মোঃ গোলাম রব্বানী

খুলনা প্রতিনিধি

লালশাক চাষে ব্যাপক লাভের আশা কৃষক আবু হানিফের

   
প্রকাশিত: ১০:০৬ অপরাহ্ণ, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছবি: প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলায় এবার কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই অফসিজন দেশীয় জাতের লালশাক চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন বার বার পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষক খর্ণিয়া এলাকার আবু হানিফ মোড়ল। ফুলকপি, শিম, পটল, ওল, বরবটিসহ বিভিন্ন সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা ও পুরস্কার প্রাপ্ত’র পর এবার তিনি অল্প জমিতে কীটনাশক ছাড়াই একই জমিতে একাধিক বার লালশাক উৎপাদন করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক চাষী উৎসাহিত হয়ে এ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ছে। তবে এ অবদান ও উৎসাহ-উদ্দীপনা উপজেলা কৃষি অফিসারের বলে জানিয়েছেন কৃষক আবু হানিফ। সরেজমিনে গিয়ে কৃষক আবু হানিফ ও অন্যান্য চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের খর্ণিয়া গ্রামস্থ মৃত সুলতান মোড়লের ছেলে আবু হানিফ মোড়ল ২০০৩ সালে এইচএসসি পাশ করার পর চাকুরীর সন্ধানে না ঘুরে বাপ-দাদার আদি পেশা কৃষিকাজে জড়িয়ে পড়েন।হানিফ জানান,প্রশিক্ষণ গ্রহন ও কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে পারলে চাকুরীর প্রয়োজন হবে না। এমন আস্থা ও বিশ্বাস মাথায় নিয়ে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে কৃষি কর্মসূচী গ্রহন করেন তিনি।

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় এমনটি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহন ও তৎকালিন কৃষি অফিসের সহায়তায় বিভিন্ন প্রজাতি সবজি চাষে মাত্র ২/৩ বছরের মধ্যেই ব্যাপক সফলতা অর্জন করেন তিনি। এরপর ২০১৩ সালে সবজি উৎপাদন,সরবরাহ ও বাজারজাত করনের উপর ফিলিপাইনে উচ্চতর প্রশিক্ষণ,২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার,২০১৫ সালে সেরা কৃষক হিসেবে এগ্রো এ্যওয়ার্ড ও ২০১৬ সালে শ্রেষ্ঠ সবজি চাষী হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন।

আবু হানিফ জানান,তার ওই ৫০ শতাংশ জমিতে এবছর তিনি কীটনাশক ছাড়াই জৈব সার ব্যবহার করে দেশীয় জাতের লালশাক চাষাবাদ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে একই জমিতে একাধিকবার লালশাক চাষাবাদ করে আসছেন তিনি। এতে প্রতিবার বীজ,সার ও শ্রমিক বাবদ ৬/৭ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লালশাক বিক্রি করে আসছেন। বিশেষ করে বৃষ্টির মৌসুমে জমিটি বীজতলার মত তৈরী করে বীজ বপন করলে কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়না। যেকারনে এক প্রকার বিনা শ্রমেই এ সবজি চাষাবাদ করে ব্যাপক লাভবান হওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোসাদ্কে হোসেন বলেন, একজন কৃষক হিসেবে শতভাগ মনোযোগী হয়ে বিভিন্ন সবজি চাষে আবু হানিফ শুধু সফলতা নয়,ব্যাপক সুনামও অর্জণ করেছে। তিনি উপজেলায় একজন মডেল কৃষক হিসেবে পরিচিতি।

ফরমান/মস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: