বজ্রপাতে হতাহত ঠেকাতে সরকারকে আইনি নোটিশ

   
প্রকাশিত: ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, ২৮ জুলাই ২০২১

ছবি : ইন্টারনেট

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। প্রতি বছর শত শত মানুষ ও গবাদি পশু মারা যাচ্ছে বজ্রপাতে। হতাহতের এই সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে হতাহত এড়াতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার।

জানা যায়, দেশে বজ্রপাতে হতাহত ঠেকাতে ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) অধিকার সংস্থা ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ইমেইলের মাধ্যমে এ আইনি নোটিশ দিয়েছে।

নোটিশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিবদের, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, বজ্রপাতে মানুষের হতাহত ঠেকাতে নোটিশপ্রাপ্তরা ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।

নোটিশে আরও বলা হয়, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধা দেশের সবচেয়ে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা। বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা এখন অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন- সাইক্লোন, বন্যা, ভূমিধসে নিহতের সংখ্যার চেয়ে বেশি। সরকার যদিও বজ্রপাতকে ২০১৬ সালে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে ঘোষণা করেছে, তথাপি বজ্রপাতের ফলে হতাহতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

বজ্রপাতে হতাহত এড়াতে পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল ইতোমধ্যে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশেও সমন্বিত পদক্ষেপ নিলে বজ্রপাতের ফলে হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সচেতনতা তৈরি, আগাম সতর্কতামূলক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি, হাওর-বাওর এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বজ্রপাত আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন, পাম গাছ রোপণ, মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ, বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং এবং বজ্রপাত থেকে বাঁচার বিভিন্ন কৌশল লিফলেট আকারে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বিতরণ ইত্যাদি।

এছাড়া বজ্রপাত ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত যেসব যন্ত্রপাতি কিনতে হবে সেসব সরঞ্জামাদি সহজলভ্য করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে নোটিশে অনুরোধ করা হয়েছে। নোটিশে বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ এবং বজ্রপাতে হতাহতের সংখা কমাতে আনুষঙ্গিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: