প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মনিরুল ইসলাম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

জুড়ীতে চা বাগানে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি

   
প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, ২৭ জুলাই ২০২১

ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে করোনার প্রকোপ ব্যাপক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় উপজেলায় (কোভিড-১৯) করোনা ভাইরাসে নতুন করে ৩২ জনের মধ্যে ২১ জনের পজিটিভ ফলাফল এসেছে। আক্রান্তের হার ৬৬%। এই ফলাফল টা দেখে সহজেই বুঝা যায় উপজেলায় করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি কতটা বাড়ছে? জুড়ী উপজেলা চা বাগান অধ্যুষিত হওয়ায় এখানে চা- বাগানের চা শ্রমিকদের মাঝে করোনার ঝুঁকি বাড়ছে সবচেয়ে বেশি। করোনা ভাইরাস রোধকল্পে সারাদেশে চলছে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন। এ কঠোর লকডাউনে শিল্প কারখানা বন্ধ থাকলে ও সচল রয়েছে চা শিল্প। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ও মাস্ক ব্যবহার ছাড়াই হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছে চা- বাগানগুলোতে। এতে করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন চা-বাগানের শ্রমিক নেতারা।

উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে ইতিমধ্যে করোনার ঢেউ লাগতে শুরু করেছে। গত একমাসে উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগানের সাধারণ শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলার ধামাই চা-বাগানে ইতিমধ্যে করোনার উপসর্গ নিয়ে দু’জন মারা গেছেন। এ বাগানের দুজন কর্মকর্তা বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে বাগানের বাংলোতে আইসোলেশনে আছেন। সাধারণ শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চা শিল্পের চাকা সচল রাখলেও তাদের সুরক্ষায় বাগান কর্তৃপক্ষের নেই চোখে পড়ার মতো কোনো প্রদক্ষেপ।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ফাঁড়ি বাগান সহ মোট ১৬টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রায় ৮ হাজার চা শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। চা শ্রমিক নেতারা জানান, বেশিরভাগ চা বাগানে সাধারণ চা শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। তারা আরোও বলেন, চা বাগানের সাধারণ শ্রমিকদের রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে চা বাগানগুলোতে ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিতে পারে।

ধামাই চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি যাদব রুদ্র পাল বলেন, গত কয়েকদিনে আমাদের বাগান থেকে দুইবার চা শ্রমিকদের জন্য ফ্রি মাস্ক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাস্ক পড়া ও সামাজিক দুরুত্ব মানার ক্ষেত্রে সাধারণ শ্রমিকদের সচেতনতা কম। না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা শ্রমিক নেতা বলেন, ইতিমধ্যে অনেক বাগানের বড় কর্তারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বাগানের বড় কর্তার যেখানে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন সেখানে সাধারণ চা শ্রমিকরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এখনই সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

বাংলাদেশ চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়ন জুড়ী ভ্যালীর সাধারণ সম্পাদক কমল বুনার্জী বলেন, কঠোর লকডাউনে শিল্প কারখানা বন্ধ থাকলেও তা শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চা শিল্পের চাকা সচল রাখছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত চা বাগানের মালিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিতরণ করা হচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে বিনামূল্যে চা শ্রমিকদের করোনা টেস্ট করাসহ প্রণোদনা দাবি করছি।

আকিজ গ্রুপের ডিজিএম কাজল মাহমুদ মুঠোফোনে (ধামাই, আতিয়াবাগ, সোনারুপা ও বড়লেখার বাহাদুর পুর চা- বাগানের দায়িত্বে থাকা) বলেন, আমি নিজেও কয়েকদিন পূর্বে করোনা পজিটিভ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। বর্তমানে আমার বাগানের দুজন কর্মকর্তা করোনা পজিটিভ হয়ে বাগানের বাংলোতে আইসোলেশনে আছে। করোনার স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা সাধারণ শ্রমিকদের জন্য আমরা ইতিমধ্যে ফ্রী মাস্ক ও সাবান বিতরণ করেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সমরজিৎ সিংহ বলেন, উপজেলার একটি বাগানের একজন ইতিমধ্যে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। বর্তমানে চা-বাগান গুলোতে কয়েকজন আক্রান্ত আছেন। যেহেতু বাগানের চা শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে তাই তাদের সচেতন করতে আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করে যাচ্ছে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: