প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

পাটের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

   
প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, ৯ জুলাই ২০২১

সাজ্জাদুল আলম, জামালপুর থেকে: চলতি বছর খরিপ-১ মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে উপজেলার ৩০ হাজার পাট চাষিদের মুখে হাসি। বিগত মৌসুমগুলোর তুলনায় পাট চাষের জন্যে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ব্যাপক ফলন দেখা যাচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর রোগবালাইও কম দেখা দিয়েছে। ফলে অনেকটা ঝামেলাহীন ভাবে এবং পাট চাষ করছেন এ অঞ্চলের পাট চাষিরা। বংশ পরম্পরায় এ  অঞ্চলের কৃষকেরা যুগ যুগ ধরে পাট চাষ করে এলেও দশ বছর থেকে ভূট্টার ব্যাপক চাষ শুরু হয়। রবি শষ্য ভূট্টা উঠলে ওই জমিতে এ অঞ্চলের কৃষকেরা পাট চাষ করায় এ অঞ্চলে পাটচাষ ব্যাপক বিস্তৃতি  লাভ করে।

উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, এ উপজেলায় চলতি বছর ৫হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেন ৩০ হাজার কৃষক। গত পাঁচ বছরে পাট চাষে শতকরা ৯০ ভাগ কৃষক লাভবান হওয়ায় এ বছর পাট চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগাম পাট বোপন, দেরীতে বন্যা হওয়ায় অন্যান্য বছরে তুলনায় এ বছর পাট চাষ বেশি হবে বলে ধারণা করেছেন কৃষিবিদরা। ¯^ল্প খরচে অধিক ফলন হয় পাট। দেশের পাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাট বিদেশে রপ্তানী করে প্রতিবছর প্রচুর বিদেশী অর্থ উপার্জন করে পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয়।

এ উপজেলার বিস্তিৃর্ণ এলাকার মাটি ও আবহাওয়া বরাবরই পাট চাষের জন্যে উপযোগী। উপজেলার চরাঞ্চলসহ পতিত থাকা বেলে দো-আঁশ মাটি মাঠ জুড়ে পাটের ক্ষেত এখন সবার নজর কাড়ে। দেরীতে বন্যা হওয়ায় পাট গাছ একদিকে যেমন হয়েছে মোটা তেমনি হয়েছে লম্বা। সারা উপজেলায় এখন কৃষকরা ধুমধাম করে পাট কাটা শুরু করেছে। কেউ কাটা পাট পিল দিচ্ছে, কেউ পিল সারিয়ে পানিতে জাঁক দিচ্ছে। আবার কেউ জাঁক দেওয়া পাট ধুয়ে শুকাতে দিচ্ছে। সারা উপজেলা জুড়ে এখন পাট ঘরে তোলার মহোৎসব শুরু হয়েছে।

এ উপজেলা অধিক পাট চাষের এলাকাগুলো হচ্ছে বাহাদুরাবাদ, কান্দিরগ্রাম, নাজিরপুর, পোল্যাকান্দি, খুঠারচর, হাশেমপুর, শেখপাড়া, মাদারেরচর, মদনেরচর, খোলাবাড়ী, সবুজপুর, হাতিভাংগা, লংকারচর, মিতালী, পাথরেরচর, চরআমখাওয়া ও ডাংধরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলন আশা করছেন চাষিরা। বাজারে পাটের মন ২৫০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকা হওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

গত পাঁচ বছরের রেকর্ড অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৩হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করে ৮হাজার ৫০ মেট্রিক টন লক্ষমাত্রার মধ্যে পাট উৎপাদন করেছেন ৯হাজার ১০০ শত মেট্রিক টন, ২০১৬-১৭ মৌসুমে ৩হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করে ৮হাজার ৩২০মেট্রিক টন লক্ষমাত্রার মধ্যে পাট উৎপাদন করেছেন ৯হাজার ৩২০ শত মেট্রিক টন, ২০১৭-১৮ মৌসুমে ৪হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করে ৮হাজার ৭০০মেট্রিক টন লক্ষমাত্রার মধ্যে পাট উৎপাদন করেছেন ৯হাজার ৩৪০ শত মেট্রিক টন, ২০১৮-১৯ মৌসুমে ৪হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করে ৮হাজার ৩০০মেট্রিক টন লক্ষমাত্রার মধ্যে পাট উৎপাদন করেছেন ৯হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ মৌসুমে ৪হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করে ৯হাজার ৪২০মেট্রিক টন লক্ষমাত্রার মধ্যে পাট উৎপাদন করেছেন ১০হাজার ৩০ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে ৫হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করে লক্ষমাত্রা ধর্য্য করা হয়েছে ১১ হাজার মেট্রিক টন।

উপজেলার পাট চাষি মো.আব্দুর রউফ জানান,  গত মৌসুমে তিনি ৯ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। তাতে ব্যয় হয়েছিলো ৭২ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি গড়ে ৭.৫ মন পাট ফলন হওয়া ৬৭ মণ পাট পেয়েছিলেন। যা ২৫০০ টাকা মণ বিক্রয় করে পেয়েছিলেন ১৬৮৫৫০ টাকা। সে বছর তার পাট চাষে উৎপাদন ব্যয় বাদে নীট লাভ হয়েছিলো ৯৬৫৫০ টাকা। চলতি বছর ২০২০-২১ খরিপ ১ মৌসুমে সে চাষ বাড়িয়ে ১১ বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘা প্রতি ফলন গত বছরের তুলনায় বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। পাট চাষে পাট বিক্রির পাশাপাশি পাটকাঠি ( যা জালানী হিসেবে ব্যবহ্রত হয়) বিক্রয় করে খরচের অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, চলতি বছর আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে রয়েছে । প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই। রোগবালাইও একেবারেই কম। অন্যদিকে দেরীতে বন্যা আসায় পাট পরিপক্ক ও লম্বা হয়েছে বলে এ বছর পাটের ফলন বেশি হয়েছে। তা ছাড়া এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের জন্যে উপযোগী। চলতি বছর এ উপজেলায় ৫হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করে ১১ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: