প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

জয়ন্ত শিরালী জয়

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

মোবাইল কোর্টে জব্দকৃত উধাও হওয়া জুস মেকার!

   
প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, ২২ জানুয়ারি ২০২১

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মোবাইল কোর্টে জব্দকৃত একটি অটো জুস্ মেকার মেশিন মালখানা থেকে উধাও হয়। তার প্রায় দেড় বছর পর বিষয়টি জানাজানি হলে গোপনে মেশিনটি মালখানায় ঢুকায় জুস মেশিন সরিয়ে ফেলার মূল হোতা। কাশিয়ানী ইউএনও অফিসের অফিস-সহকারি (নাজির) এস এম আবু হোসেন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ জুলাই কাশিয়ানীর তৎকালীন ইউএনও’র নেতৃত্বে একটি মোবাইল কোর্ট বরাশুর গ্রামে আব্দুল্লাহ আইচ ফ্যাক্টরীতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে বেশকিছু নকল জুস ও চানাচুরসহ ওই জুস্ মেকার মেশিনটি জব্দ করে মালখানায় রাখা হয়। এসময় ফ্যাক্টরীরর মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিছুদিন পর অফিস-সহকারি (নাজির) এস এম আবু হোসেন গোপনে মালখানা থেকে মেশিনটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে অবৈধ ব্যবসা করছিলেন। সম্প্রতি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

এর পরই আবু হোসেন তার লোকজন দিয়ে গোপনে জুশ মেকার মেশিনটি মালখানায় ঢোকানের চেষ্টা চালাতে থাকে। গত ১৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউএনও’র নিরাপত্তা-প্রহরীরা মালখানার পাশ থেকে দু’শ্রমিককে সন্দেহবশতঃ আটক করে। পরে পিআইও অফিসের কর্মচারী (মাষ্টাররোল) রেজাউল লিখিত দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নেয়। একটি মেশিন মালখানায় ঢোকানোর জন্য তাদেরকে ডেকে আনা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শ্রমিকরা সাংবাদিকদের জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে রাতে মেশিন মালখানায় ঢোকাতে ব্যর্থ হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবু হোসেন এবং রেজাউল সহ ইউএনও অফিসের কয়েকজন মিলে বিশালাকৃতির ভারী ওই মেশিনটি মালখানায় রাখেন।

মালখানার দায়িত্বে থাকা ইউএনও অফিসের অফিস-সহকারি (নাজির) এস এম আবু হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পর থেকে রেজাউলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানীর ইউএনও রথীন্দ্রনাথ রায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইতোমধ্যে আবু হোসেনকে মালখানার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: