প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

ব্যবসায়ীদের টেলিফোন নম্বর সংগ্রহ করে

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করত এরা

   
প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ণ, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

সোহেল রানা শুভ: ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেনস্টার গ্রুপের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে একটি চক্র। এই চক্রটি বিভিন্ন নীরিহ ব্যবসায়ীদের টেলিফোন নম্বর সংগ্রহ করে চাঁদাবাজি করে আসছে। তারা তিনগ্রুপে বিভক্ত হয়ে চাঁদাবাজি করে থাকে। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ ঢাকার নীলক্ষেতের পুরাতন বইয়ের দোকান, অফিসার্স ক্লাব সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে টেলিফোন ইনডেক্স সংগ্রহ করে দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে সরবরাহ করে। দ্বিতীয় গ্রুপটি সংগ্রহ করা নম্বরে ফোন করে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা চেয়ে থাকে। দ্বিতীয় গ্রুপটি বিভিন্ন হিসাব নম্বরে, বিকাশে এবং নগদের টাকা চেয়ে থাকে। পরে তৃতীয় গ্রুপটি ওই চাঁদার টাকা সংগ্রহ করে থাকে।

আজ শনিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি উপ কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন।

এরআগে গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, তুরাগ এবং পল্টন এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বেল্লাল খান, রাকিব খান টিটুল, মো. আবদুল হান্নান, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহাগ এবং খোরশেদ আলমঅ এ সময়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল, সিমকার্ড এবং নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালিদ হোসেন বলেন, বেশকিছুদিন আগে কক্সবাজারের এক ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোন করে টাকা চওয়া হয়। টাকা না দিলে তাকে ও তার ছেলেকে হত্যা গুম করবে বলে বড় অংকের টাকা চায় এই চক্রটি। পরে ওই ব্যবসায়ী ভয় পেয়ে প্রতিমাসে তাদেরকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে থাকেন। এভাবে তাদেরকে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। এরপর ওই চক্রটি তার কাছে আরো বড় অংকের টাকা দাবি করলে তিনি ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ করেন।

ওই ব্যবসায়ী খুলনা, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যবসা করতেন। তার অভিযোগ পেয়ে ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে এডিসি মনিরের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে। এরা ৮ থেকে ১০ জনের একটি চক্র। এই চক্রটির প্রথম গ্রুপের সদস্যরা ঢাকার নীলক্ষেতের পুরাতন বইয়ের দোকান থেকে, বিভিন্ন বই ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির বার্ষিক সদস্য পরিচিত (ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের তালিকা ) টেলিফোন গাইড সংগ্রহ করে। দ্বিতীয় গ্রুপকে দিয়ে দেয়। দ্বিতীয় গ্রুপ ঢাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেনস্টার গ্রুপের জিসানের নাম করে সেভেনস্টার গ্রুপের কথা বলে চাঁদা বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে ফোনে টাকা চেয়ে থাকে। তাদের ফোনে অনেকে ভয় পেয়ে টাকা দিয়ে দেয়। তারা ভিকটিমদের বিকাশ নগদে বিভিন্ন হিসাবে টাকা দিতে বলেন। তৃতীয় গ্রুপটি ওই হিসাব থেকে টাকা সংগ্রহ করে। আমরা প্রথমে এই গ্রুপের প্রধান বেলাল খানকে গ্রেপ্তার করি। পরে তার টুআইসি টুটুল খানকে গ্রেপ্তার করি। পরে তাদের গ্রুপের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ডাইরি উদ্ধার করা হয়। যারমধ্যে তারা তাদের ভিকটিমদের তালিকাও তৈরি লিখে রাখে। রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করব।

এরা কিভাবে বিকাশ কিংবা নগদের হিসাব নম্বর খোলে এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়ালিদ হোসেন বরেন, এরা বিভিন্ন নীরিহ লোকদের এবং তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে হিসাব খোলে।

এই গ্রুপটি মাদারীপুর নারায়ণগঞ্জ এবং বরিশাল কেন্দ্রিক কাজ করে। তাদের একটি গ্রুপ ঢাকায় রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং চাঁদাবাজি আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: