প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

বাতিল হচ্ছে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা!

   
প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ণ, ২০ জুন ২০২১

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ‘বাড়ির কাজ’ দিয়ে মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন শ্রেণিতে তুলে দেয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতির পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে বলেও জানা যায়। এছাড়া এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

এদিকে, আজ রবিবার (২০ জুন) সকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক এ এম মনছুরুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়া হবে না। বাড়ির কাজের মাধ্যমে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আনা সম্ভব হলেও তাদের বার্ষিক পাঠপরিকল্পনার আলোকে পড়ানো হবে। এ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) রতন চন্দ্র পন্ডিত বলেন, আগামী অক্টোম্বরের মধ্যে বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও পিইসি-সমাপনী পরীক্ষা নেয়া হবে। যদি সেটা সম্ভব না হয় তবে গত বছরের মতো অটোপাশ দিতে হবে। এজন্য প্রধামন্ত্রীর কাছে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দিতে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হবে। তাতে অনুমোদন দেয়া হলে গত বছরের মতো পঞ্চম শ্রেণির সকল পরীক্ষার্থীকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে তুলে সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পিইসি বাতিল হলে ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষাও নেয়া হবে না। তবে প্রাথমিকস্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় সিদ্ধান্তটি এখনো নিতে পারেনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একজন কর্মকর্তা জানান, এ ব্যাপারে দু/একদিনের মধ্যে ওই মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। যদি তারা সিদ্ধান্ত জানায় তাহলে এই পরীক্ষাও হবে না।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে সবকিছু বন্ধ আছে। যদিও আমরা বিকল্প পদ্ধতিতে পাঠদান করে যাচ্ছি। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের একদিনের জন্যও সরাসরি ক্লাসে আনতে পারিনি। তাই এবারের পিইসি পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা আমাদের নেই। এ ব্যাপারে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের থেকে আরও জানা গেছে, পরীক্ষা না নেয়া হলেও ছাত্রছাত্রীদের শিখন ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগে থেকেই টেলিভিশন ও বেতারে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে গুগলমিটের মাধ্যমে শিক্ষকদের ক্লাস নিতে বলা হয়েছে। ঘাটতি পূরণের পদক্ষেপে সর্বশেষ যুক্ত করা হয় ‘বাড়ির কাজ’। এ লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে ‘অন্তর্বর্তীকালীন পাঠপরিকল্পনা’। তাতে বিষয়ভিত্তিক বাড়ির কাজ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা হিসাব করে শিক্ষকরা তা ফটোকপি করবেন। এরপর সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তা বুঝিয়ে দিয়ে আসবেন। শিক্ষার্থী অভিভাবকের সহায়তায় বাড়ির কাজ করে রাখবে। পরের সপ্তাহে গিয়ে তা সংগ্রহের পাশাপাশি নতুন কাজ দিয়ে আসবেন। দ্বিতীয় সপ্তাহে গিয়ে সেটা সংগ্রহ করে আবার তৃতীয় বাড়ির কাজ দিয়ে আসবেন। এই পাঠ পরিকল্পনাটি তৈরি করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা নাও হতে পারে। করোনার কারণে এ চার পরীক্ষা গত বছরও নেওয়া হয়নি।

শাওন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: