প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

জুলফিকার আলী ভূট্টো

নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে নিরাপদ প্রসব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কর্মশালা

   
প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, ১৬ জুন ২০২১

সারাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতা প্রচারাভিযান ২০২১ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ‘মা ও শিশুর সুরক্ষা চাই, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রসব করাই’ এই শ্লোগানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রন, নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতা মূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬জুন) ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলরুমে পায়াকট্  বাংলাদেশ এবং আদ্রিতা ভিজ্যুয়ালের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডোমার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. রায়হান বারীর সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, পাঙ্গামটুকপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল ইসলাম, বোড়াগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিমুন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তপন কুমার রায়, মেডিকেল অফিসার ডা. রুখসানা আফরোজ, ডা. রোকসানা আফরোজ লুনা, পায়াকট, বাংলাদেশ এবং আদ্রিতা ভিজ্যুয়ালের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার জুলফিকার আলম।

মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সারাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বৃদ্ধির সচেতনতামূলক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, মেডিকল অফিসার ডা. রুবিনা আফরোজ।

ডোমার উপজেলার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, প্রচার মাধ্যম /মিডিয়া, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এতে অংশ গ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের বাংলাদেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই দেশে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার পরও এখনো বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ১৪জন মা গর্ভজনিত কারনে মারা যায়। যার বেশির ভাগই সময়মত যথাযথ সেবা ব্যবস্থা নিলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু এখনো বাংলাদেশে শতকরা ৪৬% (MICS ২০১৯) প্রসব বাড়িতে হয়।বর্তমানে দেশে গর্ভকালীন সেবা গ্রহণ হার (কমপক্ষে ৪ বার) ৩৬.৬%।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। শিশুমৃত্যু  প্রতিরোধ ও টিকাদান কর্মসূচী বাস্তবায়নেও অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির অনন্য সাফল্যের জন্য জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ২০১৯ সালে মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনা “ভ্যাকসিন হিরো” সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে শিশুমৃত্যুর হার অনেক কমানো সম্ভব হয়েছে।

এখনো বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত হারের তুলনায় অনেক বেশি(১৬৫/লক্ষ জীবিত জন্ম)। অথচ মাতৃমৃত্যুর উচ্চহার উপযুক্ত গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব ও প্রসবোত্তর সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব। আমাদের দেশের গ্রামের প্রসূতি মায়েদের প্রসবের কাজ (প্রায় ৪৬%) অদক্ষ ও প্রশিক্ষণ বিহীন গ্রাম্য ধাত্রীর দ্বারা অনিরাপদভাবে বাড়িতে সম্পন্ন হয়ে থাকে। ধাত্রীগণ প্রকৃতপক্ষে অনেকেই  ধাত্রীবিদ্যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি থাকে।এই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ  প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবা এবং  প্রসব পরবর্তী সেবা বৃদ্ধি অপরিহার্য। নিরাপদ সন্তান প্রসব নারীর অধিকার। গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য ও  নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার  প্রধান ও প্রমাণিত উপায়  হলো প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবা প্রদান ও গ্রহণ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য কৌশল পত্র ২০১৯-২০৩০ প্রণয়ন করেছেন। বাংলাদেশ ২০১০ সালে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল প্রতি লক্ষ্য জীবিত জন্মে ১৯৪(BMMS ২০১০)। ২০১৯ সালে তা কমে ১৬৫-এ নেমে এসেছে( MICS ২০১৯)  এরপরেও এই হার অনেক বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৭০ বা তার নিচে নামিয়ে আনতে হবে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ (SDGs) অর্জনে এই লক্ষ্যমাত্রা কৌশলপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।২০৩০ সালের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবহার ৫৪% থেকে ৮৫% বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  পাশাপাশি প্রশিক্ষিত দক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে প্রসবহার ৫৯% থেকে বাড়িয়ে ৯০% এ উন্নত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একসাথে কাজ করছে।

একজন সুস্থ মা-ই একটি সুস্থ্য সন্তানের জন্ম দিতে পারেন। মায়ের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী যত্ন। পরিবার ও জনগণের সচেতনতা এবং মানসম্মত স্বাস্থ্য কেন্দ্রই একজন গর্ভবতী মায়ের সেবা নিশ্চিত করতে পারে। এজন্য গর্ভবতী মাকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশে প্রতিবছর ২৮ মে জাতীয় পর্যায়ে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন করা হয়। ২০২১ সালে এই দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় “করোনাকালে গর্ভকালীন সেবা নিন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু রোধ করুন”। বাংলাদেশে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা অত্যান্ত জরুরী। কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনাই হলো নিরাপদ মাতৃত্বের মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমানে কমিউনিটি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, জেলা সদর হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত এনজিও ক্লিনিক  সমুহে নিরাপদ মাতৃত্বসেবা প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

মাতৃমৃত্যুর হার কমানো শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন বেসরকারী পর্যায়ে ও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জনসচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার, বেসরকারী সংস্থা ও গণমাধ্যম সকলের ভূমিকা রয়েছে। নিজ নিজ পেশাগত অবস্থানে থেকেও এই ভুমিকা পালন করা যায়।এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও সদিচ্ছা। মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বাড়াতে কর্মশালায় আগত অংশগ্রহনকারীগন সহায়তা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফরমান/মস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: