মোঃ এস হোসেন আকাশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে নতুন শনাক্ত ১২২, করোনা আক্রান্তে মারা গেল দুইজন

   
প্রকাশিত: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, ২৮ জুলাই ২০২১

কিশোরগঞ্জে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটেই চলেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) রাতে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলায় নতুন করে ১২২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন সোমবার (২৬ জুলাই) একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। সর্বশেষ এ রিপোর্টে মোট ৫১৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২২ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। এর বিপরীতে এদিন জেলায় মোট ৮৭ জন সুস্থ হয়েছেন। এছাড়া জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

সর্বশেষ মারা যাওয়া দুইজনই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং দুইজনই পুরুষ। তাদের বয়স যথাক্রমে ৭৭ বছর ও ৭০ বছর। দুইজনই কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৬ জুলাই) মারা গেছেন। ফলে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বর্তমান রোগীর সংখ্যা ৩৩ জন বেড়েছে। আগের দিন সোমবার (২৬ জুলাই) জেলায় করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ২০৪৩ জন। এখন জেলায় বর্তমান রোগীর সংখ্যা মোট ২০৭৬ জন।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাব থেকে গত ১৯ জুলাই, শনিবার (২৪ জুলাই), রোববার (২৫ জুলাই), সোমবার (২৬ জুলাই) ও মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) পাওয়া ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৫৬ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। মোট ৫১৮ জনের নমুনার মধ্যে বাকি ৩৩০ জনের নমুনা বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাব ও রেপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। এতে মোট ৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে সোমবার (২৬ জুলাই) ১২১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।
এছাড়া শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এবং তাড়াইল, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, কুলিয়ারচর, ভৈরব, নিকলী, বাজিতপুর, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২০৯ জনের রেপিড এন্টিজেন টেস্টে ৫৩ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

জেলায় নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া মোট ১২২ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫২ জন শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া বাকি ৭০ জনের মধ্যে তাড়াইল উপজেলায় ৩ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১০ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ৫ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৪ জন, ভৈরব উপজেলায় ৯ জন, নিকলী উপজেলায় ৫ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ১৬ জন, ইটনা উপজেলায় ৬ জন, মিঠামইন উপজেলায় ৬ জন এবং অষ্টগ্রাম উপজেলায় ৬ জন শনাক্ত হয়েছে।

নতুন সুস্থ হওয়া ৮৭ জনের মধ্যে ৩০ জন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার। এছাড়া বাকি ৫৭ জনের মধ্যে কুলিয়ারচর উপজেলায় ২ জন, ভৈরব উপজেলায় ২৭ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ২২ জন এবং মিঠামইন উপজেলায় ৬ জন সুস্থ হয়েছেন।
মোট শনাক্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সব সূচকেই জেলার মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শীর্ষে রয়েছে। কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে বর্তমানে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭৬ জন যাদের মধ্যে ১০ জন আইসিইউতে রয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ২৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
হাসপাতালটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময় পর্যন্ত জেলায় মোট ৮৫৮২ জন শনাক্ত, ৬৩৬৪ জন সুস্থ এবং ১৪২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ২০৭৬ জন। তাদের মধ্যে ৭৭ জন হাসপাতালে ও ১৯৯৯ জন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

বর্তমানে করোনা আক্রান্ত মোট ২০৭৬ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৯০৮ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ১৪৩ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ৩৮ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৬৩ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১৯৬ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ২৮৬ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৫৬ জন, ভৈরব উপজেলায় ১৯২ জন, নিকলী উপজেলায় ২৯ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ৯৬ জন, ইটনা উপজেলায় ৩১ জন, মিঠামইন উপজেলায় ২৪ জন এবং অষ্টগ্রাম উপজেলায় ১৪ জন রয়েছেন।

জেলায় মোট মৃত্যু ১৪২ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫১ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ৬ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ৯ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৫ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ৯ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ৯ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৬ জন, ভৈরব উপজেলায় ২৮ জন, নিকলী উপজেলায় ৭ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ১০ জন, ইটনা উপজেলায় ১ জন এবং মিঠামইন উপজেলায় ১ জন রয়েছেন।

জেলার একমাত্র অষ্টগ্রাম উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোন মৃত্যু নেই। এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৬৬৫ জন কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন। অন্যদিকে গত ৮ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৯ হাজার ৩০৭ জন এ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন। এরপর গত ১৯ জুন থেকে সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ১৯২ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় ৩৪৩৮ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন। এছাড়া সোমবার (২৬ জুলাই) থেকে সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৫৮২ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ২৮৯ জন এ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৮১ হাজার ৯২০ জন কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ৭৮৪১ জন কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান এসব তথ্য কিশোরগঞ্জ নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

ফরমান/মস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: