প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

‘মুই সন্তানের লগে খারাপ কামের বিচার কি এক ঘা জুতাপেটা?’

   
প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ণ, ১ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: প্রতীকী

বরগুনার আমতলীতে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের বিচার হয়েছে এক ঘা জুতাপেটা ও এক হাজার টাকা জরিমানা। এ মূল্য নির্ধারণ করেছেন বলাৎকারের নায়ক শাহজাহান মৃধার বড় ভাই প্রভাবশালী রফিক মৃধা। ঘটনা ধামাচাপা দিতে উঠে পরে লেগেছে ওই প্রভাবশালী পরিবারটি। মামলা না করার জন্য শাসাচ্ছেন তারা। তাদের ভয়ে মামলা করার সাহস পাচ্ছে না বলাৎকারের শিকার শিশুর পরিবার। বলাৎকারের শিকার শিশুর পরিবার জানিয়েছেন, গত ২৪ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে পূর্বচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী (১০) তার নিজ বাড়ির পাশের একটি মাঠে খেলা করছিল। এ সময় ওই একই গ্রামের কাসেম মৃধার ছেলে শাহজাহান মৃধা (৫০) ওই স্কুল শিক্ষার্থীকে ডেকে পাশের একটি নির্জন ধান ক্ষেতে নিয়ে মুখে গামছা ঢুকিয়ে বলাৎকার করে। ছেলেটি বাড়ি এসে এ ঘটনা তার বাবা-মাকে জানায়। ছেলের অবস্থা খারাপ দেখে তার বাবা ছেলেটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় নোমর বাজারের পল্লী চিকিৎসক নিখিলেশের চেম্বারে নিয়ে চিকিৎসা করান। শাহজাহানের পরিবারটি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারা এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

তারা বলাৎকারের শিকার শিশুর পরিবারটিকে এ ঘটনা কাউকে না জানানো এবং মামলা না করার জন্য শাসায়। মামলা করা হলে এলাকা ছাড়া করার হুমকিও দেয় পরিবারটিকে। পরের দিন বুধবার রাতে শাহজাহানের বড় ভাই স্থানীয় প্রভাবশালী রফিক মৃধা তার বাড়িতে এক শালিসের মাধ্যমে শাহজাহানকে এক হাজার টাকা জরিমানা এবং এক ঘা জুতাপেটা করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।

কিন্তু সালিশের এ বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না বলাৎকারের শিকার শিশুর পরিবারটি। এলাকা ছাড়া করার হুমকির ভয়ে তারা মামলাও করতে সাহস পাচ্ছে না ওই প্রভাবশালী পরিবারটির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শাহজাহান মৃধা বলাৎকারের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বলাৎকারের শিকার শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রভাবশালী শাহজাহান মৃধা মোর পোলাডারে ধান ক্ষ্যাতে নিয়া মোহে গামছা দিয়া খারাপ কাম করছে। পোলাডার অবস্থা খারাপ দেইখ্যা ডাক্তার দেহাইছি। হের পর অরা মোরে মামলা না করার জন্য ভয় দেহায়। মুই গরীব মানু অগো ভয়তে মামলা হরতে পারি নাই। মামলা করলে মোরে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় শাহজাহানের বড় ভাই রফিক মৃধা সালিশ হরছে। হে মোরে এক হাজার টাহা দিছে। আর শাহজাহানকে একটা জুতার বাড়ি দিছে। মুই হেই টাহা আনি নাই। মুই এইয়ার বিচার চাই। তিনি আরও জানান, শাহজাহান মৃধা খারাপ প্রকুতির লোক। সে পূর্বেও এ ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেই সাহস করে কিছু বলতে পারে না।

সালিশদার ও শাহজাহানের বড় ভাই রফিক মৃধা সালিশির কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি কিছু জানি না। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: