প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

অত্যাচার ও নির্যাতন সইতে না পেরে মায়ের আত্মহত্যা, লাশ সৎকারে ছেলের বাধা

   
প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, ২৮ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছেলের অত্যাচার ও নির্যাতন সইতে না পেরে উমা রানী নামে একজন মারা গিয়েছে। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ছয়সূতী গ্রামের মা উমা রানী দাস মারা যাওয়ার পর সৎকারে বাধা দেন ছেলে উদয় চন্দ্র দাসসহ তার লোকজন। পরে থানায় অভিযোগের পর পুলিশের সহায়তায় এক দিন পর আজ বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, ছয়সূতী গ্রামের চন্দন কুমার দাসের স্ত্রী উমা রানী দাস গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে বিষপান করেন। ছেলে উদয় চন্দ্র দাসের অত্যাচার ও নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি বিষপান করেন বলে অভিযোগ স্বজনদের। স্থানীয়রা তাকে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরদিন মঙ্গলবার বাজিতপুর থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে।

বুধবার কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সনাতন ধর্মানুসারে যখন লাশ সৎকারের প্রস্তুতি নেয় স্বজনরা। এ সময় বাধা দেয় ছেলে উদয়। উমা রানীর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় বা আদালতে মামলা না করার শর্তে বন্ডসই দিলে লাশের সৎকার করতে পারবে বলে দাবি করেন ছেলে উদয়। বন্ড সই না করলে লাশ সৎকার করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের অপর ছেলে সৌরভ দাস এবং তার বাবা কুলিয়ারচর থানা পুলিশে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ এলে পালিয়ে যায় উদয় দাস। পরে নিহতের স্বামী চন্দন কুমার দাস থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

নিহতের স্বামী চন্দন কুমার দাস জানান, তার পুত্র উদয়ের অত্যাচার-নির্যাতন সইতে না পেরে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। উদয় চন্দ্র দাস অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার মা তার ভাইকে সব সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন। তার বাসায় গিয়ে অপমানিত হয়ে বাড়ি এসে আত্মহত্যা করেছেন। কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সুলতান মাহমুদ জানান, লাশ সৎকারে বাধার বিষয়টি তিনি জানেন না। নিহতের স্বামী ও ছেলেকে রাতে বাড়ি থেকে থানায় এনে স্বামীকে মামলার বাদী করে একটি অপমৃত্যুর মামলা রাজু করা হয়েছে।

নাঈম/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: