মনিরুল ইসলাম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

জুড়ীতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

   
প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ণ, ২০ এপ্রিল ২০২১

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরো ধানের বাম্পার ফলনে উপজেলা জুড়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে বলে জানা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর উপজেলায় ৫৭৭০ হেক্টর বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে হাওরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ৪৯৯৬ হেক্টর। কৃষকরা ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-২৯ ও হাইব্রিড জাতের ধান বেশি আবাদ করেছে। উপজেলায় প্রণোদনা পূর্ণবাসন কর্মসূচির আওতায় ৩০০০ জন কৃষককে হাইব্রিড ধান বীজ দিয়ে সহায়তা করা হয়। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ( কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার মেশিন ) ফসল কর্তন করায় ফসল সংগ্রহে কৃষকদের ব্যাপক সুবিধা হয়েছে। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৫০ ভাগ ফসল কর্তন করা হয়েছে বলে জানা যায়। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে উঠান বৈঠক, মাঠ দিবস, মাঠ স্কুল ও গ্রুপ মিটিং এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গতবারের চেয়ে এবার ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা। উপজেলা কৃষি অফিস এ বছরের বোরো ধান থেকে ২১৯২৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে বলেন লক্ষ্যমাত্রা আশা করেছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বেলাগাঁও, জাঙ্গীরাই, নয়াগ্রাম, শিমুলতলা, খাকটেকা, ভূয়াই, দিগলবাগ সহ হাকালুকি হাওরে গিয়ে দেখা যায় বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এ সময় কৃষকদের ফসল কর্তনে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। ফলন ও ধানের দাম ভালো হওয়ায় কৃষকরা অনেক খুশি বলে জানান।

কৃষকরা আরোও জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গায় গরমে ধান নষ্ট হলেও জুড়ীতে বিশেষ করে হাকালুকি হাওরে ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি। ধানে চিটা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে শেষ সময়ে বৃষ্টি হওয়ার ফলে ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে তারা জানান।

বোরো ধান আবাদকারী কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরো ধান চাষে আমরা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি। এছাড়া এবার ধানের দাম ভালো হওয়ায় আমরা খুব খুশি।

বোরো ধানের আবাদ সম্পর্কে সরেজমিনে মাঠে কথা হয় উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় উপজেলার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আমরা প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বোরো ধানের ফসল কর্তন সরেজমিনে পরিদর্শন করছি। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষকরা তাদের সোনার ফসল সম্পূর্ণ ভাবে ঘরে তুলতে পারবেন।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: