প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এস হোসেন আকাশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যায় মেয়ের মৃত্যুদণ্ড, মায়ের যাবজ্জীবন

   
প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, ৩০ নভেম্বর ২০২০

ছবি: প্রতীকী

কিশোরগঞ্জে স্কুল ছাত্র তোফায়েল হোসেন (১৩) হত্যার ঘটনায় জুয়েনা আক্তার (৩০) নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার মা রিনা আক্তার (৫৩) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত দুই আসামির প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত রিনা আক্তার আদালতে উপস্থিত থাকলেও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জুয়েনা আক্তার জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে। এ মামলার অপর আসামি রিনা আক্তারের ছেলে রাসেলের ঘটনার সময় বয়স ছিল ১২ বছর। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় শিশু আদালতে তার বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। রিনা আক্তার জেলার কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া গ্রামের দুলাল ভূইয়ার স্ত্রী এবং জুয়েনা আক্তার তার মেয়ে।

২০১২ সালের ১০ই মার্চ রাতে কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ গোপীনাথ জিউর আখড়া সংলগ্ন ফুটপাতে স্কুল ছাত্র তোফায়েল হোসেনকে জুয়েনা, তার ছোট ভাই রাসেল (১২) ও মা রিনা আক্তার মিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। ওই সময় দুলাল ভূইয়া সপরিবারে কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ পৌর মহিলা কলেজ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থেকে ফেরিওয়ালার কাজ করতো।

অন্যদিকে নিহত তোফায়েল হোসেন শহরের আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং তার পিতা আওলাদ হোসেন শহরের বত্রিশ মনিপুরঘাট এলাকার বাসিন্দা ও বড়বাজার এলাকার তেরিপট্টি মার্কেটের কাপড়ের ব্যবসায়ী।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১০ মার্চ রাত ৮টার দিকে পূজা দেখতে কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ গোপীনাথ জিউর আখড়ায় যায় স্কুল ছাত্র তোফায়েল হোসেন। আখড়া সংলগ্ন ফুটপাতে তখন তোফায়েলের সাথে রাসেলের কথা কাটাকাটি হয়।

এর জের ধরে রাসেল, তার বোন জুয়েনা এবং মা রিনা আক্তার এই তিনজনে মিলে তোফায়েলকে বাঁশের লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি পিটিয়ে গুরুতর আহত করলে ঘটনাস্থলেই সে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১১ মার্চ সকাল ৯টায় তোফায়েলের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহত স্কুল ছাত্র তোফায়েল হোসেনের পিতা আওলাদ হোসেন বাদী হয়ে রিনা আক্তার, তার মেয়ে জুয়েনা আক্তার ও ছেলে রাসেল এই তিনজনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার তৎকালীন এসআই আহসান হাবীব ওই বছরেরই ৩১ মে আদালতে তিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান করেন। সাক্ষ্য-শুনানি শেষে দীর্ঘ সাড়ে ৮ বছর পর রোববার (২৯ নভেম্বর) আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি আবু সাঈদ ইমাম এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট ক্ষিতিশ দেবনাথ মামলাটি পরিচালনা করেন।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: