প্রচ্ছদ / মানবজমিন / বিস্তারিত

পরীমনির জামিনের জন্য নতুন কোনো আবেদন ছিল না

   
প্রকাশিত: ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ, ২২ আগস্ট ২০২১

তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে। শনিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম তাকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন। তবে এদিন পরীমনির আইনজীবীরা কোনো জামিন আবেদন করেননি। শুনানিতে আইনজীবীরা পরীমনির সঙ্গে কথা বলার জন্য বিচারকের কাছে আবেদন করেন। বিচারক এজলাসকক্ষ ত্যাগ করার পর পরীমনির কাছে যান তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত। তখন তাকে দেখে পরীমনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, কেন আমার জামিন আবেদন করলেন না। আমি তো পাগল হয়ে যাবো। আমাকে কী আপনারা পাগল বানাবেন? কথা বলার দরকার নাই, জামিন আবেদন করে জামিন করান।

শুনানি শেষে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সাংবাদিকদের বলেন, পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমরা বারবার বলছি, পরীমনি অসুস্থ, শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
পরীমনি আমাকে বলেছেন, তিনি পাগল হয়ে যাবেন।
আদালত সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটে পরীমনিকে আদালতে হাজির করা হয়। গারদখানায় রাখা হয় তাকে। এরপর মামলা তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে আসামির জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে পালাতে পারেন।

সরজমিন দেখা যায়, বেলা পৌনে ৩টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়। পরীমনির জামিনের জন্য নতুন কোনো আবেদন ছিল না। আসামিপক্ষের আইনজীবী মজিবুর রহমান বলেন, পরীমনি অসুস্থ। তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয় না। কোনো আইনজীবীর সঙ্গে তাকে কথা বলতে দেয়া হয় না। আমরা মামলার বিষয়ে আসামির সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু এ সময় বলেন, আসামির সঙ্গে দেখা করতে দেয়ার বিষয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। যখন আসামি বের হবে তখন ট্রায়াল স্টেজে কথা বললেন। এর আগে পরীমনির সঙ্গে তার নানাকে কথা বলতে দেয়া হয়েছে। এ সময় বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কী কথা বলতে চান? মজিবুর রহমান বলেন, আমরা আইনগত বিষয়ে কথা বলতে চাই। প্রয়োজনে আপনি সিএমএম হাজতখানায় কথা বলার সুযোগ করে দেন। ওখানে তো নিরাপদ জায়গা। বিচারক নথি পর্যালোচনায় আদেশ দেবেন বলে জানান। তবে আসামি পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান। বেলা ৩টা ১৪ মিনিটে একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাকে আদালতের হাজতখানা থেকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ৪ঠা আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে র‌্যাব-১ এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান। গত ৫ই আগস্ট পরীমনির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ। তার আগে ১০ই আগস্ট পরীমনি ও আশরাফুল ইসলাম দীপুর দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস। গত ১৩ই আগস্ট পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এরপর গত ১৯শে আগস্ট পরীমনির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম। শনিবার রিমান্ড শেষে তাকে হাজির করা হয় এবং শুনানি শেষে আদালত পরীমনিকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কাশিমপুর মহিলা কারাগারে। সুত্রঃ মানবজমিন

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: