ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

অসহনীয় জীবন থেকে মুক্তি চাওয়া ছেলেটিই আজকের মানবিক তরুন !

   
প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, ২৯ এপ্রিল ২০২১

শিশুটি স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই অভাবের সংসারে ছাড়তে হলো গ্রামের বাড়ি। মাথা গুঁজার ঠাঁই হলো রাজধানী ঢাকায়। শুরু হলো জীবন যুদ্ধ। প্রতিদিন সংবাদপত্র দেখে যে শিশুটি নিজের জীবনটাকে রাঙাতে চায়। করতে চায় পড়াশুনা, কিন্তু এসব মিথ্যে স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবেই বা কে? কিভাবে হবে জয়ী? হ্যাঁ বলছি জীবন যুদ্ধে হার না-মানা এক মানবিক তরুণ ও উদ্যোক্তা সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পারভেজ হাসানের কথা। যিনি প্রতিনিয়ত কাজ করছেন পথ-শিশু, ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষ এবং দেশের সংকটময় মুহূর্তে অসহায় মানুষকে জরুরী সেবা দেওয়ার মত মহৎ কাজ।

জীবনের শুরুতেই অস্তিত্বহীনতা নিয়ে পড়াশোনায় দুর্দান্ত শিশুটি গ্রামের বন্ধুবান্ধব ছেড়ে ঘিঞ্জি পরিবেশ ঢাকায় চলে যেতে হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন পারভেজ। সংকট, দুশ্চিন্তা, অর্থহীন জীবন আর অস্তিত্বহীনতার পথচলা নিয়ে বেচে থেকে কি-ই বা হবে আর! তাই ১২ বছরের শিশুটি আত্মহত্যার মত জঘন্য কাজ করতেও দ্বিধা-বোধ করছে না। পরে যদিও অপর অপরিচিত আরেক পথ-শিশুই পারভেজ হাসানকে পারভেজের জীবনকে অর্থবহ করে তুলার উৎসাহ দিয়ে সেখান থেকে নিয়ে যায়।

আর পারভেজ হাসানের জীবন কাহিনী এবং কর্মজীবন নিয়ে মুঠোফোন একান্ত আলাপ করেন বিডি২৪লাইভের প্রতিবেদক ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ।

বিডি২৪লাইভঃ আসসালামু আলাইকুম, পারভেজ ভাই আপনার জীবন কাহিনী আর কর্মজীবন নিয়ে একটি ফিচার লিখতে চায় বিডি২৪লাইভ, আপনি এবিষয়ে আপনার ব্যক্তি এবং কর্মজীবনের কিছু তথ্য নিতে চাই!

পারভেজ হাসান: জি অবশ্যই।

বিডি২৪লাইভঃ প্রথমে পারভেজ হাসান থেকে মানবিক পারভেজ হয়ে উঠার গল্পটা জানতে চাই! এরপর বলবেন, আপনার ব্যক্তিগত যে এক্টিভিটি আমরা দেখেছি, তা হলো আপনি পথ-শিশুসহ দেশের সংকটময় মুহূর্তে কাজ করেছেন, এটি আসলে কেন করছেন?

পারভেজ হাসানঃ জি অনেক ধন্যবাদ, সবুজ ভাই আসলে আমার জীবনের শুরুটা অভাব অনটন আর অস্তিত্বহীনতাকে ধারণ করে। জীবন যুদ্ধটা শুরু করেছিলাম শিশুকাল থেকে। আমার বয়স যখন ৮-১০’এ তখন আমাকে অভাবের সংসারে ছাড়তে হয় নিজগৃহ। তখন রাজধানীর ঢাকায় গিয়ে শুরু করতে হয় অবহেলিত জীবন। কাজ নিতে হয় মামার চায়ের দোকানে বেতন মাসিক পাঁচশত টাকা প্রতিদিন সকাল ছয়টায় উঠতে হতো তারপর সমস্ত কাজ শেষ করে রাত বারোটায় ঘুমাতে হতো। পাশে ছিলোনা কোন বন্ধু বা প্রিয়জন। ইট পাথরের এই শহর যেনো আমাকে পাঁচশত টাকার একটা নোটে কিনে নিয়েছে।

এমন অসহনীয় জীবন থেকে মুক্তি পেতে একদিন চায়ের দোকানের উপরের ব্রিজে উঠে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে থাকা সবুজ নামে এক পথ-শিশু আমাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে তুই কি করছিস? তাকে আমি আমার অর্থহীন জীবনের কথা খুলে বললাম দুঃখগুলো শেয়ার করলাম। তখন তারা তাদের অনিশ্চিত দিশেহারা জীবন সম্পর্কেও আমাকে অবগত করলো। তাদের কারো মা/বাবা নেই, নেই নির্দিষ্ট থাকার জায়গা তাদের মত অসংখ্য সুবিধা-বঞ্চিত শিশুর জীবনের দিকে তাকাতে বললো। আমি বুঝতে চেষ্টা করলাম আসলেই তো, আমার মত অনেক শিশু রয়েছে যাদের থাকার জায়গা নেই। নেই প্রিয়জন তখন আমি বুঝলাম জীবনটা অর্থহীন নয় বরং নিজেকে অর্থবহ করে তুলতে নিতে হয়। আমি তখন সাহস পেলাম। ওরা আমার বন্ধু হলো ইট পাথরের এই শহর আমার ভালো লাগতে শুরু করে।

কিছুদিন যেতেই আমার সাথে ঘটে আরও একটি ঘটনা তৎকালীন সম্প্রচারিত দিগন্ত টেলিভিশনে আমাকে নিয়ে প্রচারিত হয় পথের মানুষ নামে একটি ডকুমেন্টারি ফ্লিম যেখানে তুলে ধরা হয় আমার অসহায়ত্বদের জীবন কাহিনী। পড়াশোনা করার আকুতি। যেই নির্মাতা আমাকে নিয়ে ফিল্মটি বানিয়েছে তিনি আমাকে স্বপ্ন দেখালেন। পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিবেন, আমি স্বপ্ন দেখলাম এবার হয়তো বদলাবে জীবন। দিনের পর দিন আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম। তিন মাস অপেক্ষা করে আমি বুঝলাম এই শহরের মানুষ শুধু কথা দিতেই জানে কেউ কথা রাখেনা। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম। আর কারো জন্য অপেক্ষা করবোনা, ভরসা রাখবো মহান আল্লাহর উপর নিশ্চয়ই তিনি উত্তম ফয়সালা কারী।

এরপর আমার কর্মস্থলের পাশে গল্ফ ক্লাব এবং টেনিস ক্লাব ছিলো, সেখানে সাহেবরা খেলতে আসতো আমি সেখানে বল বয়ের কাজ করার সুযোগ পেলাম। চায়ের দোকানের পাশাপাশি আমি প্রতিদিন একদুই ঘণ্টা করে সময় দিয়ে পঞ্চাশ থেকে একশো টাকা বাড়তি আয়ের সুযোগ পেলাম। এক পর্যায়ে তখন টেনিস ক্লাবে ডেভিস কাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়েরা অংশ নেয়। আমি তাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাই। তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব পরে আমার উপর। যতদিন টুর্নামেন্ট চলে আমার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তারা আমাকে অনেক আদর করে। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরে চলে যাওয়ার আগে খেলোয়াড়েরা আমাকে কিছু অর্থ দিয়ে যায়। এছাড়াও তখন গল্ফ ক্লাবে আমাদের বলবয়দের একটা টুর্নামেন্ট হয় আমি সেখানে খেলার সুযোগ পাই এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীও হই আমার কাছে বেশ কিছু অর্থ চলে আসে। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নেই এবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সেই থেকেই আমার পথচলা শুরু প্রথমে নিজে একটি চায়ের দোকান দেই। তারপর সেখান থেকে আরও একটি চটপটির দোকান, তারপর ফাস্টফুড ব্যবসা ধীরে/ধীরে সময়ের সাথে/সাথে বিভিন্ন ছোট/ছোট ব্যবসাতে জড়িয়ে পড়ি। প্রায় দীর্ঘদিনে আমি হয়ে উঠি একজন উদ্যোক্তা। নিজের জীবনে আর্থিক সচ্ছলতা আসার পরেই আমি চিন্তা করলাম আমিতো বেশ ভালোই আছি তাহলে মানুষের জন্য কেন কিছু করছিনা? সেখান থেকে আমি পথ-শিশু, ছিন্নমূল এবং ভাসমান অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য করার ইচ্ছে বাড়তে থাকলো।

একদিন আমি ধানমন্ডিতে থ্রিডি মাক্সের ক্লাস করতে একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলাম তখন এক মুমূর্ষু রোগীকে বাচাতে তার দুই শিশুর প্রচেষ্টা দেখে এগিয়ে গিয়ে সেই রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করালাম এবং তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনে একটি ভিডিওর মাধ্যমে ফেসবুকে আবেদন করেছিলাম যাতে অসহায় পথ-শিশুর পরিবার এবং তাদের অনিশ্চিত জীবনের একটি সুন্দর পরিবর্তনে রাষ্ট্র এগিয়ে আসে।

আমার সেই ভিডিও দেখে তৎকালীন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন এগিয়ে আসেন। উনি তাদের অসহায়ত্ব গুছানোর দায়িত্ব নেন মাননীয় সরকারের পক্ষ থেকে। তারপর শুরু যাদের খাবার ছিলোনা। ছিলোনা থাকার জায়গা, অনিশ্চিত ছিলো বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলোর পড়াশোনা। তাদের তখন থাকার জায়গা হলো, হলো নিজস্ব বাড়ি, মাছের ঘের পালন করে গবাদি পশু। যেই শিশুদের হাতে ছিলো ভিক্ষার থালা তাদের হাতে উঠলো বই। তারা ফিরে ফেলো তাদের সমস্ত মৌলিক অধিকার। পুরো বিষয়টি এতো সুন্দর সফল ভাবে শেষ করার কারণে তখন সেই ভিডিওগুলো ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলে দেশে। সবাই আমার ভূয়সী প্রশংসা করে তারপর থেকে এরকম মানবিক কাজগুলো প্রতিনিয়ত করার ফলে দেশের মানুষ আমাকে মানবিক পারভেজ আখ্যা দিতে শুরু করে। আমি হয়ে গেলাম মানুষের মানুষ যা হওয়ার স্বপ্ন আমার আগে থেকেই ছিলো।

বিডি২৪লাইভঃ আপনার জীবন স্যাটেলম্যান্ট হওয়ার পর থেকে যে আপনি পথ-শিশু, ভাসমান অসহায় জনগোষ্ঠী এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন এ কাজের অনুপ্রেরণা আসলো কিভাবে?

পারভেজ হাসানঃ আমি যখন জীবনে দ্রুতই কাম-ব্যাক করি তখন আমি অবসর সময় পেলেই দেশ বিদেশি বই যেমন পড়তাম, বিখ্যাত লোকদের জীবনী তাদের সফলতা/ব্যর্থতা আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানার চেষ্টা করতাম৷ গুগল/ইউটিউব থেকে নিত্যনতুন সব কিছু শেখার চেষ্টা করতাম। নিজের অদক্ষতাকে পাকাপোক্ত করতে চেষ্টা করতাম।

মাদার তেরেসা, ডেল কার্নেগী, এলেন মাক্স, জ্যাকমা, বিল গেটসহ বেশ কিছু বিখ্যাত সফল ব্যক্তির জীবনী আমাকে ভিন্নভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। মাদার তেরেসা ও ডেল কার্নেগির লাইফ-স্টাইল এবং তাদের উদারতা আমাকে মানবিক কাজ করতে আরও বেশি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। সেইসাথে ভোগবিলাসই যে জীবনের সবকিছু এটি কিন্তু নয়। অসহায়, সুবিধা-বঞ্চিত আর গরীব জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফুটিয়ে তাদের পাশাপাশি থাকাটায় হলো জীবনের প্রাপ্তি-তৃপ্তি।

বিডি২৪লাইভঃ অসহায় পথ-শিশু, দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর ও গরীব দুস্থদের নিয়ে কাজ করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন নামে একটি নন প্রফিট অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন, এই প্রতিষ্ঠানে কিভাবে ফাইন্যান্স ম্যানেজ করছেন? কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থাই বা আপনাদের পাশে আছে কিনা?

পারভেজ হাসানঃ তিনবছর আগে থেকে আমি বিদেশি একটি সংস্থা বাংলাদেশ ইয়ুথ এসোসিয়েশন অব টেক্সাস (বায়াট) এ কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, এই সংস্থা থেকে যে স্যালারিটা পাই তা থেকে সেভেন্টি পারসেন্ট আমি ফাউন্ডেশনে ফাইন্যান্স করি এবং আমার ব্যক্তিগত ব্যবসা থেকেও ফাইন্যান্স করি। পাশাপাশি আমার যে ফাউন্ডেশন আছে সেটার গভর্নিং বডিতে কিছু সদস্য আছে যারা প্রবাসে বিভিন্ন দেশে থাকে। আমাদের সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনও কানাডিয়ান গভমেন্ট রেজিস্টার অর্গানাইজেশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে পরাই এক বছর হলো। দেশেও আমাদের গভর্নিং বডিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লোক জড়িত যারা অন্তত মানবিক এবং উদার। তা ছাড়াও আমাদের সেচ্ছাসেবীরাও মাঝেমধ্যে এগিয়ে আসেন। মুল কথা হচ্ছে আমরা সবাই মিলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি অসহায় মানুষের জন্য এই কাজগুলো চালিয়ে যেতে।

বিডি২৪লাইভঃ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখতে চাই! আপনি ব্যক্তি জীবনে কি করছেন বর্তমানে?

পারভেজ হাসানঃ আমি ব্যক্তি জীবনে একজন উদ্যোক্তা ছোট/ছোট কিছু ব্যবসার সাথে জড়িত আছি।পাশাপাশি আমি একজন সোশ্যাল ফিল্ম মেকার, বিভিন্ন দেশের সাথে কোলাবোরেশানে কাজ করছি।আর ইউএস বেইসড (বায়াট) নামে একটি সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

বিডি২৪লাইভঃ এখন পর্যন্ত আপনাদের ফাউন্ডেশন অথবা আপনার উদ্যোগে অসহায় মানুষের জন্য কি কি কাজ করেছেন। আপনারা কোন/কোন বিষয় নি অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে?

পারভেজ হাসানঃ আমরা মূলত পথ-শিশু ও সুবিধা-বঞ্চিত শিশুদের জীবন-মান উন্নয়ন, খাদ্য বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করি। আমরা কাজ করি ব্লাড ডোনেশন,অজ্ঞাতনামা রোগী, দেশের যে কোন ক্রাইসিস মোমেন্টে অসহায় মানুষের চাহিদা অনুযায়ী নানান রকম সহযোগিতা নিয়ে পাশে দাঁড়াই।

আমরা আজ-অব্দি যেই কাজগুলো করেছি তা বলে শেষ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তারপরও কিছু উল্লেখ করতে পারি যেমন সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের শুরু থেকে কয়েকশো শিশুর জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসার সুযোগ হয়েছে আমাদের।করোনাভাইরাসের শুরু থেকে লকডাউনে কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়া নিম্ন আয়ের মধ্যবিত্ত ১০ হাজার পরিবারকে ডোর টু ডোর নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার পৌঁছে দিয়েছি, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের শুরু থেকে উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘ একশো দিন পানি বন্দী অসহায় এক লাখ মানুষকে খাদ্য সহয়তা দিয়েছি, সেখানে ৫ হাজার পরিবারকে পৌঁছে দিয়েছি নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার, সুপ্রিয় খাবার পানি। স্যালাইন মেডিসিন, সহো যাবতীয় সুযোগ সুবিধা। ভানবাসী মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত কর‍তে পৌঁছে দিয়েছি কয়েক হাজার স্যানেটারি ন্যাপকিন। ভাসমান হাসির দোকানের মাধ্যমে উপকূলীয় ৩ হাজার শিশুকে দিয়েছি নতুন পোশাক। শিশু খাদ্য থেকে শুরু করে টিউবওয়েল/অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণসহ যা/যা করণীয় টানা একশো দিন তাদের পাশে থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সুযোগ করে দিয়েছি।

তাছাড়া একজন চলছে মাহে রমজান উপলক্ষে ভাসমান রাস্তায় শুয়ে থাকা মানুষের জন্য আমাদের সেহরি প্রজেক্ট যার আওতায় ২০ হাজার মানুষ সেহরি খাওয়ার সুযোগ পাবে। প্রতি ঈদের মত এবারো অসহায় পথ-শিশুদের জন্য চালু হবে আমাদের হাসির দোকান যার মাধ্যমে কয়েক হাজার শিশু পাবে নতুন পোশাক। যাকাত ফান্ড থেকে আমরা এবার উদ্যোগ নিয়েছি একশো অসহায় নারী ও কিশোরীকে স্বাবলম্বী করবো। তাদের কিনে দিবো হাঁস-মুরগী গরু ছাগল সহ সেলাই মেশিন, যাতে করে তারা নিজেরাই সচ্ছল জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পায়। সেইসাথে হাতির-ঝিলে আমাদের একটি স্কুল প্রায়ই রেডি পর্যায়ে আছে যেখানে পড়াশোনার সুযোগ পাবে ১২২ জন সুবিধা-বঞ্চিত শিশু। খাদ্য/চিকিৎসা সহো নানান সুযোগ সুবিধা।আমাদের ইচ্ছে আছে, সেখানে একটা শেল্টার হোম করা।কারণ যাদের মা/বাবা নেই রাস্তায় ঘুমায় এমন বিপদগ্রস্ত শিশুদের আমরা সেখানে প্রয়োজনীয় সমস্ত সুযোগ দিয়ে দেশের সম্পদ হিসাবে গড়ে তুলবো।

বিডি২৪লাইভঃ আপনার লক্ষ্য উদ্দেশ্যটা জানতে চাই!

পারভেজ হাসানঃ আমার লক্ষ হচ্ছে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া। যেখান থেকে আমি আমার দেশ/দেশের মানুষকে পুরো পৃথিবীর সামনে সম্মানিত করতে পারি। দেশের অসহায় মানুষের পাশে থেকে আজীবন তাদের সেবা করতে পারি। এমন কিছু আইডিয়া আমার আছে যা দিয়ে দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। জন্মলগ্নে আমি যেমন বাংলাদেশ পেয়েছি তার থেকে উন্নত বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সোনার বাংলাদেশ গড়ার একজন প্রাউড মেম্বার হতে চাই।

বিডি২৪লাইভঃ সর্বশেষ যে প্রশ্নটি রাখতে চাই! তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের নিয়ে আপনার বার্তা কি থাকবে?

পারভেজ হাসানঃ তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের নিয়ে যেটি বলবো তা হলো, যে মানুষ সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করে দিনশেষে সেই মানুষটাই সফল হয়ে বাড়ি ফিরে। সৎ এবং উদ্যোমী সাহস নিয়ে জীবনের শত বাধাবিঘ্ন টপকিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এবং মানব কল্যাণে কাজ করতে হবে। সব সময় সৎ থাকো, নির্দিষ্ট কিছু টার্গেট করে এগিয়ে চল। নিজের ভেতর জেদ পুষে রাখো যে জেদ দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল নিয়ে আসবে।

বিডি২৪লাইভঃ অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, এতক্ষণ বিডি২৪লাইভের সাথে থাকার জন্য।

মানবিক পারভেজ হাসানের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে বিডি২৪লাইভের কথা হয় বাংলাদেশ ইয়ুথ এসোসিয়েশন অব টেক্সাসের প্রেসিডেন্ট এস.এম লতিফুর রেজার সাথে, তিনি জানান গেলো ৪-৫ বছর আগে পারভেজ হাসানের একটি ভিডিও পোস্ট দেখে পারভেজকে বায়াটের একজন সদস্য করে নিতে তাকে নিয়ে অনুসন্ধান চালায় বায়াট, পরে পারভেজের সোশ্যাল এক্টিভিটির ভালো রিপোর্ট পেয়ে পারভেজকে বাংলাদেশ থেকে বায়াটের কান্ট্রি ডিরেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ৫ বছরে তার সততা এবং নিষ্ঠা দেখে বায়াট মুগ্ধ। তিনি জানান, পারভেজকে যখন বায়াটের দায়িত্ব দিচ্ছি তখন বাংলাদেশের ভালো ভালো কিছু নন প্রফিট অর্গানাইজেশন আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু সবার আবেদন নাকচ করে দিয়ে পারভেজকেই দায়িত্ব দেই আমরা। কারণ তার ইনোভেটিব আইডিয়া কাজে দক্ষতা, সবকিছু বিবেচনা করে তাকেই আমাদের পারফেক্ট মনে হয়েছে। এবং সে একজন দুর্দান্ত ট্যালেন্টেড তরুণ। তার প্রতিটা মানবিক কাজ নিয়ে আমেরিকাতে কথা হয়। সবাই তার কাজের উপর মুগ্ধ থাকে। আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই পারভেজ বাংলাদেশের জন্য গর্বের কারণ হবে।

দেশ এবং সমাজকে এগিয়ে নিতে পারভেজের যে উদ্যোগ তাতে যাতে বাঁধা না দেওয়া হয় তারজন্য সকলের প্রতি অনুরোধও জানান তিনি।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: