মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বিশ দলীয় জোট: কাগজে আছে, কর্মসূচিতে নেই

   
প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, ১৭ জুন ২০২১

ফাইল ফটো

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কার্যত কোনো অস্তিত্বই নেই। অনেকটা নামেই চলছে দেশের বড় এ জোট। চাঞ্চল্য হারিয়ে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। সভা-সমাবেশ তো দূরের কথা, এক সাথে বসার চিত্রও হারিয়ে গেছে। যে যার মতো করে চলছে।

সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন। অপর দিকে বিএনপির একলা চলো নীতির কারণে জোটের শরিকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা। বিভিন্ন কর্মসূচি ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব না দেয়ায় শরিকদের কারও কারও ভেতরে রয়েছে চাপা ক্ষোভ।

বিশ দলীয় জোটের নেতারা মনে করেন কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ২০ দলীয় জোটকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। এটা জোটের সবচেয়ে বড় শরিক দল বিএনপির অনীহা বা রাজনৈতিক কৌশল মনে করেন তারা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে ২০ দলীয় জোট। এতে মাত্র ছয়টি নিবন্ধিত দল আছে, বাকি দলগুলো অ-নিবন্ধিত। অধিকাংশ দল চলছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

জানতে চাইলে ২০ দলের অন্যতম শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি– জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বিডি২৪লাইভকে বলেন, কোভিড পরিস্থিতির কারণে আমাদের সভা-সমাবেশ কিছুটা কম হচ্ছে। কভিড পরিস্থিতি পাশাপাশি ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) শরীরটা খারাপ এসব কারণে সব কিছু সীমিত পরিসরে হচ্ছে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘বিশ দলীয় জোট জাতির ক্রান্তি কালে গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য গঠন করা হয়েছিলো। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়নি, ভোটাধিকারও আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। যার কারনে মনি করি বিশ দলীয় জোটের যে উদ্দেশ্য তা এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম বিশ দলীয় জোট ঐক্যফ্রন্টকে সাথে নিয়ে তাদের যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে সংগ্রাম তা তারা শুরু করবে। কিন্তু জাতির এই ক্রান্তি কালেও জোটকে সক্রিয় করা বা জোটকে সামনে নিয়ে সামনে আগানোর মতো ওরকম কিছু দেখা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, আমি মনে করি বিএনপি তাদের দল ও জোটকে আরও সক্রিয় করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে। পাশাপাশি বিশ দলীয় জোটের থানা, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আরও কি ভাবে সক্রিয় করা যায় সেই প্রচেষ্টা চালাবে।

বিশ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘২০ দলীয় জোট কার্যত অচল। বেশকিছু দিন হয়ে গেল কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ২০ দলীয় জোটকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। এটা জোটের সবচেয়ে বড় শরিক দল বিএনপির অনীহা বা রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। কিন্তু বিএনপির একলা চলো নীতি বর্তমানে তেমন কোনো দৃশ্যমান সফলতা অর্জন করেছে বলেও আমি মনে করছি না। যেখানে আজকে এই জালিম শাহীর পতন এর জন্য একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য দরকার সেই জায়গায় আমরা আজকে থমকে আছি। বিএনপি তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং জোটকে কার্যকর করার জন্য কোন পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি বা অদূর ভবিষ্যতেও তাদের জোট নিয়ে কোনো চিন্তা ভাবনা আছে কিনা সে ব্যাপারে আমাদের সাথে কোনো আলাপ-আলোচনা করেননি। দুঃখের বিষয় তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আমার কাছে এটাকে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বা নীতিহীন রাজনীতি বলেই মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে জোটের বৈঠক অতি জরুরী এবং আমাদের যে অভিন্ন লক্ষ সে ব্যাপারে একটি জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

২০ দলীয় জোটের শরীক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘২০ দলীয় জোট এখনো আছে, ভাঙ্গে নি। বিশ দলীয় জোটের শরিকদের নিয়ে যতটা সভা-সমাবেশ হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। জোটের শরীক দলগুলো যখন চাইবে তখনই হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটকে সঙ্গে নিয়ে ‘চারদলীয় জোট’ গঠন করেছিল বিএনপি। পরে এইচএম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বেরিয়ে গেলে নাজিউর রহমান মঞ্জুর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) জোটে থেকে যায়। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল চারদলীয় জোট বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ দলীয় জোটে। এরপর পরিধি দাঁড়ায় ২০ দলে।

 

 

শাওন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: