প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোঃ আনোয়ার হোসেন আকাশ

রাণীশংকৈল প্রতিনিধি

রাণীশংকৈলে গাছে বেঁধে জামাতা নির্যাতনের ঘটনায় শ্বশুর গ্রেফতার

   
প্রকাশিত: ১২:২০ অপরাহ্ণ, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

অভিভাবকদের অমতে বিয়ে করায় ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোঁর ইউনিয়নের ভাংবাড়ী গ্রামে কাঠাল গাছে বেঁধে জামাতা নাসিরুলকে মারধোরের ঘটনায় শ্বশুর করিমুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রেফতারকৃত করিমুল ইসলাম উপজেলার ভাংবাড়ি বগুড়াপাড়া গ্রামের মৃত আলামতের ছেলে। এরপূর্বে গত শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জামাইকে নির্যাতনের ঘটনায় শ্বাশুড়ি সেলিনা বেগমকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়,ভাংবাড়ি গ্রামের করিমুল ইসলামের মেয়ে কেয়ামুনির সাথে একই এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে নাসিরুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক থেকে ৯ সেপ্টেম্বর তারা পালিয়ে বিয়ে করে। তারা বেশ কিছুদিন তারা ঢাকা নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপন করে।

পরে তাদের বিয়ে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মেয়েকে তার পরিবারের লোকজন ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এদিকে ২০ সেপ্টেম্বর নাসিরুল তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে ভাংবাড়ি এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসলে কেয়ামুনির পরিবারের লোকজন তাকে সেই চায়ের দোকানের একটি বাঁশের খুটিতে হাত পা বেঁধে মারপিট করে। এবং পরে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় অনেকে মিলে নির্যাতন চালায়।

ভাংবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের কাঠাঁল গাছে বেধেঁ জামাতা নাসিরুলকে নির্যাতনের ভিডিও বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের টনক নড়ে। পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে অভিযান চালিয়ে নাসিরুল ইসলামের শ্বাশুড়ি সেলিনা আকতারকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে এবং ছেলের পিতা বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে।

নির্যাতনের শিকার নাসিরুল ইসলাম (২৬) এবং তার ভাই কুদ্দুসকে ওইদিনই দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্হার অবনতি হলে তাদের রংপুর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। নাসিরুলকে অমানবিক নির্যাতন করায় তার অন্ডকোষে আঘাতপ্রাপ্ত হয় বলে জানা গেছে। বর্তমানে সে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাংবাড়ি গ্রামের ২ শতাধিক নারী পুরুষ দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে উপজেলা পরিষদে আসে এবং নির্যাতন মামলার আসামীদের জরুরী ভিত্তিতে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে নির্বাহী অফিসার বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা(এস আই) প্রদীপ বলেন, নাসিরুলকে নির্যাতনের ঘটনায় সকল আসামীকে গ্রেফতার করা হবে। থানা পরিদর্শক (ওসি) এসএম জাহিদ ইকবাল শ্বশুর করিমুল গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আসামীকে ঠাকুরগাঁও থেকে গ্রেফতার করে রাণীশংকৈল থানায় নিয়ে আসা হয়।

ফরমান/মস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: