রেদওয়ান শাওন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

যাত্রী-ভাড়া দ্বিগুণ, বিআরটিসিতে নেই নিয়মের বালাই

   
প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ, ১ জুন ২০২১

করোনা মহামারিতে বিধ্বস্ত বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব। দেশে করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কঠোর লকডাউনের পর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী তোলার শর্তে গণপরিবহন চলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। কিন্তু কাগজের সেই নিয়ম বাস্তবে মানছে না খোদ সরকার কর্তৃক পরিচালিত পরিবহন বিআরটিসি!

আজ মঙ্গলবার (১ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীতে সরকার কর্তৃক দেয়া নিয়ম না মেনেই চলছে বিআরটিসি বাস। যাত্রীদের কাছে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেও দেখা যায়নি স্বাস্থ্যবিধির বালাই। বাসটিতে গাদাগাদি করে নেয়া হয়েছে যাত্রী। দ্বিতল এই বাসটির দ্বিতীয় তলায় ওঠার সিঁড়িতেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে নারী ও শিশুদের। এ সময় অধিকাংশ যাত্রীদের মুখে মাস্ক থাকলেও ছিল না সামাজিক দূরত্ব। দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কারণে বাসের মাঝের গলিতে পা ফেলার জায়গা পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীর চিত্র এটি। বাসটি গাবতলি থেকে গুলিস্তানের যাত্রী পরিবহন করে।

বাসে এমন গাদাগাদি করে ওঠার কারণ জানতে চাইলে মুনির আহমেদ নামের একযাত্রী বিডি২৪লাইভকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবো। আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কোনও বাস নেই। যেসব বাস রয়েছে সেগুলো যাত্রী ভর্তি করে আসে। গেট বন্ধ থাকে। আমরা উঠতে পারি না। এখন এই বাসটি পেয়েছি। বাধ্য হয়েই উঠেছি।’

তুষার আহমেদ নামের একযাত্রী জানান, ‘শ্যামলী থেকে নিউ মার্কেট যাওয়ার বাস পাচ্ছিলাম না। শেষে এই বিআরটিসি বাসটি পেয়ে এখানেই উঠে পড়ি। ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা নিয়েও এখানে মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। আমরা ছাত্র মানুষ, সিএনজি কিংবা উবার ভাড়া করে আমাদের গন্তব্যে যাওয়ার সামর্থ্য নাই। তাই এভাবেই যাচ্ছি।’

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিব) বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘গাড়িটির নম্বর নেয়া হলো। সরকার নির্দেশিত নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে গাড়িটি যদি এমন করে থাকে তাহলে আমি কঠোর ব্যবস্থা নিব। আর ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবো।’

এদিকে নগরীতে গণপরিবহনে আসন সংকট দেখা গেলেও নগরীতে চলাচলরত বেসরকারি কোম্পানিগুলোতে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এ কারণে পরিবহনে পর্যাপ্ত আসন না পেয়ে সকালে অফিসগামী মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ফলে উপায় না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়েই স্বাস্থ্যবিধির পরোয়া না করে উঠে পড়ছেন এসকল বাসে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: