মোঃ এস হোসেন আকাশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে করোনার ভয়াবহ রূপ, একদিনে আক্রান্তের নতুন রেকর্ড

   
প্রকাশিত: ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, ২ আগস্ট ২০২১

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ রোববার (১ আগস্ট) রাতে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলায় নতুন করে ২৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা একদিনে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ শনাক্ত। আগের দিন শনিবার (৩১ জুলাই) ১২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

সর্বশেষ এ রিপোর্টে মোট ৮৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে যা নমুনা পরীক্ষার হিসেবে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। এতে মোট ২৯০ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। এর বিপরীতে এদিন জেলায় মোট ৯৩ জন সুস্থ হয়েছেন।

একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত হওয়ার দিনে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ কেড়ে নিয়েছে পাঁচটি মূল্যবান প্রাণ। জেলায় করোনায় সর্বশেষ মারা যাওয়া পাঁচজনই কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও তিনজন নারী।

মৃতুবরণকারী পাঁচজনের মধ্যে তিনজন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার। তাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ (৬৫) ও (৫০) এবং একজন নারী (৪০)। মারা যাওয়া বাকি দুইজনের মধ্যে কটিয়াদী উপজেলার একজন নারী (৬৫) ও পাকুন্দিয়া উপজেলার একজন নারী (৫০)। ফলে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বর্তমান রোগীর সংখ্যা ১৯২ জন বেড়েছে।

আগের দিন শনিবার (৩১ জুলাই) জেলায় করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ২৩৭৬ জন। এখন জেলায় বর্তমান রোগীর সংখ্যা মোট ২৫৬৮ জন।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাব থেকে গত ২৪ জুলাই, মঙ্গলবার (২৭ জুলাই), বুধবার (২৮ জুলাই), শনিবার (৩১ জুলাই) ও রোববার (১ আগস্ট) পাওয়া ৩৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ১৩৬ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

মোট ৮৬২ জনের নমুনার মধ্যে বাকি ৪৮৬ জনের নমুনা বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাব ও রেপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। এতে মোট ১৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে শনিবার (৩১ জুলাই) ১২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

এছাড়া শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এবং হোসেনপুর, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, কটিয়াদী, কুলিয়ারচর, ভৈরব, বাজিতপুর, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৩৬৩ জনের রেপিড এন্টিজেন টেস্টে ১৪৩ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

জেলায় নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া মোট ২৯০ জনের মধ্যে ভৈরব উপজেলায় সর্বোচ্চ ১০২ জন শনাক্ত হয়েছেন।

এছাড়া বাকি ১৮৮ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৭৪ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ২০ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ৮ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৩ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ৩ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ৩৪ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ১০ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ২৪ জন, ইটনা উপজেলায় ১ জন, মিঠামইন উপজেলায় ৫ জন এবং অষ্টগ্রাম উপজেলায় ৬ জন শনাক্ত হয়েছে।

নতুন সুস্থ হওয়া ৯৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার। এছাড়া বাকি ২৮ জনের মধ্যে কুলিয়ারচর উপজেলার ২ জন ও বাজিতপুর উপজেলার ২৬ জন রয়েছেন। মোট শনাক্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সব সূচকেই জেলার মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শীর্ষে রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে বর্তমানে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১১ জন যাদের মধ্যে ১০ জন আইসিইউতে এবং ১৪ জন এইচডিইউতে রয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৩৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই সময় পর্যন্ত জেলায় মোট ৯৪২৭ জন শনাক্ত, ৬৭০০ জন সুস্থ এবং ১৫৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ২৫৬৮ জন। তাদের মধ্যে ৭৯ জন হাসপাতালে ও ২৪৮৯ জন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

বর্তমানে করোনা আক্রান্ত মোট ২৫৬৮ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৮৬০ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ১৯২ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ৫২ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৩৮ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ২৩৮ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ৩৯৭ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৫৭ জন, ভৈরব উপজেলায় ৪৪৬ জন, নিকলী উপজেলায় ৪২ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ১৪৮ জন, ইটনা উপজেলায় ২৮ জন, মিঠামইন উপজেলায় ২৯ জন এবং অষ্টগ্রাম উপজেলায় ৪১ জন রয়েছেন।

জেলায় মোট মৃত্যু ১৫৯ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫৮ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ৮ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ৯ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৫ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১০ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ১২ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৭ জন, ভৈরব উপজেলায় ২৯ জন, নিকলী উপজেলায় ৭ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ১২ জন, ইটনা উপজেলায় ১ জন এবং মিঠামইন উপজেলায় ১ জন রয়েছেন।

জেলার একমাত্র অষ্টগ্রাম উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোন মৃত্যু নেই।

এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৬৬৫ জন কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন।

অন্যদিকে গত ৮ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৯ হাজার ৩০৭ জন এ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন।

এরপর গত ১৯ জুন থেকে সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৪৭ হাজার ৩৪২ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন।গত ২৪ ঘন্টায় ৪৫৬৫ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন।

এছাড়া গত ২৬ জুলাই থেকে সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৮৫১ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ৪৭ জন এ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন।

এ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৭ হাজার ৮৯৭ জন কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ৬৪১৬ জন কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তুষার/জু.সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: