আমি ৭ দিন ধরে হাসপাতালে আছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবুল বাসার মো. সায়েদুজ্জামান বলেন, সেবা গ্রহনকারী ও সেবা প্রদানকারী সকলের সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সেবার মান পরির্বতন এসেছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সকলের সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রয়োজন।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: