প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ঘোলাজল পরিষ্কার হতে শুরু করেছে

   
প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, ১৮ জানুয়ারি ২০২১

ফাইল ছবি

ইসলামাবাদ প্রায় একবছর ধরে নানাভাবে চেষ্টা করছে যেন বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ‘স্বাভাবিক’ হয়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ঘোলাজল ধীরে হলেও পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। তবে পাকিস্তানের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের মনোভাব এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে বলে ক্রমেই সম্পর্কের মেলবন্ধন দূরবর্তী একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ চাওয়া প্রশ্নে বাংলাদেশের কঠোর মনোভাবের বিপরীতে পাকিস্তান ‘সব কিছু সহজ করার’ ঘোষণা দিয়েছে। এরই মাধ্যমে কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে আনুষ্ঠানিক ‘ক্ষমা’ চাওয়ার কথা ছড়িয়েছে। বিগত ২ মাসে ৩ দফা সংলাপে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ কিছুটা গলেছে। মনে করা হচ্ছে, সে কারণেই ডিসেম্বর মাসেও পাকিস্তান দূত ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী সরকার প্রধানের দেখা পেয়েছেন। এসময় মন্ত্রী-এমপি, আমলা ও ব্যবসায়ীদের দেখা না পাওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী সরকার প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পরে নতুন বছরের সূচনাতেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ হয় পাকিস্তানের হাইকমিশনারের। ওই সাক্ষাতে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম স্পষ্ট করেই বলেন, সম্পর্ক বাড়াতে চাইলে পাকিস্তানকে আগে ক্ষমা চাইতে হবে। শাহরিয়ার আলম জানিয়ে দেন, একই সঙ্গে অমীমাংসিত সব ইস্যুর নিষ্পত্তি করতে হবে।

জবাবে ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী ’৭৪ সালে সম্পাদিত বহুল আলোচিত ত্রিদেশীয় চুক্তির একটি কপি হস্তান্তর করে জানান, তারা এরইমধ্যে বাণিজ্য বাধা নিরসন এবং বাংলাদেশিদের জন্য পাকিস্তানকে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্য সব ধরনের ভিসা জটিলতা দূর করেছেন। নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নে বাংলাদেশের কঠোর মনোভাবের বিপরীতে পাকিস্তানের ‘সব কিছু সহজ করার’ ঘোষণাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কূটনীতিক-বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এক যুগবয়সী সরকারের প্রায় ১১ বছরই ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক প্রায় শেষ হতে বসেছিল। কিন্তু গত কয়েকমাসে তাতে বেশ ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। অনেকে এজন্য চীনকে প্রভাবক হিসেবে মনে করেন। তারা মনে করেন দৃশ্যপটে না থাকলেও বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক মেরামতে উভয়ের বন্ধু চীনই মুখ্য ভূমিকা রেখেছে এবং রাখছে। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের প্রবল আপত্তি রয়েছে। এ নিয়ে সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি রয়েছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে পাকিস্তানি ঘাতকদের সহযোগিতার দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড প্রশ্নে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটা একেবারে ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি তলব ও বহিষ্কারের ঘটনা চলেছে বহুদিন। উভয় পক্ষে কূটনীতিকদের ভিসা প্রদানও বন্ধ ছিল।

পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে হয়েছিল যে, প্রায় দু’বছর ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারের পদটি শূন্য ছিল। অবস্থা যখন চরমে তখন নাটকীয়ভাবে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী হয় ইসলামাবাদ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক চেয়ে প্রস্তাব পাঠান। দেশে এ অবস্থায় খবর আসে যে সরকার গঠনের পর থেকেই নাকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চেষ্টায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের।

২০১৯ এর সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে ইমরান খান সুযোগটি গ্রহণ করেন। সেদিনের আলাপে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রশংসা করেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও। ওই সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় ফিরে তিনি তার একটি বর্ণনাও দেন। মূলত এক দশক পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান শীর্ষ নেতৃত্বের এটাই ছিল প্রথম বাক্য বিনিময়।

একটি জাতীয় দৈনিকের বরাতে জানা যায়, কূটনৈতিক অঙ্গনে চাউর হয়েছে- স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর উজ্জ্বল মুহূর্তে বাংলাদেশকে নিয়ে পাকিস্তানের পরিবর্তিত নেতৃত্ব এবং দেশটির নতুন প্রজন্মের যে উপলব্ধি তার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ নাকি আগামী ২৬ মার্চের আগেই ঘটতে যাচ্ছে। তবে ’৭১ প্রশ্নে পাকিস্তানের উপলদ্ধি প্রসঙ্গে ঢাকা আগাম কোনো মন্তব্য করার ঝুঁকি নিতে চায়নি।

নাঈম/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: