>
   
প্রচ্ছদ / মানবজমিন / বিস্তারিত

করোনার লাল সংকেত!

   
প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, ৭ এপ্রিল ২০২১

আহমেদদেশে একদিনে করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড হয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলমান লকডাউনের মধ্যেই এই রেকর্ড। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৬৬ জন। এর আগে গত বছরের ৩০শে জুন সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ৬৪ জন। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ২১৩ জন। যা একদিনে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত। স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনই সতর্ক না হলে সামনে সংক্রমণ এবং মৃত্যু দু’টিই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিকে সামনের জন্য লাল সংকেত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৫২ জনে। এ পর্যন্ত করোনায় মোট ৯ হাজার ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশে গত বছর ৮ই মার্চ করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার এক বছর পর গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো একদিনে ৫ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্তের খবর আসে। এর মধ্য দিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৯শে মার্চ ৬ লাখ ছাড়িয়ে যায়। তিনদিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়ে যায়। রোববার শনাক্ত হয়েছিল ৭ হাজার ৮৭ জন। গতকাল মঙ্গলবার তা নতুন রেকর্ডে পৌঁছালো। এ নিয়ে টানা তিনদিন ৭ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়লো দেশে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কমেছে। গতকাল হার ছিল ২১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগের দিন সোমবার যা ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার নিয়মিত সরবরাহকৃত তথ্যে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৯৬৯ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট ২২৭টি ল্যাবে ৩৪ হাজার ৩১১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪৮ লাখ ৪৭ হাজার ৯৩৫টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩৯ জন পুরুষ এবং নারী ২৭ জন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়াদের মধ্যে ৭ হাজার ৪৩ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৩৪১ জন নারী। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২ জন বাসায় মারা গেছেন। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। তাদের মধ্যে ৪১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, ৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ৫৪ জন ঢাকা বিভাগের, ৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ২ জন করে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের এবং ১ জন সিলেট বিভাগের।

একদিনে টিকা নিয়েছেন ১৬ হাজার মানুষ: সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরুর ৪৮তম দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১৬ হাজার ১৮১ জন। এর মধ্যে ঢাকায় নিয়েছেন ২ হাজার ৮৮৫ জন। এ পর্যন্ত দেশে মোট টিকা নিয়েছেন ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩১১ জন এবং নারী ২১ লাখ ১০ হাজার ৩৬৪ জন। টিকা নেয়ার পর সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে মোট ৯৩৯ জনের। গতাকল বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকা নিতে অনলাইনে মোট নিবন্ধন করেছেন ৬৯ লাখ ৬০ হাজার ৬২৫ জন। গত ২৭শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে গণটিকাদান শুরু হয় ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: