সব মানুষের প্ল্যাটফর্ম উই আর বাংলাদেশ: খালিদ

   
প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ণ, ৯ অক্টোবর ২০২১

খালিদ সাইফুল্লাহ্

যেকোনো সমস্যায় পরামর্শ ও সহায়তা মেলে ‘উই আর বাংলাদেশ’ (ওয়াব) ফেসবুক গ্রুপে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসন ও পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও গ্রুপটির সঙ্গে যুক্ত আছেন। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ সদস্য রয়েছে ওয়াব গ্রুপের। এই প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে একত্রিত করে এই সামাজিক ও মানবিক প্লাটফর্ম যারা গড়ে তুলেছেন তাঁদের মধ্যে একজন হলেন ওয়াবের সহপ্রতিষ্ঠাতা খালিদ সাইফুল্লাহ্।

ওয়াবের শুরুর গল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে পুলিশ সদস্য এস এম আকবরের মাধ্যমে শুরু হয় গ্রুপটি। পুলিশের ফেইসবুক পেইজ চালানোর সময় তিনি উপলব্ধি করেন যে সমাজের বিভিন্ন মতের ও পেশার মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করাতে পারলে মানুষের উপকারে ফেসবুক একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। সেই পরিকল্পনা থেকেই প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম শুরু হয়। ‘

বিভিন্ন তথ্য, পরামর্শ ও রক্তদাতা খুজে দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার হয়রানির শিকার হলে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ, নিখোঁজ ব্যাক্তিকে খুঁজে পাওয়া, যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যার সমাধানও পাওয়া যায় ওয়াব গ্রুপে। এছাড়া কোনো বিষয়ে সমাধান পেতে দেরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ প্রশাসনের নজরে দেওয়ারও চেষ্টা করেন তাঁরা। প্রতিষ্ঠার তিন বছর না হতেই গ্রুপটির সদস্য সাত লাখ পেরিয়ে গেছে সম্প্রতি।

খালিদ সাইফুল্লাহ্ বলেন, ওয়াব গ্রুপে চিকিৎসক, আইনজীবী থেকে শুরু করে পুলিশ ও প্রশাসনের সব দপ্তরের কর্মকর্তা এবং নানা পেশার মানুষ আছেন। সবার মধ্যে একটা সমন্বয় সাধন করেছি এই গ্রুপের মাধ্যমে। ওয়াবের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম সম্পর্কে খালিদ বলেন, ‘গত তিন বছরে গ্রুপের সদস্যদের মাধ্যমে আমরা প্রায় দুই হাজার ব্যাগের বেশি রক্ত ম্যানেজ করেছি। ১০০ এরও বেশি পরিবারের কর্মসংস্থান এর ব্যাবস্থা করেছি। ওয়াবে পোস্ট করে নিখোঁজ আত্বীয়দের খুঁজে পেয়েছেন প্রচুর ব্যাক্তি, এমনকি ভিন্ন দেশে পরিবারের সদস্যকেও খুজে পেয়েছেন। এছাড়াও র্যাবের সহযোগিতায় অপহৃত বেশ কয়েকজন ব্যাক্তিকে পরিবারের কাছে পৌছে দিয়েছি আমরা। মানবতার দেওয়াল মূলত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ওয়াবের সদস্যদের অনুপ্রেরণায়। করোনাকালীন সময়ে ফেসবুকে সাহায্যের আবেদন দেখে চার শতাধিক পরিবারে খাদ্য সামগ্রী পৌছিয়েছি আমরা। জুন জুলাই মাসেই ৪০ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিকে হুইলচেয়ার দিয়েছি আমরা। গত তিন বছরে ওয়াবের মাধ্যমে যে কত লোক উপকৃত হয়েছেন তা বলে শেষ করা যাবেনা।’

খালিদ আরও বলেন, ‘কোনো ঘটনা বা অনিয়ম দেখলে সাধারনত সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেই দায়িত্ব শেষ বলে মনে করেন অনেকে। আমরা প্রশাসনের সাহায্যে ওইসব অনিয়ম বা ঘটনার সমাধান করে দেখিয়ে দিয়েছি সবাইকে। ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে যে ভাল কাজও করা যায় তা দেখিয়ে দিয়েছে ওয়াব।’ ওয়াবের এত সফলতার পেছনে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্বই গ্রুপের সদস্যদের বলে মনে করেন তিনি। ওয়াবের পাশে থাকায় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

না.হাসান/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: