প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সোহাগ হোসেন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি

এক যুগেও পরিবর্তন হয়নি আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে

   
প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, ২ মার্চ ২০২১

ছবি: প্রতিনিধি

ভোটের দরকার হলেই প্রার্থীরা বারবার আমাদের কাছে আসে, ভোট শেষ নির্বাচিত হলে আর কোন দিন খোঁজ নিতেতে আসে না। আমাদের পাকা রাস্তা নেই, নেই শক্ত মজবুত বাঁধ। ফলে প্লাবিত হয় এই উপকূলের প্রকিটা জনপদে কথাগুলো বলছিলেন সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দীন। এমন অনেক আক্ষেপ এখানকার সকল ভুক্তভোগী জনগণের।

২০০৯ সালের ২৫ মে, মুহুত্বে-ই ভয়াভয় ঘূর্ণিঝড় লন্ডভন্ড করে দেয় উপকুলীয় জনপদ। জলোচ্ছাসে ভেসে যায় সাতক্ষীরা শ্যামনগর, আশাশুনি উপজেলার হাজারো মানুষের বসতবাড়ি। পানির নিচে তলিয়ে যায় কয়েক লক্ষ বিঘার মৎস্য ঘের। তলিয়ে যায় ফসলী আবাদি জমি। ফলে, একদিকে বাড়ী হারা হয়ে যায় হাজারও মানুষ অন্যদিকে, অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু হয়ে যায় উপকুলীয় জনগোষ্ঠী । এ আইলার কবলে পড়ে শুধু সাতক্ষীরা জেলায় শিশুসহ ৭৩ জন নিহত হয়।

তারপরে ধারাবাহিক ভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যের মুখোমুখী হতে হয়েছে উপকূলীয় এই জনপদের প্রতিটা মানুষকে। সর্বশেষে, আয়লার ক্ষত শুকানোর আগেই আম্পানে লন্ডভন্ড করে দিলো উপকূলীয় জনপদকে। ফলে, কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষের বাড়িঘর পানির নিচে পড়ে গেলো। ভেঙ্গে গেলো প্রধান প্রধান বাঁধগুলো। প্লাবিত হলো কয়েক হাজার মাইল এলাকা।

এরপর প্রায় ১ যুগ সময় পার হলেও বিধ্বংসী আয়লার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারিনি ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের বাসিন্দারা। জনমনে হাহাকার এখনো কমেনি এতটুকু। দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের। আইলার ক্ষত শুকিয়ে স্বাভাবিক জীবনে আসার আগে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত হলো উপকূলীয় অঞ্চলের ৯০ ভাগ। উপকূলীয় জনবসতি এলাকার প্রধান প্রধান বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয় আশাশুনি শ্যামনগরে প্রায় সব এলাকা। চরম বিপর্যের মুখে পড়ে তাদের জীবনযাত্রা। হুমকির মুখে পড়ে হাজারো শিশুর জীবন।

এদিকে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সকল এলাকায় নিজ নিজ দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই নির্বাচনী আনন্দ আমেজের মধ্যে দিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনগণ। তাদের আক্ষেপ হল, আইলার পরে দুটো সংসদ নির্বাচন হল। এর মধ্যে দু’টি ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ হলো। সকল প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায় তবে নির্বাচন শেষ হলে কেউ ফিরে দেখে না। এ উপজেলা দুইটি যথাক্রমে সাতক্ষীরা- ৩ ও ৪ আসনের অন্তভূক্ত। এখানকার বর্তমানেও সরকার দলীয় আ.লীগের দুইটি সংসদ সদস্য রয়েছেন। তারপরও এ ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে উন্নয়নের কোন গতি আসিনি আজও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ভোটের সময় হলে সবাই এলাকায় আসেন তবে নির্বাচিত হওয়ার পরে কেউ এলাকার উন্নয়ন করেনা। কখনো তাদের চেহরা দেখাও যায় না।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় জনপদের মুলে রয়েছে কিছু বাঁধ। যে বাঁধগুলো সঠিক নিয়মে কাজ করলে প্লাবিত হওয়ার সম্ভবনা খুব কম। তাছাড়া, এলাকায় সুপেয় পানির ব্যাপক অভাব এখনো পর্যন্ত। এসব দিকে কখনো কোন জনপ্রতিনিধি তাকায় না, তারা শুধু ভোটের সময় হলে বারবার এলাকায় আসে।

অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবী, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের রাস্তাগুলো আজও পুরোপুরিভাবে সংস্কার করা হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহেলার কারনে আজও তাদের দূরভোগ পোহাতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে হাহাকার আজও একটুও কমেনি। দু’মুঠো খেয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত রিতিমত যুদ্ধে করে যেতে হচ্ছে তাদের। থেমে নেই তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

কাওসার/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: