জামালপুরে রোপা আমন চাষে পানির জন্য হাহাকার

   
প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহ্ণ, ৩০ জুলাই ২০২১

ছবি: প্রতিনিধি

সাজ্জাদুল আলম শাওন, জামালপুর থেকে: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পানির অভাবে কৃষকরা তাদের জমিতে রোপা আমনের চারা লাগাতে পাচ্ছেনা। শ্রাবণের মাঝামাঝি সময়ও বন্যা না হওয়ায় পানি জন্যে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে কৃত্রিমভাবে পানির ব্যবস্থা করে কৃষকরা বীজতলা তৈরী করেছেন। এ উপজেলায় ৪৮৭ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী করেছেন এমনটি জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, লক্ষমাত্রার এক তৃতীয়াংশ জমিতে কৃষকরা রোপা আমানের চারা লাগাতে পেরেছে। দুই তৃতীয়াংশ জমি এখনো পানির অভাবে পতিত পড়ে রয়েছে। ফলে এ মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সময়কে কাজে লাগাতে না পেয়ে কৃষকরা হতাশায় ভোগছেন।

অন্যান্য বছর এ সময়টাতে কৃষকদেরকে জমি তৈরী ও বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপনের কাজে ব্যস্থ থাকতে দেখা গেছে। এ বছর শ্রাবণের মাঝামাঝি সময়েও বন্যা না হওয়ায় একদিকে পানির অভাবে রোপা আমনের চারা লাগাতে পাচ্ছেননা কৃষকরা। অপরদিকে তেমনি পরবর্র্তীতে অদিনে বন্যা হবে ভেবে কৃষকরা জমিতে রোপা আমন লাগাচ্ছেননা। বেড়ে ওঠা পরিপক্কা ও ফলবর্তী রোপা আমন ধানের গাছ বন্যার পানিতে তলিয়ে সমূহ ক্ষতির ভয়ে এ অঞ্চলের কৃষকরা ভীত সন্তপ্ত।

চলতি বছর এ উপজেলায় ৮হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের ফসলের রোগবালাইসহ নানা বিষয়ে পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাকে ২৫টি ব্লকে ভাগ করেছেন। ওইসব ব্লকের অধিনে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে কৃত্রিম উপয়ে স্যালো মেশিনের সাহায্যে পানি সেচ দিয়ে রোপা আমনের চারা লাগানো হয়েছে। সূত্র জানায়, আগামী ২০ আগষ্ট পর্যন্ত রোপা আমনের চারা লাগানো যাবে। সেই সময়ের পর জমিতে রোপা আমনের চারা লাগানো হলে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ফলন হবে না বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন। তবে পানির অভাবে জমিতে রোপা আমানের চাষে ফলনের লক্ষমাত্রা না হওয়ার আশঙ্কাও করছেন কৃষক ও কৃষিবিদগণ।

উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের দপরপাড়া গ্রামের চাষি হাপাল, নেহাল দেওয়ানগঞ্জ নিউজকে বলেন, পানির ওপর নির্ভরশীল রোপা আমন চাষ। এ বছর রোপা আমন চাষের জন্যে এ অঞ্চলে প্রয়োজনমতো বৃষ্টি হচ্ছে না। উঁচু জমিতে বৃষ্টির পরপরই পানি শুকিয়ে যায়। অনেক নিচু জমিতেও একই অবস্থা। পানির অভাবে আমরা স্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে জমি কাঁদা করে রোপা আমনের চারা লাগিয়েছি। পরবর্তীতে অদিনে বন্যা হওয়ার শঙ্কায় অনেকে জমিতে রোপা আমন লাগাতে পাচ্ছেন না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, একদিকে নেই বন্যা আবার অন্যদিকে নেই বৃষ্টি। এ কারণে রোপা আমন চাষে এ অঞ্চলের চাষিরা পিছিয়ে রয়েছে। লাগানোর পর বন্যা হলে ধান গাছ পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের কৃষি বিভাগ থেকে সর্বাত্তক চেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছি। কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দিয়ে আসছি। এ বছর বীজতলা তৈরীর লক্ষমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। রোপা আমন চাষের লক্ষমাত্রা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ফরমান/মস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: