মোঃ আশরাফুল আলম

বশেমুরবিপ্রবি (BSMRSTU) প্রতিনিধি

শিক্ষকদের আন্দোলনে বন্ধ বশেমুরবিপ্রবির অনলাইন ক্লাস, হতাশায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা

   
প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ণ, ১৫ এপ্রিল ২০২১

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশব্যাপী বন্ধ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেশনজট এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এই সময়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার। কিন্তু আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৬ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা প্রদান করে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সেই সাথে বন্ধ ঘোষণা করা হয় অনলাইন ক্লাস।

তবে শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাস বর্জনের জেরে বশেমুরবিপ্রবির অধিকাংশ শিক্ষার্থী বর্তমানে হতাশা এবং শঙ্কা নিয়ে সময় পার করছেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী শীষ মোহাম্মাদ তানিম জানান, “২০২০ সালেই অনার্স শেষ করার কথা। কিন্তু করোনার কারণে অনেক পিছিয়ে গিয়েছি। এতদিন অনলাইনে ক্লাস চললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আন্দোলন কর্মসূচির কারণে আমাদের শিক্ষকগণ অনলাইন ক্লাস নেওয়া ও বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন তৈরি হয়েছে যে, আমাদের অনেক সহপাঠী পড়াশোনা পুরোপুরি বাদ দিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য কোনো কাজ বেছে নিবে কিনা তা চিন্তা ভাবনা করা শুরু করেছে।”

ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ বলেন, “করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও সরকার কোনভাবেই শিক্ষকদের ১ মাসের বেতনও বন্ধ রাখেনি। এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র আপগ্রেডেশনের জন্য অনলাইন ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত খুব ঘৃণ্য এক সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। ক্লাস না হলে পরীক্ষা হবে না, আমরা বছরের পর বছর সেশনজটে পরে যাব। জীবন থেকে সময় গুলা হারিয়ে যাবে।”

এদিকে শিক্ষার্থীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লেও প্রকৃতপক্ষে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে দাবি করেছেন বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো: কামরুজ্জামান। ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এর আগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেও সমাধান না পেয়ে এধরণের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। তবে এই সিদ্ধান্তের জন্য শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। আন্দোলন শেষে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে বর্তমান ক্ষতি সমন্বয় করা হবে।”

এ সকল বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ.কিউ.এম মাহবুব বলেন, “আপগ্রেডেশনের জন্য রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং প্রয়োজন। আগামী ২৪ এপ্রিল রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং হবে। আমি শিক্ষক সমিতিকে বলেছিলাম ক্লাসে ফিরে যেতে এবং ২৪ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। কিন্তু শিক্ষক সমিতি তাদের সিদ্ধান্তে অনড়।”

এ সময় উপচার্য আরও বলেন, “একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে শিক্ষা প্রদান করা, তাদের উন্নয়নে কাজ করা। কিন্তু যারা নিজেদের দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে তারা আদর্শ শিক্ষক কিনা এ বিষয়ে আমি সন্দিহান”।

নাঈম/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: