আরিফ জাওয়াদ

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রার্থীদের নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত গণঅনশন চলবে

   
প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, ২২ জুলাই ২০২২

‘সনদ যার, চাকরি তার’ স্লোগান নিয়ে প্যানেলভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করছে প্রার্থীরা। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তাদের গণ অনশন কর্মসূচি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন এসকল সনদধারীরা। নিবন্ধন সনদ পাওয়ার প্রার্থীদের নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে নিবন্ধন পরীক্ষা না নেয়া এবং এমপিওভুক্ত (ইনডেক্সধারী) শিক্ষকদের শূন্যপদে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত গণঅনশন চলবে, বলে জানান অনশনকারীরা।

শুক্রবার (২২ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে গণগ্রন্থাগারের সামনে প্রতিদিনের কর্মসূচির মত তাঁদের গণঅনশন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। কেউ বা গান গেয়ে তাঁদের অধিকার আদায়ের কথাগুলো তুলে ধরছেন।

অনশনকারীরা জানান, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সনদ পেলেও সনদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। ২০১৩ সালের ২০ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে হাইকোর্টের রায়ে ১-১২তম নিবন্ধনকারীদের সনদের মেয়াদ পাঁচ বছর বাক্যটি বিলুপ্ত করে সনদের মেয়াদ আজীবন করা হয়। ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ে পাস হয় নতুন গেজেট। ২০০৬ সালে প্রকাশিত গেজেটের আলোকে পূর্বনিবন্ধিত শিক্ষকদের নিয়োগের কোনো সুরাহা না করে এককভাবে প্রার্থী নির্বাচন করে শূন্য পদে নিয়োগ সুপারিশের উদ্দেশ্যে ১৩তম নিবন্ধন পরীক্ষা নেয় এনটিআরসিএ। যার ফলে একধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

নিয়োগবঞ্চিত ১-১২তমদের কিছু অংশ আদালতের দ্বারস্থ হলে আটকে যায় ১৩তমদের নিয়োগ সুপারিশের কার্যক্রম। এনটিআরসিএ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এর মাঝে সমন্বয়হীনতা আধুনিক সময়োপযোগী একটি শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিকে জটিল থেকে জটিল করে তুলেছে।

অনশনকারীদের দাবি, প্যানেল ভিত্তিতে প্রথম নিবন্ধনধারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ক্রমান্বয়ে সকলকে নিয়োগ দেওয়া হোক। ইতিমধ্যেই দাবিনামা ও স্মারকলিপি শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব ও উপ-সচিবকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্যানেল প্রত্যাশী শিক্ষক সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাদের সরাসরি কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। যাদের বয়স ৩৫ এর বেশি দোষ তো তাদের না। এনটিআরসি নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, এটা তাদের দায়। আমরা চাই প্রথম নিবন্ধনধারীদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক্রমান্বয়ে সকলকে নিয়োগ দেয়া হোক। প্রথম নিবন্ধনধারীকে আগে দেওয়া হোক। কারণ সে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। সনদধারী আছে ৪০ হাজারের মতো কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে ৪ লাখ। কারণ হচ্ছে কারও কারও চার থেকে পাঁচটি সনদ আছে। তারা চার-পাঁচটি করে আবেদন করে। যার ফলে আবেদন কয়েক লক্ষ হয়ে যায়। নিয়ম করা হোক একজন একটার বেশি আবেদন করতে পারবে না। যে স্কুলে আবেদন করবে, সে কলেজে আবেদন করতে পারবে না। যে কলেজে আবেদন করবে সে স্কুলে আবেদন করতে পারবে না। এক আবেদনেই চাকরি নিশ্চিত করা হোক।

উল্লেখ্য, রাজধানীর শাহবাগে গণগ্রন্থাগারের সামনে (৫ জুন) রোববার সকালে থেকে শুরু হয় গণঅনশন। সংগঠনের নেতাদের দাবি—নিবন্ধনধারী চাকরি প্রত্যাশীদের কোটা বিহীন প্যানেলে নিয়োগ দেয়া, চাকরি প্রত্যাশীদের স্ব-স্ব নীতিমালায় নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন পরীক্ষা বন্ধ এবং প্যানেলের অন্তর্ভূক্ত না করে তাদের আলাদা বদলির ব্যবস্থা করতে হবে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: