প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আবারও কলাবাগানে ধর্ষণের শিকার কিশোরী, লজ্জায় আত্মহত্যা

   
প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ণ, ১৫ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর কলাবাগানে এবার ধর্ষণের শিকার হয়ে মোছা. জান্নাত নামে এক কিশোরী গৃহকর্মী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার মেয়েটি কাপড় শুকাতে দেওয়ার জন্য ছাদে গেলে বাসার নিরাপত্তাকর্মী মো. জুনায়েদ তাকে ধর্ষণ করেন।

এ দৃশ্য বাসার দারোয়ান দেখে ফেলায় লজ্জায় বাথরুমে ঢুকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে ওই কিশোরী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলাবাগান থানার ওসি (তদন্ত) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলছেন, কিশোরীর মরদেহ যে অবস্থায় পাওয়া গেছে তাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিক তদন্তে মেয়েটির ধর্ষণের শিকার হওয়ার তথ্য মিলেছে। এ কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

মৃতের চাচা হেলাল খান বলেন, কোনো কারণে জান্নাতকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়েও রাখা হয়ে থাকতে পারে। যেখানে সে আত্মহত্যা করেছে বলা হচ্ছে, ওই উচ্চতায় তার পা মেঝেতে লেগে যাওয়ার কথা। তাই প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, কলাবাগানের নর্থ সার্কুলার রোডের ৫৮ নম্বর বাসায় গৃহকর্মী হিসিবে কাজ করে আসছিলেন জান্নাত। বুধবার দুপুরে সে ভেজা কাপড় শুকানোর জন্য নয়তলা ভবনটির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী জুনায়েদ মুখ চেপে তাকে ধর্ষণ করে। আরেক নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি দেখে ফেলে। জুনায়েদ তাকে ঘটনাটি গোপন রাখার জন্য চাপাচাপি করে। তবে সেই নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি গিয়ে গৃহকর্তাকে জানান। এদিকে ধর্ষণের ঘটনা লোকজন জেনে ফেলার লজ্জায় বাসার বাথরুমে ঢুকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে কলাবাগান থানায় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। সন্ধ্যায় গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার জুনায়েদকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ৭ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর কলাবাগানে অবস্থিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া ছাত্রী আনুশকাহ নূর আমিনকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনুশকাহর বয়ফ্রেন্ড দিহানসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলাবাগানের ডলফিন গলিতে দিহানের বাসায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ আনুশকাহকে ধানমন্ডির মডার্ণ আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিহানসহ চার বন্ধু। পরে বিকালে হাসপাতালে আনুশকাহ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

নাঈম/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: