বাচার আকুতি ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী শাহ জামালের

   
প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, ১৭ জুন ২০২২

ছবি: প্রতিনিধি

ওমর ফারুক, ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি: মোঃ শাহ জামাল ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের মেধাবী শিক্ষার্থী। গত বছরের ৪ নভেম্বর ২০২১ থেকে কিডনি জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছেন। পরিক্ষা করে জানা যায় তার ২টি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই প্রতি সপ্তাহে শাহ জামালের ২ বার করে ডায়ালাইসিস করতে হয়।

তাছাড়া আগামী ২৬ জুন ২০২২ এর মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন না করতে পারলে তার জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হবে। শাহ জামাল জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫-৭ লক্ষ টাকা প্রয়োজন যা তার পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব।

শাহ জামাল দিনাজপুর জেলার বিরল থানার দৈকতবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুস বাসেদ সরকারের ছেলে। তার বাবা মায়ের ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ের মোট ১০জন সন্তানের সর্ব কনিষ্ঠতম সন্তান তিনি। তার বাবা ছোট সময় মৃত্যু বরন করায় অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে তাকে জীবন পার করতে হয়েছে।

অনেক স্বপ্ন নিয়ে পরিবারের আশা পূরণ করবে বলে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু গত ৪ নভেম্বর কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তার সেই স্বপ্নের পথে আসে বড় বাধা। তাছাড়া ডায়ালাইসিসসহ অন্যন্য খরচ চালাতে গিয়ে তার ভিটে বাড়িসহ সর্বস্ব হারাতে হয়। মায়ের যা কিছু ছিল তা দিয়ে এতো দিন চিকিৎসা করিয়েছে। কিন্তু এখন যদি তার একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা না হয় তাহলে হয়তো শাহ জামালকে বাঁচানো কষ্টকর হয়ে যাবে।

আকাশসম স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা কলেজে। টিউশনি করে নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পড়ার খরচ জোগাতেন। পড়াশোনা শেষ করে হাল ধরবেন পরিবারের, পরিবার দেখবে সুখের মুখ, এমনটাই আশা ছিল তার মায়ের। কিন্তু কিডনি নামক মরণব্যাধি তার স্বপ্নের আকাশে ঘন মেঘ হয়ে বাসা বেধেছে। কিডনি জনিত মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শাহ জামালের দুইটি কিডনি নষ্ট হয়ে এখন সেন্টার ফর কিডনি ডাইসিয়াসিস ওন্ড ইউরোলজি হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন-মৃতু্যর সন্ধিক্ষণে হয়েছে।

মোঃ শাহ জামাল বলেন, আমার অনেক স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে আমার মায়ের মুখে হাসি ফুটাবো। কারণ আমার মা আমাকে অনেক কষ্ট করে বড় করেছে। বড় পরিবারে সন্তান হওয়ার সকল ভাইয়েরা বিয়ে করে তাদের নিজের মতো জীবন চালাতে লাগলো।

মা ছাড়া আমার পাশে তেমন কাউকে পাইনি। আর আমার চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে মা তার সর্বস্ব হারাতে হয়েছে। এখন কিডনি প্রতিস্থাপনের অপারেশন করার মতো টাকা আমাদের কাছে নেই। তাই সবাই যদি আমার জন্য একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে হয়তো আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করে মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে পারবো।

শাহ জামালের বন্ধুরা বলেন, “আমরা বিভিন্ন মাধ্যম হতে তার চিকিৎসার জন্য টাকার ব্যবস্থা করছি। কিন্তু তাতে হয়তো তার সম্পূর্ণ চিকিৎসা ও কিডনি প্রতিস্থাপনর অপারেশন করা সম্ভব হবে না। তাই সকলকে শাহ জামালের জীবন বাঁচাতে এবং তার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।”

জুয়েলকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার মাধ্যমে জীবনের এই কঠিন সময়টাকে পার করে তাকে আবার সুস্থ ও সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনতে আপনারাও তার পাশে দাঁড়াতে পারেন।

তুহিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: