ড্রাগন চাষে সফল ড. আবুবকর ছিদ্দিক

   
প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, ২৭ জুলাই ২০২১

ছবি: প্রতিনিধি

আল-আমিন, ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) থেকে: ড্রাগন উৎপত্তিগত ভাবে  বিদেশী ফল হলেও এখন বাংলাদেশেও  ফলটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ।দেশের মানুষের তুমুল  চাহিদার বিবেচনায় ও যুগান্তকারী  লাভজনক  ফসল হিসেবে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় ড্রাগন ফল চাষ করে সফল চাষী ও ফলপ্রেমী হিসেবে ভূষিত  হয়েছে ড. আবুবকর ছিদ্দিক  প্রিন্স। তাঁর সৌন্দর্যময় ড্রাগনসহ সমন্বিত কৃষি খামার উপজেলাসহ  আশ -পাশের দর্শনার্থীদের  নজর কেড়েছে।জানাযায়,উপজেলার রাঙ্গামাটি ইউনিয়নের ড. আবু বকর ছিদ্দিক  ২০০৬ সালে এমবিএ অধ্যায়নরত অবস্থায় ভারতের পাঞ্জাবে কিছু সময় থাকাকালীন সেখানের বৈচিত্রময় কৃষি দেখে মূলত কৃষিতে ঝুঁকি নেওয়ার চিন্তা করেন। সেই সুবাদে  সারা দেশ থেকে চারা সংগ্রহ করে  ৭ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিয়ে ২০১৫ সালে ১০০টি পিলারে ড্রাগন বাগান ও সমন্বিত কৃষি খামার গড়েন তিনি।নিজ  বুদ্ধিমত্তায়  পরিচর্যা করে বর্তমানে তাঁর বাগানে ১৫০০ পিলার ড্রাগন গাছ উৎপাদন করেছেন।

২০১৮ সন থেকে বাগানে পুরোপুরি সময় নিয়ে তিনি তার স্বপ্নের বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছেন।  তার নিজের উৎপাদিত পরিক্ষিত জাত থেকে কিছু চারা যেখান থেকে আশ পাশের নতুন বাণিজ্যিক বাগানিরা চারা নিয়ে তারাও কৃষিতে নতুন কিছু করার  স্বপ্ন দেখছেন।ড্রাগন চাষের সাফল্য সমপর্কে ড.আবুবকর ছিদ্দিক জানান, ড্রাগন খুবই সুস্বাদু ও মুখরোচক  একটি ফল। এটি চাষে সুবিধা হলো রোগ-বালাই নাই বলতেই চলে । এছাড়া, চারা লাগানোর এক বছরের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়। তিনি এ মৌসুমে মে মাস থেকে এ পর্যন্ত যে ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন আশা করছেন অচিরেই তিনি লাভের মুখ দেখবেন।

ছিদ্দিক জানান, এ ফল চাষে  অনেকের খরচ কম হলেও আমার খরচ একটু বেশি । কারণ  ড্রাগন চাষে প্রধানত জৈব সার লাগে। আর এক্ষেত্রে আমাকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গোবর  ক্রয় করে তা ব্যবহার করতে হয়। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে তিনি ৫/৭  কেজি ফল পেয়ে থাকেন। ছিদ্দিকের বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করতে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল থেকে ব্যাপারীরা ছুটে আসেন নিয়মিত। এমনকি নিজস্ব পরিবহনযোগেও তিনি  রাজধানীর বিভিন্ন  ফলের আড়ৎে ফল রফতানি করে থাকেন। তবে, ময়মনসিংহ শহরে এই ড্রাগনের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

সেখানকার বিক্রেতা জালাল মিয়া জানান, তিনি ৪০০ টাকা কেজি দরে এখান থেকে ড্রাগন ক্রয় করে নিয়ে যান এবং সাধারণত ৬০০ টাকা এবং কোনো কোনো সময়ে ৬৫০ টাকা কেজিতেও বিক্রি করে থাকেন।রপ্তানি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় এ ফলটি ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড থেকে প্রথম বাংলাদেশে আমদানি করা হলেও এখন পর্যন্ত এর চাষাবাদ ব্যাপক সম্প্রসারণ হয়নি।  বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সফলভাবে চাষ করার জন্য বাউ ড্রাগন ফল-১ সাদা, বাউ ড্রাগন ফল-২ লাল ,পাওয়া যায়। এ ছাড়াও হলুদ ও কালচে লাল জাত রয়েছে। বছরের যেকোনো সময়ে চারা রোপণ করা যায়।

তবে চারা রোপণের মাস খানেক পূর্বে গর্ত তৈরি করে প্রয়োজনীয়  গোবর দেয়া উত্তম।  এক বছরের মধ্যেই ৩০টি পর্যন্ত শাখা তৈরি করতে পারে।  ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের একটি গাছে ৫-২০টি এবং পূর্ণবয়স্ক গাছে বছরে ২৫- ৮০টি ফল পাওয়া যায়। গাছের পূর্ণতা পেতে তিন বছর সময় লাগে। সম্ভাবনাময় এ ফলটির আবাদ বাড়লে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষক ড.আবু বকর ছিদ্দিক। তিনি আরও জানান- কৃষিতে নতুনরা  আসছে যা দেশের জন্য  একটি আশাব্যাঞ্চক তবে এখানে  নিজের শ্রম , ত্যাগ, অর্থ ও ধৈর্যের ব্যাপক পরীক্ষা থাকবে যারা পাশ করবে তারাই ভাল করবে।

ফরমান/মস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: