প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

শাহীন মাহমুদ রাসেল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

আঘাতের বদলা নিতে ছাত্রলীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আটক ২

   
প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, ২৩ জুলাই ২০২২

মাহফিল চলাকালীন একটি বিষয় নিয়ে দুই মহল্লার দুই যুবকের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে এক পক্ষ অন্য পক্ষের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে আহত করে। আঘাতের বদলা নিতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে প্রতিপক্ষের এক যুবককে হত্যা করে তারা। ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার শহরে। গেল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ইমন হাসান (১৮) নামের এক ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে তাদের নাম ঠিকানা জানাতে রাজি হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টায় কক্সবাজার পৌরসভার বড় বাজারের ছালাম মার্কেটের সামনে ওই ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব মোক্তার কুলের বাসিন্দা ও বড় বাজারের খরুলিয়া পলিথিন হাউসের মালিক মো. হাছানের ছেলে। সে ৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক। নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, বছর তিনেক আগে শহরের বইল্ল্যাপাড়ার বায়তুশ শরফ মসজিদের মাহফিল চলাকালীন সময় কথা কাটাকাটির জেরে পৌরসভার পেশকারপাড়ার আবদুল্লাহ খানকে ছুরিকাঘাত করে ইমন ও তার সঙ্গীরা। আর এই ঘটনার বদলা নিতেই বৃহস্পতিবার রাতে ইমনকে প্লাটা ছুরিকাঘাত করে আবদুল্লাহ ও তার কয়েকজন সঙ্গী।

এ বিষয়ে নিহতের পিতা বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আবদুল্লাহ ও তার সঙ্গীরা মিলে তাকে ছুরিকাঘাত করেছে। তিনি আরো বলেন, তিন বছর আগের ঘটনায় আবদুল্লাহ পরিবার মামলা করে। বিষয়টি সামাজিকভাবে তিন লাখ টাকায় মীমাংসা হয়। যার দুই লাখ টাকা ইতিমধ্যে আবদুল্লাহর পরিবারকে দেয়া হয়েছে। বাকি ১ লাখ টাকা আদালত থেকে মামলা নামিয়ে নিলেই দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয় স্থানীয় মুরব্বিরা। সবকিছু সালিশীকারদের সিদ্ধান্ত মতেই হচ্ছিল। মামলা মীমাংসা দিতে আদালতে আবেদনও করে মামলার বাদী। কিন্তু এরই মাঝে বৃহস্পতিবার রাতে আমার ছেলেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আহতাবস্থায় ইমনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর রাতে ইমন মারা যান।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি আগের হামলার বদলা নিতেই ইমনকে হত্যা করা করা হয়েছে। এ হত্যার সাথে আবদুল্লাহ সহ আর যারা জড়িত তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনিরুল গিয়াস বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এঘটনার জড়িত থাকার সন্দেহে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন ঘটনায় সরাসরি জড়িত এমন তথ্য পাওয়া গেলেও অপরজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত আমরা তাদের নাম পরিচয় গোপন রাখছি।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: