প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারিনি এই দায় আমাদেরও: মির্জা ফখরুল

   
প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ, ২ মার্চ ২০২১

মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ গড়ার যে প্রত্যয় ছিল, তা করতে পারিনি। উদার সমাজ বা রাষ্ট্রব্যবস্থা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা সবাই দলাদলী করেছি, বিভক্ত হয়েছি কিন্তু সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারিনি আর এই দায় আমাদের বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ মঙ্গলবার (২ মার্চ) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জিয়া শিশু একাডেমি আয়োজিত জাতীয় শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দলাদলি আর বিভক্তির কারণেই উদার ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হয়েছি, এর দায় কোনভাবেই এড়ানো যাবে না।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার এই ৫০ বছরের আমাদের শিশুদের জন্য কি সত্যিকার অর্থে একটা ভালোবাসার দেশ, একটা প্রেমের দেশ, একটা স্বপ্নের দেশ নির্মাণ করতে পেরেছি? তখন নিজের কাছে একটা ঘৃণা আসে, ধিক্কার আসে যে না আমরা সেটা করতে পারিনি। আমরা আমাদের শিশুদের জন্য সেই আবাসস্থল তৈরি করতে পারিনি যেখানে তারা নিরাপদে গড়ে উঠবে মানুষের মতো। সেখানে সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসা, শান্তিময় একটা জগত তৈরি করা সম্ভব হবে। ‘‘ সকলের কাছে আমার আহবান থাকবে যে, আসুন আমরা সবাই মিলে উদ্যোগ নেই, চেষ্টা করি যে, আমরা আমাদের শিশুদের জন্যে একটা সত্যিকার অর্থেই একটা শান্তিময় নিরাপদ একটা পৃথিবী গড়ে তুলি, একটা জগত গড়ে তুলি। আসুন আমরা সবাই মিলে এই বাংলাদেশটাকে সত্যিকার অর্থেই হাসি-গান আর ফু্লের একটা দেশ বানিয়ে তুলি। এটাই হোক আমাদের লক্ষ্য।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমাদের অনেক বয়স হয়েছে। আমরা কিছু পরে হয়ত পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবো। এই সময়ে কোবিডের মধ্যে আমাদের অনেক বহুগুনী মানুষ চলেও গেছেন।” ‘‘ আমরা দেখে যেতে চাই সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশ শিশুদের জন্যে সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক, সত্যভিত্তিক জগত আমরা তৈরি করতে পেরেছি, আনন্দময়-প্রেমময়। তোমাদের মধ্যেই আমাদের ভবিষ্যত দেখতে পাই।”

তিনি বলেন, ‘‘ বার বার করে আমার মনে হয় যে, শিশুদের জন্য আবাসস্থল না করতে পারায় দায় আমাদের। আমরা যারা এদেশ স্বাধীন করেছিলাম, লড়াই করে যুদ্ধ করে. আমরা যারা কথা দিয়েছিলাম যে, এই দেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব, এই সমাজকে এই রাষ্ট্রকে আমরা সহনশীল, উদার একটা রাষ্ট্র গঠন করবো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য পুরোপুরিভাবে সেটা আমরা করতে পারিনি।”

একাত্তরের স্বাধীনতার স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই বছর আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পুরনের বছর, এই মাসটা স্বাধীনতার মাস। এই মাসে বাংলাদেশের মানুষেরা আমরা নিজেদেরকে মুক্ত করবার জন্যে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠির হাত থেকে, আমরা যুদ্ধে নেমেছিলাম। সত্যিকার অর্থে যুদ্ধ কিন্তু। কোনো খেলা খেলা যুদ্ধ নয়।

‘‘সেই যুদ্ধে ডাক দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যার নামে এই প্রতিষ্ঠান। তিনি ওই সময়ে সেনাবাহিনীর মেজর ছিলেন। তারপরে যুদ্ধ ৯ মাস হয়েছে, বহু মানুষ মারা গেছে, বহু মানুষের ক্ষতি হয়েছে, প্রায় ১ কোটি মানুষ বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলো। এখানে গণহত্যা হয়েছে। সেনা বাহিনীর লোকেরা বহু প্রখ্যাত শিল্পীকে হত্যা করেছে। এখন সময় এসেছে আমাদের যে, এই ৫০ বছরে আমরা কী পেয়েছি আর কি দিয়েছি।”

সংগঠনের নির্বাহী মহাপরিচালক এম হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে এবং মাশুক সিদ্দিকী ও নওশিন রথির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে একাডেমীর পৃষ্ঠপোষক এলবার্ট পি কস্টা, কন্ঠ শিল্পী খুরশীদ আলম, জিনাত রেহানা, সামিনা আখতার সম্পা ও সুলতানা জামান জ্যোস্না বক্তব্য রাখেন।

নাঈম/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: