প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সাহিদুজ্জামান সাহিদ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বিএনপি থেকে আ’লীগে যোগ দিয়েই নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী

   
প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, ২৬ নভেম্বর ২০২১

বিএনপির রাজনীতি থেকে হাতে খড়ি। একসময়ের দাপুটে নেতা, উত্তপ্ত করেছেন রাজনীতির মাঠ। দলও সঠিক মূল্যায়ন করেছে। পেয়েছেন প্রথম সাড়ীর পদ, পদবী। দল পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে থেকে পুনরায় ভোল পাল্টে যুক্ত হয়েছেন সরকারি দল আওয়ামীলীগে। আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতাদের পৃষ্টপোষকতায় দলে ভেড়ার পরপরই তাদের সাধারণ সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন পরিচয়ে এলাকাতে হাল ধরেছে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে। দু বছরের মাথায় প্রার্থী হয়েছেন ইউপি (ইউনিয় পরিষদ) নির্বাচনে। চেয়েছেন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন। দলে নতুনদের এমন উচ্চ বিলাসী আকাঙ্খা দেখে ত্যাগী নেতারা রাজনীতি থেকে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এমনটাই দাবী প্রবীন নেতাদের।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রহী প্রার্থী হিসেবেই প্রচার প্রচারনা শুরু করে। এর পরপরই দলীয়ভাবে তাদের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন তারা সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য জেলার নেতৃবৃন্দরা প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। প্রতিটা ইউনিয়নেই রয়েছে নৌকার বিদ্রহী প্রার্থী। বিশেষ করে ৩টি ইউনিয়নে নব্য আ’লীগে যোগ দেওয়া কর্মীরাও হয়েছেন জোড়ালো বিদ্রহী প্রার্থী। এই তিন প্রার্থীকে নিয়ে চলছে ইউনিয়ন ও জেলাব্যপী আলোচনা-সমালোচনা।

এরা হলেন, বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের এ্যাড. ফারুক আহমেদ ফিলিপ, পুটাইল ইউনিয়নের সোহেব আহাম্মেদ রাজা ও আটিগ্রামের নার্গিস আক্তার (বাচ্চা)।

ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকে প্রার্থী চুরান্ত হবার পর নৌকা প্রত্যাশি সকল প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ না নিতে দলথেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবুও ১০টি ইউনিয়নে মোট ১১জন প্রার্থী আওয়ামীলীগের বিদ্রহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দল এদের বহিস্কার করেছে। এর ভিতর আওয়ামীলীগে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ত্যাগী নেতা কর্মীরাও আছে।

ত্যাগী নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তেমন কোন সমালচনা নেই সাধারণ ভোটারদের মনে। কিন্তু বিএনপি থেকে আসা তিন প্রার্থীকে নিয়ে চলছে ব্যপক আলোচনা-সমালচনা।

বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের বিদ্রহী প্রার্থী ফারুক আহমেদ ফিলিপ পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়্ত্বি পালন করেছেন দীর্ঘদিন। আওয়ামীলীগ দল ক্ষমতায় আসার পর পরই তার রাজনীতিতে ভাটা পরতে শুরু করে। পেশাদারিত্বের কাজে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হয়ে পরেন আইন পেশার সাথে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করে বনে যান বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য। এর পর থেকেই নির্বাচন কেন্দ্রীক প্রচারণা ছড়িয়ে দিতে থাকেন তিনি।

পুটাইল ইউনিয়নের বিদ্রহী প্রার্থী সোয়েব আহমেদ রাজা’র রাজনীতির শুরুটা বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলের হাত ধরে। দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও জোটে না পদ পদবী। যুক্ত হন জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন যুবসংহতি দলের সদর উপজেলার সভাপতি পদে। এর পরপরই সমর্থ হন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক (সাবেক) পদে। করেন মেম্বার নির্বাচন হন বিজয়ী (২০১১-১৫)। পরবর্তি নির্বাচন ২০১৬ সালে বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান মনোনিত হয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এর পরপরই তোরজেরা শুরু করে জেলার নেতৃবৃন্দদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে বনে যান আওয়ামীলীগের ভাতৃপতিম সংগঠন মানিকগঞ্জ সড়ক ও পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি।
আটিগ্রাম ইউনিয়নের বিদ্রহী প্রার্থী নার্গিস আক্তার (বাচ্চা) জেলা মহিলাদলের সাবেক আহবায়ক। এরই বদৌলতে নিজ ইউনিয়ন আটিগ্রামে হয়েছেন দু’বার চেয়ারম্যান (২০০১-০৯)। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আশায় সেরকম সুবিধা করতে পারেননি তিনি। বিএনপির রাজনীতির সাথে দূরত্ব দেখিয়ে যুক্ত হন আটিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সদস্য হিসেবে।

নিবার্চন বিশ্লেষকরা বলছেন দলীয় মার্কা দিয়ে ইউপি নিবার্চন হওয়ায় সংঘাত প্রান্তিক জনগোষ্টির কাছে পৌছে গেছে। সুশাশনের জন্য নাগরিক(সুজন) এর জেলা সম্পাদক ইকবাল হোসেন কচি বলেন, সরকারের উচিৎ ছিল স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করা। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করায় নির্বাচন আজ সংঘাতে রুপ নিয়েছে। যারা নব্য আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছে তাদের কাছ থেকে তারা অর্থ আদায় করেছে আবার যারা নৌকার টিকেট পেয়েছে তাদের কাছ থেকেও তারা অর্থ আদায় করেছে। ফলে অনেক জায়গায় আওয়ামীলীগের যোগ্য প্রার্থীরা নৌকার টিকেট পায় নি। ক্ষোভে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও ত্যাগী নেতাদের দল থেকে বহিস্কার করা হচ্ছে। এটা কোন দলের সুষ্টু বিচার হতে পারে না।

বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের আ’লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী ফারুক আহমেদ ফিলিপ বলেন, বিএনপির সাথে আমার এখন সম্পর্ক নেই। সেটি যদি থেকেও থাকে তাহলে তাদের ৮০ভাগ ভোট আমি পাব। জনগনের ভালোবাসা আছে আমার সাথে। আমি গত চার বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি। এলাকার সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমার সম্পৃক্ততা আছে জনগণ তা জানে। আওয়ামীলীগ-বিএনপি আমার কাছে কোন বিষয় না। জনগণের সেবা করতেই আমি নৌকা প্রতীক চেয়েছিলাম। আমি আশাবাদী সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। নৌকার প্রার্থী ভোট কেটে নির্বাচনে জেতার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পুটাইল ইউনিয়নের আ’লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী সোয়েব আহমেদ রাজা বলেন, আমি একসময় বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত ছিলাম। ২০১৫ সালে বিএপির নির্বাচিত প্রার্থী ছিলাম পুটাইল ইউনিয়নে। আমি পরাজিত হই। এরপরই আমি আওয়ামীলীগে যোগ দেই।
নির্বাচনের জিততেই কি দল পরিবর্তন করে সরকারি দলে সম্পক্ত হওয়া জানতে চাইলে তিনি কৌশলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরবর্তিতে মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করলে পাওয়া যায়নি।

আটিগ্রাম ইউনিয়নের আ’লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী নার্গিস আক্তারের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আব্দস সালাম বলেন, আওয়ামী লীগ তো অর্ধ জলশয় দল নয়। এখানে যে কেউ আসতে পারে। যে কেউ মনোনয়ন চাইতে পারে। এটি দোষের কিছু নয়। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: