প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আব্দুল লতিফ রঞ্জু

পাবনা প্রতিনিধি

চাটমোহরে লোডশেডিং শিডিউলের সাথে বিতরনে ব্যাপক তফাৎ

   
প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ, ২১ জুলাই ২০২২

জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং। সরকারের পক্ষ থেকে দিনে এক থেকে দুই ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও চাটমোহর উপজেলা সহ আশপাশের উপজেলায় দিনে রাতে মিলে চার কিংবা তার অধিক ঘন্টা ব্যাপী চলছে লোডশেডিং। এই এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিংয়ের একটি সিডিউল পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ওয়েব সাইডে দেওয়া হলেও তার সাথে বিদ্যুৎ বিতরনে ব্যাপক তফাৎ দেখা যাচ্ছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে যে পরিমান আমরা পাচ্ছি তার সবটুকুই শিডিউল অনুযায়ী বিতরনের চেষ্টা করছি। চাহিদার তুলনায় কম পাওয়ায় শিডিউল অনুযায়ী বিতরন সম্ভব হচ্ছেনা।

চাটমোহর উপজেলা সহ আশপাশের এলাকায় অব্যাহত লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্থ অবস্থায় পড়ে গেছে। দিন রাত সমান তালে চলছে এই লোডশেডিং। এই লোডশেডিংয়ের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছেছে যা গত দশ বছরে এমন পরিস্থিতি কেউ দেখেনি বলে শোনা যাচ্ছে। পৌর শহরের চাইতে গ্রামের অবস্থা আরো বেশি খারাপ বলে জানা গেছে।

তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে হাঁসফাঁস অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিশুরা এবং বয়ঃবৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা সদরে ব্যাবসা বাণিজ্যে সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা। বিদ্যুৎ নির্ভর কলকারখানা গুলোতে বার বার লোডশেডিংয়ে যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোখলেছুর রহমান বিদ্যুৎ বলেন, আমরা জেনেছি এটা একটি জাতীয় সমস্যা। সারা দেশেই এমন পরিস্থিতি চলছে। এমন পরিস্থিতি বেশি দিন চললে আমাদের ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হবে। তাছাড়া সন্ধার পরে ৮টার মধ্যে সকল দোকান পাট, মার্কেট বন্ধ রাখারও নির্দেশ রয়েছে। এক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনছেন।

এ বিষয়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আকমল হোসেন বলেন, দেশে জ্বালানি গ্যাস সংকটের কারনে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওয়াতায় বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে পিক আওয়ার (বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা) ৭৫ মেঘাওয়াট। সেখানে আমরা পাচ্ছি ৫৫ মেঘাওয়াটের মতো। এছাড়া অফপিক আওয়ারে বাকি সময়ে চাহিদা ৫৫ মেঘাওয়াট থাকলেও সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৩০-৩৫ মেঘাওয়াট। এই বিদ্যুৎ দিয়েই এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করে ব্যালেন্স করা হচ্ছে। সকলকে এই জাতীয় সমস্যা ধৈর্য সহকারে মেনে নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরো সাশ্রয়ী হতেও তিনি গ্রাহকদের অনুরোধ জানান।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: