প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সিলেটে চাঁদা না দেয়ায় চালকের কানে কামড়

   
প্রকাশিত: ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ২৮ জানুয়ারি ২০২১

আবুল হোসেন, সিলেট থেকে: সিলেটে দিন দিন ভয়ঙ্কর থেকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে হিজড়া পাপ্পু ও তার সহযোগীরা। সিলেটের প্রায় প্রতিটি রাস্তায় প্রতিদিনই চলে তাদের চাঁদাবাজি। সাধারণ মানুষ এই হিজড়াদের কাছে অসহায়।

প্রতিনিয়ত দিন-দুপুরে যানবাহন আটকে হিজড়াদের ডাকাতি দেখেও না দেখার ভান করে পুলিশ। দিনের পর দিন তারা এমন চাঁদাবাজি চালালেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন। এ অবস্থায় সিলেটের সর্বত্রই হিজড়ার দল প্রকাশ্যে করে বেড়াচ্ছে ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজি ও মানুষের সঙ্গে করছে অশ্লীল আচরণ।

এমনই চিত্র দেখা যায় বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর আম্বরখানায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে আম্বরখানায় পণ্যবাহী একটি পিকআপ আটকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে পাপ্পু ও তার সহযোগীরা। এসময় পিকআপের চালক ও হেল্পার চাঁদা দিতে অসম্মতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে হিজড়ারা এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। চালক ও হেল্পার এসবের প্রতিবাদ করলে হেল্পারের কান কামড়ে দেয় এক হিজড়া। তখন মানুষজন এগিয়ে এসে হিজড়ার কবল থেকে হেল্পারকে উদ্ধার করেন। পরে হেল্পারকে মারতে না পেরে ওই হিজড়া সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে যায়।

পাপ্পু হিজড়া তার সহযোগীদের নিয়ে সম্পতি সিলেটের জিন্দাবারের ট্রাফিক পুলিশের উপর হামলা চালায়। তাদের হামলা আহত হন এক ট্রাফিক পুলিশ। পরে ওই পুলিশকে রক্তাত্ব অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এমনকি এঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়। মামলার পর পাপ্পু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এভাবে শুধু আম্বরখানাই নয়, নগরীসহ সিলেটের প্রায় প্রতিটি রাস্তায় এমন প্রকাশ্যে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি চালায় হিজড়ার দল। এছাড়াও কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে বিয়ের অনুষ্ঠান হলে সেখানে এবং বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে হিজড়ারা তাণ্ডব চালায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন তো আছেই- বিশেষ করে শুক্রবারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধিন দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল, হুমায়ুন রশীদ চত্বরসহ বিভিন্ন পয়েন্ট ও রাস্তায় হিজড়ার দল রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। প্রত্যেক বরযাত্রীর গাড়িবহর আটকে দাবি করে মোটা অংকের চাঁদা। তাদের চাহিদামতো টাকা না দিলে মুহুর্তে কয়েকজন হিজড়া উলঙ্গ হয়ে যায়। গাড়িতে হামলাও চালায় তারা। চক্ষুলজ্জা ও আতঙ্গে বরযাত্রীরা হিজড়াদের মোটা অংকের চাঁদা দিয়েই দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

এদিকে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে হিজড়াতের এমন দৌরাত্ম্য পুলিশ স্বচক্ষে দেখেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে দর্শকের ভূমিকা পালন করে নিশ্চুচ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে– এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

হিজড়াদের অত্যাচারে অতীষ্ঠ সিলেটবাসীর জোর দাবি- এদের দৌরাত্ম্য থামাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। তা না হলে সিলেটে আন্দোলনে নামতে পারেন ভোক্তভোগীরা।

অপরদিকে, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন সথানে কতিপয় হিজড়া অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস) বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, এসব আমাদের নজরে আসেনি। তবে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে পুলিশ।

সিলেট হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সুন্দরী হিজড়া বলেন, পাপ্পু তার সংস্থার কোন সদস্য নয়। সে কোন হিজড়াদের কথা মানেনা। তার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ পাপ্পুর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: