প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আব্দুল লতিফ রঞ্জু

পাবনা প্রতিনিধি

মায়ের পান আনতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার কলেজ ছাত্রী!

   
প্রকাশিত: ১১:৪৫ অপরাহ্ণ, ২১ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: প্রতীকী

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অসুস্থ্য মায়ের পান নিয়ে বাড়িতে একা ফেরার পথে শ্লীলতা হানির শিকার হয়েছে জনৈক (১৮) এক কলেজ ছাত্রী। সে স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। প্রতিবেশী সোহেল রানা ওরোফে জগলুল (৫৩) নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই কলেজ ছাত্রী এমন অভিযোগ করেছে। জগলুল ওই ছাত্রীর সস্পর্কে চাচা ও সে বর্তমানে পলাতক রয়েছে। সোহেল রানা ওরোফে জগলুল দুই সন্তানের জনক ও মন্ডুতোষ গ্রামের আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মন্ডুতোষ ইউনিয়নের মন্ডুতোষ গ্রামে। ঘটনার বিষয়ে গত বুধবার (২০ জানুয়ারি) গভীর রাত পযর্ন্ত ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বর ও গ্রাম প্রধানসহ শতাধিক লোক মন্ডতোষ প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে গ্রাম্য সালিশে আপোস মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। কারণ অভিযুক্ত প্রভাবশালী ও পলাতক থাকার কারণে বিষয়টির কোনো সুরহা করতে পারেনি। তবে এ ঘটনায় ওই এলাকাতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিক্টিমের পরিবার সুষ্ঠু বিচার দাবী করেছেন।

ভিক্টিমের পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, গত বুধবার (১৮জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ওই কলেজ ছাত্রীর মা দাতের ব্যথায় অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। কিছুতেই যখন তার দাতের ব্যথা নিবারণ হচ্ছিল না তখন তার মা তাকে বাড়ির পাশের দোকান থেকে পান আনতে তার মেয়ে ভিক্টিম কলেজ ছাত্রীকে পাঠায়। রাত ৮টার দিকে ভিক্টিম পাশের দোকান থেকে তার মায়ের জন্য পান কিনে ফেরার পথে ফাঁকা স্থানে একা পেয়ে অভিযুক্ত সোহেল রানা ওরোফে জগলুল ওই কলেজ ছাত্রীর মুখ চেপে ঝাপটে ধরে রাস্তার নিচে লিচু বাগানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ভিক্টিম চিৎকার দিলে পাশের লোকজন ছুটে এলে এই কথা কাউকে বললে ভিক্টিমকে হত্যা করা হবে হুমকি দিয়ে সোহেল রানা চম্পট দেয়। ওই কলেজ ছাত্রী বাড়িতে ফিরে এসে তার পারিবারের লোকজনের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে।

এ ঘটনায় বিষয়ে ভিক্টিমের পরিবারের লোকজন পরের দিন সকালে ভাঙ্গুড়া থানায় অভিযোগ দিতে আসলে তাদেরকে এলাকায় বসিয়ে বিষয়টি আপোস মীমাংসা করার কথা বলে ফিরিয়ে নেন গ্রাম্য প্রাধানরা। বুধবার রাতে মন্ডতোষ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের নির্দেশে গ্রামপুলিশ গ্রামবাসিকে মন্ডতোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে শতাধিক লোককে একত্রিত করে গভীর রাত পযর্ন্ত চলে আপোস মীমাংসার চেষ্টা। সালিশ বৈঠকে মন্ডতোষ ইউপি চোয়ারম্যান আফছার আলী, ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাগর হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর সামাদসহ প্রায় শাতাধিক গ্রামবাসি উপস্থিত ছিল। কিন্তু অভিযুক্ত সোহেল রানা ওরাফে জগলুল বিত্তশালী ও প্রভাবশালী হওয়ায় সে গ্রাম্য সালিশে হাজির হয় নি।

ভিক্টিমের বড় ভাই বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে গ্রাম্য প্রধান মইনুল, আব্দুল গফুর ও জুলফিক্কার আলী গ্রামে বিচার দিবে বলে আমাদের ফিরিয়ে এনেছে। এখন তো তারা কোন বিচারই করলেন না। এক্ষণ বুঝতেছি তারা আসামীকে পালাতে সাহায্য করেছে।

ভিক্টিমের পিতা কান্না জড়িতে কন্ঠে বলেন ,আমার মেয়েটাকে সমাজে বাঁিচয়ে রাখাই এখন কঠিন হবে।

ঘটনার ব্যাপারে ইউপি সদস্য মো. সাগর হোসেন বলেন,আমরা ঘটনার বিষয়ে গ্রামে আপোস মীমাংসার চেষ্টা করেছে কিন্তু বিবাদি উপস্থিত না হওয়ার কারণে সেটা আর সম্ভব হয় নি।

মন্ডতোষ ইউপি চেয়ারম্যান মো. আফছার আলী বলেন, গ্রামবাসীকে নিয়ে ওই ঘটনার বিষয়ে আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বিবাদী উপস্থিত না হওয়ার কারণে আপোষ মীমাংসা করা যায় নি।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিনুল/শিইসি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: