মোঃ আশরাফুল আলম

বশেমুরবিপ্রবি (BSMRSTU) প্রতিনিধি

চোখে কালো কাপড় বেঁধে বশেমুরবিপ্রবি’র আইসিটি ইনস্টিটিউটের অবস্থান কর্মসূচি

   
প্রকাশিত: ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ, ১৮ জানুয়ারি ২০২১

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (সিএসই) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সাথে একীভূত হওয়ার দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত শেখ হাসিনা আইসিটি ইন্সটিটিউটের সিএসই এবং ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

রবিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে দাবি আদায়ের জন্য চোখে কালো কাপড় বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে তারা।

এসময় শেখ হাসিনা আইসিটি ইন্সটিটিউটের সিএসই বিভাগের একজন শিক্ষার্থী রেশমা বলেন, “২০১৮/১৯ সেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত শেখ হাসিনা আইসিটি ইনস্টিটিউটে আমাদের ভর্তি করানো হয়। কিন্তু প্রথম থেকেই আমরা প্রতারণার শিকার হয়ে আসছি। প্রথমে শিবচরে ভাড়া করা ক্লাসরুমে আমাদের ক্লাস নেওয়া হতো। পরবর্তীতে তৎকালীন ভিসি খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের পর আমরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসি। কিন্তু তখনও আমরা প্রতারণার শিকার হই। ক্যাম্পাসের পরিত্যক্ত দুটি ক্লাস রুমে নিজেদের টাকায় কিনা হোয়াইট বোর্ড ও মার্কার দিয়ে আমাদের ক্লাস নেওয়া হতো। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরুর দিকে আমাদের দাবির ব্যাপারে আশ্বস্ত করলেও বর্তমানে তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে ইনস্টিটিউটের অধীনে আমাদের একটা মাত্র ব্যাচের গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করানো হবে এবং পরবর্তীতে আর কোনো নতুন ব্যাচ ভর্তি করানো হবে না। আর একারণেই প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি স্ব স্ব ডিপার্টমেন্টে আমাদের যেনো যুক্ত করে দেওয়া হয়। কারন একটা প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একটা ব্যাচ বের হয় এমন নজির বাংলাদেশের অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে নেই। তাই আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

শেখ হাসিনা আইসিটি ইনস্টিটিউটের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, “এর আগেরবার যখন আমরা আন্দোলন করছিলাম তখন প্রশাসন আমাদের আন্দোলন যৌক্তিক বলেছিলেন এবং আমাদেরকে স্ব স্ব ডিপার্টমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি তারা অস্বীকার করছে। এর প্রতিবাদ স্বরূপ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা সহ আমরা আজকে চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করছি। এছাড়া আমাদের দাবী মেনে নেওয়া না হলে সামনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য ড. এ.কিউ.এম মাহবুব বলেন, “তারা যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তাদের দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের এবং গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হবে না। আমি ইতোমধ্যেই তাদের ক্লাসে ফিরে যেতে এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে বলেছি।”

ভবিষ্যতে শেখ হাসিনা ইনিস্টিটিউটের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রিজেন্ট বোর্ড এবং ইউজিসির ওপর নির্ভর করছে।”

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের অদূরদর্শীতায় মাদারিপুরের শিবচরে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে অস্থায়ী ভাবে তৈরি হয় শেখ হাসিনা আইসিটি ইনিস্টিটিউট। যেখানে ইটিই, ইইই এবং সিএসই বিভাগে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হয়। এর মধ্যে ইটিইি বিভাগের ছয়জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইটিইি বিভাগের সাথে একীভূত করা হলেও অবশিষ্ট দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের একীভূত করা হয়নি।”

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: