প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হালিশহরে চসিকের ‘চোরাই তেলের সিন্ডিকেট’, গ্রেফতার ২

   
প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ, ৬ মে ২০২১

রবিউল হোসেন রবি, চট্টগ্রাম থেকে: চট্টগ্রামের হালিশহরের আনন্দ বাজার এলাকার সাগর পাড়ের রাস্তার চসিকের ময়লার ডিপো ঘিরে গত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে গড়ে উঠেছিল চোরাই তেলের বাণিজ্যের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যাদের টার্গেট ছিল বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত গাড়ি। সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন চোরাই তেল ‘শওকতের গ্যারেজে’ মজুদ করতো। চোরাই তেল সস্তায় কিনে বেশি দামে পেট্রোল পাম্পসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতো।— এমন খবরের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে চোরাই তেলসহ দুইজনকে আটক করেছে র‍্যাব-৭।

বুধবার (৫ মে) আনন্দবাজার এলাকা থেকে ওই দুজনকে ৩ হাজার লিটার ডিজেলসহ আটক করে র‍্যাব। এসময় জব্দ করা হয় তেল পরিবহনের একটি গাড়িও।

আটককৃতরা হলেন— বন্দর থানার মাইলের মাথা এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. শাহাবউদ্দিন (৩৩) ও একই থানা এলাকার চান্দর পাড়ার আব্দুল আলীমের ছেলে মো. শাহীন (২৯)।

র‍্যাব জানায়, চুরির কাজ আড়ালে চালিয়ে যেতে চক্রটি বেছে নিয়েছিল হালিশহরের আনন্দ বাজার এলাকার সাগর পাড়ের রাস্তাটি। ওই এলাকাতে অবস্থিত চসিকের ময়লার ডিপো ঘিরে গত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে চালিয়ে আসছিল তেল পাচার। ওই চোরাই তেল মজুদ করতে চসিকের ময়লার ডিপোর পাশেই গড়ে তোলা হয়েছিল ‘শওকতের গ্যারেজ’।

চসিকসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চালকদের যোগসাজেশে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলো চক্রটি। যাদের টার্গেট ছিল বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত গাড়িগুলো। তবে টার্গেটের কেন্দ্রবিন্দু ছিল চসিকের গাড়িগুলো। চোরাই তেলের শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ আসতো চসিকের গাড়ি থেকেই। আটক হওয়ার পর এসব স্বীকার করেছে চক্রটির সদস্যরা।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘গ্রেফতার দুজন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অসাধু চালকদের যোগসাজসে অর্ধেক দামে ডিজেল সংগ্রহ করতো। পরে তারা বেশি দামে পেট্রোল পাম্পসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতো তেলগুলো।’

‘আনন্দবাজার এলাকায় যে স্থানে সিটি করপোরেশনের ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়, তার অদূরে সাগর পাড়ে শাহীনের একটি দোকান আছে। সেখানে গিয়ে গাড়ির চালকরা গাড়ি থেকে ডিজেল বিক্রি করে দেয়।’—যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘জব্দকৃত ট্রাকটিতে প্রতি ড্রামে ২০০ লিটার করে ১৫ ড্রামে মোট তিন হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে।

এ ধরনের আরও কয়েকটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে বলেও জানান সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া।

নাঈম/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: